নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: এবার ‘মি টু’ আলোড়ন রায়গঞ্জ ব্লক প্রাইমারি হেলথ সেন্টার বা বিপিএইচসিতে। ইতিমধ্যে মহারাজাঘাট এলাকার ওই বিপিএইচসির এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরে অভিযোগ জানিয়েছেন মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীরা। অভিযোগ কম্পিউটারে তথ্য আপলোডের জন্য ওই অপারেটরের কাছে গেলে বিভিন্নভাবে মহিলা কর্মীদের হেনস্তা ও কুকথা বলত। ইচ্ছাকৃতভাবে কোনও কোনও মহিলার গায়েও হাত দেয় ওই অপারেটর। অভিযুক্তের দাবি, ভিত্তিহীন অভিযোগ। পুজোর সময় এক নার্সের ডিউটি রোস্টার পছন্দ না হওয়ার পর থেকে মিথ্যা অভিযোগ করে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুকান্ত বিশ্বাস বলেন, রায়গঞ্জের মহারাজাহাটে ওই বিপিএইচসির কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মীর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন তাঁরা। কমিটি রিপোর্ট দিলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগ, দীর্ঘ সময় বিপিএইচসিতে ডেটা এন্ট্রি অপারেটর (বর্তমান পদ এগজিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট) দেবাশিস দত্ত নার্স, মহিলা গ্রুপ-ডি কর্মী সহ স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। যা নিয়ে বিপিএইচসির মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীরা ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক, রায়গঞ্জের মহকুমা শাসক সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আধিকারিকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। এক নার্সের অভিযোগ, মৌখিক ও মানসিকভাবে দেবাশিস হেনস্তা করেছেন আমাকে। যখন অফিসিয়াল কোনও রিপোর্ট কম্পিউটারে আপলোড করাতে তাঁর ঘরে যাই, তখন অশোভন আচরণ করেন। তাঁর ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ জানানোর পরেও কম্পিউটারে রিপোর্ট আপলোডের কাজ করতে ইচ্ছকৃতভাবে দেরি করেন। এসবের সাক্ষী আমাদের অন্য সহকর্মীরাও। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এক মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীর গায়ে বাজেভাবে হাত দিয়েছেন। অশ্লীল ইঙ্গিত করেও কথা বলেছেন তিনি।
আরও এক স্বাস্থ্যকর্মীর অভিযোগ, দেবাশিসের লাগাতার খারাপ আচরণের জন্য মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীরা অনেকেই নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন। তাই জেলা ও ব্লক স্বাস্থ্য দপ্তরে বিষয়টি জানানো হয়েছে। রায়গঞ্জের মহকুমা শাসকের দ্বারস্থ হই আমরা।
মহকুমা শাসক কিংশুক মাইতি বলেন, আমার দপ্তরে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ এসেছে। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য অনুরোধ করেছি। তাঁরা তদন্ত করছেন বলে শুনেছি।
এদিকে ওই ডেটা এন্ট্রি অপারেটর বলেন, এক নার্সের মিথ্যে অভিযোগের জন্য মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। পুজোর সময় ডিউটি রোস্টার পছন্দ না হওয়ার পর থেকে ওই নার্স মিথ্যা অভিযোগ তুলে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন।
কর্মস্থলে সহকর্মীর দ্বারা বিভিন্নভাবে হেনস্তা নিয়ে ২০১৭ থেকে মি টু আন্দোলন শুরু হয়। যেখানে প্রভাবশালী হেনস্তাকারীদের বিরুদ্ধে সরব হতে থাকেন অনেকে। যা হলিউড, বলিউড, টলিউডে চাঞ্চল্য তৈরি করে। তখন সামনে এসেছিল অনেক মানুষের কুকীর্তি।