Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

উঠে চলে গেলেন স্পিকার, লোকসভায় লাগাতার কণ্ঠরোধের অভিযোগ রাহুলের

‘অগণতান্ত্রিকভাবে চলছে সংসদ।’ বুধবার এই ভাষাতেই লোকসভায় কণ্ঠরোধের অভিযোগে সরব হলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। বললেন, ‘আমি লোকসভার বিরোধী দলনেতা। আমাকেও বলতে দেওয়া হচ্ছে না।

উঠে চলে গেলেন স্পিকার, লোকসভায় লাগাতার কণ্ঠরোধের অভিযোগ রাহুলের
  • ২৭ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘অগণতান্ত্রিকভাবে চলছে সংসদ।’ বুধবার এই ভাষাতেই লোকসভায় কণ্ঠরোধের অভিযোগে সরব হলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। বললেন, ‘আমি লোকসভার বিরোধী দলনেতা। আমাকেও বলতে দেওয়া হচ্ছে না। গত কয়েকদিন ধরেই সংসদে আমি কিছু বলার চেষ্টা করছি। কিন্তু সুযোগই দেওয়া হচ্ছে না। এ কেমন সংসদ চলছে?’ এদিন আচমকাই নাম না করে বিরোধী দলনেতাকে তাঁর আচরণ সম্পর্কে ‘সতর্ক’ করেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। আর তারপরেই সভা মুলতুবি করে দেন। তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন রাহুল। সংসদ চত্বরে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘সভায় চুপ করে বসেছিলাম। অথচ আমাকে নানা কথা বললেন স্পিকার। পাল্টা আমি কিছু বলার জন্য উঠে দাঁড়াতেই তিনি চলে গেলেন। এটাই এখন নতুন কায়দা হয়েছে। সংসদে বিরোধীদের কোনও জায়গা নেই।’

Advertisement

১০০ দিনের কাজ ইস্যুতে বঞ্চনার অভিযোগ সংসদে ফের একজোট করেছে বিরোধীদের। তাতেই নয়া মাত্রা যোগ করেছে লোকসভার বিরোধী দলনেতাকে কথা বলতে না দেওয়ার ঘটনা। ইতিমধ্যেই সভায় গ্রামোন্নয়ন রাষ্ট্রমন্ত্রী চন্দ্রশেখর পেম্মাসানির বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য পেশ করার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে স্বাধিকারভঙ্গের নোটিসও আনছে  তৃণমূল। বিরোধীরা একজোট হয়ে সরকারের উপর চাপ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের প্রশ্ন, কেন গত ছ’বছর হল লোকসভায় ডেপুটি স্পিকার নেই? কেন বিরোধীরা কিছু বলতে গেলে মন্ত্রীরা চুপ করাতে চান? কেন তুলতে দেওয়া হচ্ছে না সাধারণ মানুষের ইস্যু? যাবতীয় বিষয়ে একজোট হয়ে সোচ্চার হবে ইন্ডিয়া শিবির। এব্যাপারে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে যৌথভাবে চিঠি লেখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এদিন বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য নিজের আসন ছেড়ে তৃণমূলের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে গিয়ে বসেন কংগ্রেসের লোকসভার উপ দলনেতা গৌরব গগৈ। তাঁর সহমত আদায় করেন। ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টি, এনসিপি (এসপি)-র মতো বিরোধীদের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। 
এদিন আচমকাই নাম না করে রাহুল গান্ধীকে ‘সতর্ক’ করেন লোকসভা স্পিকার। ওম বিড়লা বলেন, ‘আশা করব সমস্ত সাংসদ তো বটেই, বিশেষ করে বিরোধী দলনেতা সংসদের বিধি নিয়ম মানবেন। লোকসভার রুল ৩৪৯ সঠিকভাবে পালন করবেন। এই সংসদে পিতা-পুত্রী, মা-বেটি, পতি-পত্নী একই সময়ে সদস্য হয়েছেন, এমন নজির রয়েছে। আমার কাছে এমন কিছু আচরণের খবর এসেছে, যা সংসদের গরিমার সঙ্গে মানানসই নয়। তাই বিরোধী দলনেতাকে বলছি, নিয়ম পালন করুন।’
ঘড়িতে তখন বেলা ১ টা বেজে ১ মিনিট। নিজের বক্তব্য শেষ করেই সভা দুটো পর্যন্ত মুলতুবি করে দেন স্পিকার। রাহুল গান্ধী উঠে দাঁড়ালেও কথা বলার সুযোগ পাননি। তাই প্রতিবাদে সরব হয় কংগ্রেস। গৌরব গগৈ, কে সি বেণুগোপাল, মানিকম ঠাকুর সহ কংগ্রেসের ৭০ সাংসদ স্পিকারের কক্ষে গিয়ে প্রতিবাদ জানান। কোন পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধী দলনেতার আচরণ সম্পর্কে লোকসভার রুল ৩৪৯-এর কথা তিনি উল্লেখ করছেন, জানতে চান। কিন্তু স্পিকার তা খোলসা করেননি। গৌরব গগৈ বলেন, ‘স্পিকারের সঙ্গে কথা বলে আমরা সন্তুষ্ট নই।’ সংসদের অলিন্দে জল্পনা, কয়েকদিন আগে লোকসভায় প্রথম সারিতে নিজের আসনে যাওয়ার আগে চার নম্বর সারিতে বসা বোন প্রিয়াঙ্কার গাল টিপে আদর করেছিলেন রাহুল। সেটিই কি তবে দৃষ্টিকটু মনে হয়েছে স্পিকারের?

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ