সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: সংসদের দুই কক্ষে ভিন্ন ছবি। ভুয়ো ভোটার কার্ড ইস্যুতে তৃণমূল সদস্যরা রাজ্যসভা উত্তাল করছেন। মল্লিকার্জুন খাড়্গের নেতৃত্বে কংগ্রেস সাংসদরাও তখন সেই লড়াইয়ে শামিল। রাজ্যসভার এই উত্তেজনার ছিটেফোঁটাও নেই লোকসভায়। ভুয়ো ভোটার কার্ড ইস্যুতে সোমবার রাজ্যসভায় আলোচনার দাবি করে নোটিস দিয়েছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন। কিন্তু রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ তা অনুমোদন না করায় প্রতিবাদে সরব হন বিরোধী সাংসদরা। রাজ্যসভা থেকে সরকার বিরোধী স্লোগান তুলে ‘ওয়াক আউট’ করেন তাঁরা। একইভাবে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের রেলের ডিমান্ডস ফর গ্রান্টসের জবাবি ভাষণের সময়ও সরকারকে চাপে রাখল বিরোধীরা।
কিন্তু লোকসভায় শান্তিপূর্ণ, বাধাহীন অধিবেশন চালিয়ে নিল সরকার। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসই যে এখানে ঢিলেঢালা। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীই সভায় অনুপস্থিত। স্রেফ সভায় কেন, তিনি দেশেই নেই। গিয়েছেন ভিয়েতনাম। গত শুক্রবার ১৪ মার্চ ছিল হোলি। তার আগের দিন ১৩ মার্চও নিজেদের জন্য ছুটি আদায় করে নেন সাংসদরা। যেই স্পিকার ওম বিড়লা এবং সরকার সেই ছুটিতে রাজি হয়েছে, সুটকেস হাতে বিদেশ পাড়ি দিয়েছেন রাহুল গান্ধী। এআইসিসি সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১২ তারিখ রাতেই তিনি ভিয়েতনাম পাড়ি দিয়েছেন। সম্ভবত আজ ফিরবেন। পরপর চারদিন সংসদ ছুটিকে ব্যক্তিগত কাজে লাগালেন রাহুল।
রাহুল না থাকলে যাঁর দিকে তাকিয়ে থাকেন কংগ্রেস সাংসদরা, সেই প্রিয়াঙ্কাও এদিন কার্যত সংসদে অনুপস্থিত। তাঁকে সংসদে আসতে দেখা গেল দুপুরে। বেলা আড়াইটে নাগাদ এলেন, লোকসভার খাতায় সই করে বেরিয়ে গেলেন। ফলে কংগ্রেস সাংসদদের মধ্যেও লক্ষ্য করা গেল গাছাড়া মনোভাব। লোকসভায় কংগ্রেসের কোনও ঝাঁঝই নেই। বিরোধী বেঞ্চে কংগ্রেসের অংশ খালি খালি। কংগ্রেসের উপ দলনেতা গৌরর গগৈ প্রশ্নোত্তর পর্বে অসম ইস্যুতে কিছু সওয়াল থাকায় কিছুক্ষণ ছিলেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপালও কেরলের বালি খনি সংক্রান্ত প্রশ্ন সেরে নিজের মতো বেরিয়ে গেলেন। শশী থারুর, মণীশ তিওয়ারিদের মতো সাংসদরাও প্রশ্নোত্তর পর্বে কিছুক্ষণ ছিলেন। সংসদে গোটা কংগ্রেস শিবিরেই যেন ছন্নছাড়া ভাব। সরকারকে চেপে ধরতে গত কয়েকদিনে দলের কোনও স্ট্র্যাটেজি বৈঠকও নেই। রাহুল বা খাড়্গের নেতৃত্বে মোদি বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটেরও কোনও সংসদ সমন্বয় বৈঠকও হচ্ছে না।