Bartaman Logo
১ আগস্ট, ২০২৬

‘ভয় দেখিয়ে জেন জিকে থামাতে পারবেন না’, মোদি-শাহকে হুঁশিয়ারি রাহুলের

‘আপনারা এখন অতীত। এবার ভবিষ্যত্ প্রজন্ম সম্পর্কে সতর্ক হোন।’ শুক্রবার এই ভাষাতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে আক্রমণ করলেন রাহুল গান্ধী।

‘ভয় দেখিয়ে জেন জিকে থামাতে পারবেন না’, মোদি-শাহকে হুঁশিয়ারি রাহুলের
  • ১ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: ‘আপনারা এখন অতীত। এবার ভবিষ্যত্ প্রজন্ম সম্পর্কে সতর্ক হোন।’ শুক্রবার এই ভাষাতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে আক্রমণ করলেন রাহুল গান্ধী। যন্তরমন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন চলাকালীন প্রধানমন্ত্রীকে ‘অপমান’ করেছেন—এই অভিযোগে ২৫ বছরের তরুণীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। সেই পদক্ষেপ নিয়েই সরব হয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। তাঁর অভিযোগ, মামলার ভয় দেখিয়ে মোদি সরকার জেন-জিকে চুপ করিয়ে দিতে চাইছে। এদিন এক্স হ্যান্ডলে রাহুলের হুঁশিয়ারি, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদি ও অমিত শাহ... আপনারা ভয় দেখিয়ে জেন-জিকে চুপ করাতে পারবেন না। আপনারা প্রথমে ওঁদের হাড় ভাঙলেন। এখন আপনারা ওঁদের বিরুদ্ধেই এফআইআর দায়ের করছেন, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিচ্ছেন। আপনারা এখন ভারতের অতীত। তাই ভারতের ভবিষ্যতের প্রতি আপনি কেমন আচরণ করছেন, সে বিষয়ে সতর্ক হোন।’ সিজেপির দেওয়া শর্ত মেনে নিট আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত মামলা তুলে নিয়েছে কেন্দ্র। যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁরাও মুক্তি পেয়েছেন। কিন্তু তারপরও ঘুরপথে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ‘প্রতিহিংসামূলক’ পদক্ষেপ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ লাগাতার উঠছে। অশ্লীল মন্তব্যের অভিযোগে এফআইআর দায়ের হওয়া নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে সিজেপিও। 

Advertisement

ঘটনার সূত্রপাত ২৩ জুলাই। প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে তত্কালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা চেয়ে দিল্লিতে জোরদার আন্দোলন চালাচ্ছেন ছাত্র-যুবরা। আন্দোলনের রেশ ছড়িয়ে পড়ছে দেশের অন্য প্রান্তে। অভিযোগ, ওইদিন যন্তরমন্তরে সিজেপির নেতৃত্বে বিক্ষোভ চলাকালীন প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে অশ্লীল মন্তব্য করেন রুচিকা সিং নামে এক তরুণী। তিনি আদতে নয়ডার বাসিন্দা। গত বুধবার নয়ডার গৌতম বুদ্ধ নগরের এক্সপ্রেসওয়ে থানায় একটি ‘জিরো এফআইআর’ দায়ের করেন গাজিয়াবাদের বাসিন্দা স্মৃতি সিং। ওই এফআইআরে বলা হয়, রুচিকা যে সব মন্তব্য করেছেন, তা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করেছে এবং তা সমাজে বিভেদ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে শান্তি বিঘ্নিত করতে পারে। পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য ওই এফআইআরটি দিল্লি পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। রুচিকার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। তাঁর খোঁজে একাধিকবার বাড়িতেও গিয়েছে নয়ডা ও দিল্লি পুলিশ। তারপরই এই ইস্যুতে সরাসরি ময়দানে নেমেছেন রাহুল। আন্দোলন চলাকালীন ছাত্র-যুবদের উপর দিল্লি পুলিশের নির্বিচারে লাঠিচার্জ, পেলেট গান ব্যবহার নিয়ে প্রথম থেকেই সরব ছিলেন। পুলিশের এমন আচরণের দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ইস্তফাও চেয়েছেন। এবার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের নিয়েও মোদি-শাহকে তীব্র ভাষায় বিঁধলেন রাহুল। তবে রুচিকার মা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই তাঁর মেয়ে এই ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়ে পুলিশকে চিঠি দিয়েছেন। যা ঘটেছে, তার জন্য তাঁরা অত্যন্ত দুঃখিত।
এদিকে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাসের দাবি, ওই তরুণী যদি সত্যিই কোনো অশ্লীল মন্তব্য করে থাকেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা যেতে পারে। কিন্তু তার বদলে ফৌজদারি মামলা করা হচ্ছে। তাঁর মতে, আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়। তবে এমন মন্তব্যের জন্য ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়া বাকস্বাধীনতার উপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে। শুক্রবার এক্স হ্যান্ডলে সৌরভ লেখেন, ‘অশালীন ভাষা ব্যবহারের জন্য ফৌজদারি মামলা হতে পারে না। লোকসভায় ৫০ শতাংশ সাংসদের বিরুদ্ধে এই ধরনের মামলা রয়েছে। তার মধ্যে বিজেপিরই প্রায় ১০০ জন এমপি রয়েছেন। পুলিশ তাঁদের দিকে নজর দিক, ২৫ বছরের এক তরুণীর দিকে নয়। তরুণদের হয়রানি অবিলম্বের বন্ধ হওয়া উচিত। পুলিশ যেন কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার না করে।’ তরুণ প্রজন্মকে শব্দ চয়নের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ