Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

হার বাঁচানোর লড়াইয়ে ভরসা রাহুল-গিল

টেস্ট বাঁচানোর কঠিনতম লড়াইয়ে ভারত। ওল্ড ট্রাফোর্ডে সেই লক্ষ্যে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ দেখাচ্ছে লোকেশ রাহুল ও অধিনায়ক শুভমান গিলকে। অবিচ্ছিন্ন তৃতীয় উইকেটে দু’জনে যোগ করেছেন ১৭৪ রান।

হার বাঁচানোর লড়াইয়ে ভরসা রাহুল-গিল
  • ২৭ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ম্যাঞ্চেস্টার: টেস্ট বাঁচানোর কঠিনতম লড়াইয়ে ভারত। ওল্ড ট্রাফোর্ডে সেই লক্ষ্যে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ দেখাচ্ছে লোকেশ রাহুল ও অধিনায়ক শুভমান গিলকে। অবিচ্ছিন্ন তৃতীয় উইকেটে দু’জনে যোগ করেছেন ১৭৪ রান। চতুর্থ দিনের শেষে রাহুলের সংগ্রহ ৮৭। গিল খেলছেন ৭৮ রানে। দুই  উইকেটে স্কোর ১৭৪, শুরুর ধাক্কা কিছুটা সামলেছে ভারত। তবে ইংল্যান্ডের থেকে এখনও ১৩৭ রানে পিছিয়ে টিম ইন্ডিয়া। এই জুটিকে তাই রবিবারও টানতে হবে। 

Advertisement

৩১১ রানের পাহাড়প্রমাণ ঘাটতি নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে শুরুতেই ঝটকা খায় সফরকারী দল। পয়লা ওভারেই আউট যশস্বী জয়সওয়াল ও সাই সুদর্শন। স্কোরবোর্ডে তখনও রান ওঠেনি। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া এই পরিস্থিতি থেকেই লড়াই শুরু রাহুল ও গিলের। দ্বিতীয় ও তৃতীয় সেশনে তাঁরা ক্রমশ হতাশ করে চলেন বিপক্ষ বোলারদের। মুঝড়ে পড়া ভারতীয় ড্রেসিং-রুমকে উজ্জীবিতও করে তোলেন।  পাঁচ টেস্টের অ্যান্ডারসন-তেন্ডুলকর ট্রফিতে ইংল্যান্ড আপাতত ২-১ এগিয়ে। ম্যাঞ্চেস্টারে সিরিজ জিততে মরিয়া ইংল্যান্ড লেগ থিওরি নিয়ে ঝাঁপিয়েও পড়েছিল। কিন্তু গিল-রাহুলের জুটি ভাঙতে পারা যায়নি। গিল ও রাহুলকে অবশ্য সাধনামগ্ন দেখাচ্ছে। ধীরেসুস্থে খেলছেন দু’জনে। ঝুঁকি নিচ্ছেন না। রাহুল তারই মধ্যে গতি বাড়িয়ে গিলকে টপকে গিয়েছেন। শুভমান অবশ্য ইংল্যান্ডে টেস্ট সিরিজে কোনও ভারতীয়ের সর্বাধিক রানের রেকর্ড গড়ে ফেলেছেন। তিনি টপকে গিয়েছেন ২০১৬ সালে বিরাট কোহলির ৬৫৫ রানকে। আপাতত গিলের সংগ্রহ ৬৯৭। কোনও ভারতীয় ক্যাপ্টেনের টেস্ট সিরিজে সর্বাধিক রানের (সুনীল গাভাসকরের ৭৩২ রান) রেকর্ড ভাঙার হাতছানি তাঁর সামনে। তবে রেকর্ড নয়, টেস্ট ড্র করাই তাঁদের পাখির চোখ। রবিবারও দায়িত্ব নিয়ে টানতে হবে রাহুল-গিলকে।  কারণ ঋষভ পন্থ যতই ব্যাট করতে বদ্ধপরিকর হন, তাঁর চোট গুরুতর। 
সকালে ৭ উইকেটে ৫৪৪ নিয়ে শুরু করেছিল ইংল্যান্ড। সেখান থেকে হোমটিম থামে ৬৬৯ রানে। টেস্টে যা তাদের পঞ্চম বৃহত্তম স্কোর। এই মাঠে অবশ্য এটাই বৃহত্তম। ভারতকে ফিল্ডিং করতে হয় দেড়শোরও বেশি ওভার। অংশুল কম্বোজ ও শার্দূল ঠাকুরের উপর ক্যাপ্টেনের অনাস্থা স্পষ্ট। দু’জনে মিলিতভাবে করেন ২৯ ওভার। অথচ, বুমরাহ, সিরাজ, জাদেজারা প্রত্যেকে তিরিশের বেশি ওভার হাত ঘুরিয়েছেন। তাহলে এঁদের খেলানোই বা কেন? দশ নম্বরে নামা ব্রাইডন কার্স পর্যন্ত করে যান ৪৭। বোলারদের কী যে পরিকল্পনা, বোঝা গেল না। বুমরাহকে দেখাল পরিশ্রান্ত। ফিল্ডিং ছড়িয়ে দিয়েও রান আটকানো যায়নি। জাদেজা ৪ উইকেট পেলেও দেন ১৪৩ রান!
ভারতের লক্ষ্য ছিল ইংল্যান্ডের ইনিংসে দ্রুত দাঁড়ি ফেলা। কিন্তু ক্যাপ্টেন বেন স্টোকস বাধা হয়ে উঠলেন। এই টেস্টেই নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। তারপর ব্যাটে পৌঁছলেন তিন অঙ্কের রানে। ৩৫ ইনিংস পর এল সেঞ্চুরি। টেস্টে একই ম্যাচে ৫ উইকেট ও শতরানের কৃতিত্বে তিনি পঞ্চম অধিনায়ক। শেষ পর্যন্ত স্টোকস থামলেন ১৪১ রানে। টেস্টে সাত হাজার রান ও দুশো উইকেটের বিরল নজিরও গড়লেন। এই কীর্তি আছে মাত্র দু’জনের— গ্যারি সোবার্স ও জ্যাক কালিসের।  লম্বা সময় ব্যাট করায় স্টোকস অবশ্য ভারতের দ্বিতীয় ইনিংসে বল করেননি। তবে শেষদিন তিনি হাত ঘোরাবেন বলেই আশাবাদী ইংল্যান্ড।
স্কোরবোর্ড: ভারত প্রথম ইনিংস ৩৫৮। ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংস (৫৪৪-৭ এর পর): স্টোকস ক সুদর্শন বো জাদেজা ১৪১, ডসন বো বুমরাহ ২৬, কার্স ক সিরাজ বো জাদেজা ৪৭, আর্চার অপরাজিত ২, অতিরিক্ত ৩৮, মোট (১৫৭.১ ওভারে) ৬৬৯। উইকেট পতন: ৮-৫৬৩, ৯-৬৫৮, ১০-৬৬৯। বোলিং: বুমরাহ ৩৩-৫-১১২-২, কম্বোজ ১৮-১-৮৯-১, সিরাজ ৩০-৪-১৪০-১, শার্দূল ১১-০-৫৫-০, জাদেজা ৩৭.১-০-১৪৩-৪, সুন্দর ২৮-৪-১০৭-২। ভারত দ্বিতীয় ইনিংস: যশস্বী ক রুট বো ওকস ০, রাহুল ব্যাটিং ৮৭, সুদর্শন ক ব্রুকবো ওকস ০, গিল ব্যাটিং ৭৮, অতিরিক্ত ৯, মোট (৬৩ ওভারে) ১৭৪-২। উইকেট পতন: ১-০, ২-০। বোলিং: ওকস ১৫-৩-৪৮-২, আর্চার ১১-২-৪০-০, কার্স ১০-২-২৯-০, ডসন ২২-৮-৩৬-০, রুট ৫-১-১৭-০। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ