নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান ও সংবাদদাতা, কালনা ও কাটোয়া: মঙ্গলবার শক্তিগড়ে বিভিন্ন ল্যাংচার দোকান পরিদর্শন করেন খাদ্যসুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা। স্বাস্থ্যসম্মতভাবে মিষ্টি তৈরি হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়। আধিকারিকদের চোখে তেমন অনিয়ম ধরা পড়েনি। দু’বছর আগে শক্তিগড়ে অভিযান চালিয়ে ফুড সেফটি দপ্তরের আধিকারিকরা কয়েক কুইন্টাল নষ্ট হয়ে যাওয়া ল্যাংচা উদ্ধার করেছিলেন। সেবার দোকানদারদের সতর্ক করা হয়েছিল। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন হোটেল এবং রেস্তরাঁয় অভিযান চালানো হবে। শহরের মিষ্টির দোকানগুলিতেও আধিকারিকরা যাবেন। ভেজাল কোনো কিছু ক্রেতাদের বিক্রি করা যাবে না বলে আধিকারিকরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
এদিন কালনার সবজি বাজার, মিষ্টির দোকান ও হোটেলগুলিতে অভিযান চালানো হয়। উপস্থিত ছিলেন মহকুমা শাসক অহিংসা জৈন, ডেপুটি ম্যাজিস্টেট মনোজ কুমার, খাদ্যসুরক্ষা আধিকারিক সায়ন্তনী রায়চৌধুরী প্রমুখ। এদিন কালনা জিউধারা সবজি মার্কেটে আনাজে রাসায়নিক রং মেশানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখেন অফিসাররা। মিষ্টির দোকানে রং ব্যবহার হচ্ছে কি না তাও দেখা হয়। এদিন এসটিকেকে রোডের ধারে খাবারের হোটেলে অভিযান চালানো হয়। খাবার তৈরিতে মশলার মান, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দিকেও নজর দেন। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পরিবেশনের ব্যাপারে সকলকে সতর্ক করেন মহকুমা শাসক ও অফিসাররা। ধারাবাহিকভাবে অভিযান চলবে বলে জানানো হয়েছে।
কাটোয়া শহরের হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলিতে এদিন অভিযান চালানো হয়। খাবারের গুণগতমান যাচাই করা হয়। অভিযানে ছিলেন কাটোয়া মহকুমা প্রশাসনের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার সহ খাদ্য সুরক্ষা বিভাগের দুই আধিকারিক। প্রথমে তাঁরা শহরের একটি নামী রেস্তোরাঁ কাম হোটেলে উপস্থিত হন। তাঁরা সেখানকার রান্নাঘর পরীক্ষা করেন। মেয়াদ উত্তীর্ণ বেশ কয়েকটি শুকনো খাবারের প্যাকেট তাঁরা পান। সেগুলি ফেলে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। পাশাপাশি এক হোটেল কর্মীকে ধমকও দেন আধিকারিকরা। তারপরেই তাঁরা শহরের একটি মিষ্টির দোকানে হানা দেন। তার দোতলায় তাঁদের একটি রেস্তোরাঁ রয়েছে। সেখানকার খাবারের গুণগত মান যাচাই করেন তাঁরা। ফ্রিজ খুলে বাসি খাবার রয়েছে কি না, তা তাঁরা যাচাই করেন। এদিন দুই ব্যবসায়ীকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।



