নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: ক্যান্সার ইউনিট তৈরি হয়েছিল প্রায় তিন বছর আগে। কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে বসেছিল অত্যাধুনিক মেশিনও। সার্জারি ও কেমোথেরাপির ব্যবস্থা থাকলেও রেডিওথেরাপির ব্যবস্থা এখানে ছিল না এতদিন। ফলে ক্যান্সার ইউনিটটি চলছিল খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। অভিযোগ, টার্সিয়ারি ক্যান্সার কেয়ার সেন্টারের বিল্ডিং কার্যত রেফার ইউনিট হয়ে উঠেছিল। সিংহভাগ রোগীকেই স্থানান্তর করতে হত কলকাতার বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে। এবার এই রেডিওথেরাপি ইউনিট বসতে চলেছে সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজে। তিনটি অত্যাধুনিক মেশিন বসাতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৫২ কোটি টাকা। মাস দুয়েকের মধ্যে এই ইউনিট পুরোপুরি চালু হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তাহলে উত্তর শহরতলির ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের হয়রানি ও দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২৩ সালে সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টার্সিয়ারি ক্যান্সার কেয়ার সেন্টারের উদ্বোধন হয়েছিল। সেখানে মোট ৩০টি বেড ছিল। সার্জারি ও কেমোথেরাপির ব্যবস্থা থাকলেও রেডিওথেরাপির সুযোগ ছিল না। কিছু কিছু রোগীর ক্ষেত্রে তিন ধরনের চিকিৎসাই প্রয়োজন হয়। এতদিন রেডিওথেরাপি ইউনিট না থাকায় বহু রোগীকে কলকাতায় রেফার করা হচ্ছিল। শুধু তাই নয়, বছর খানেক আগে ব্র্যাকিথেরাপির মেশিনে রেডিয়েশন লিকেজ ধরা পড়ে। এতে আতঙ্ক তৈরি হয়। কারণ, এই ইউনিটের অদূরে বসত বাড়ির পাশাপাশি কলেজের প্রশাসনিক ভবন, স্টুডেন্টস হস্টেল ও হাসপাতাল রয়েছে। ফলে ওই ইউনিট কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এরপর লিকেজ সারাই করে নতুন ও আধুনিক পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। সম্প্রতি প্রায় ৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে রেডিওথেরাপির তিনটি আধুনিক মেশিন এসেছে। তারমধ্যে একটি ইতিমধ্যেই বসে গিয়েছে। রেডিওথেরাপির এই ইউনিটের জন্য একজন রেডিয়েশন সেফটি অফিসার ও চারজন রেডিওথেরাপিস্ট নিয়োগ করা হয়েছে এক বছর আগে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, মেশিন বসার পর তা চালু করার অনুমতি চেয়ে অ্যাটমিক এনার্জি রেগুলেটরি বোর্ডের কাছে আবেদন জানানো হবে। সেই অনুমতিপত্র চলে এলেই মাস দুয়েকের মধ্যে নবসাজে ক্যান্সার ইউনিট চালু হবে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম সহ অন্যান্য স্বাস্থ্য আধিকারিকরা এসে হাসপাতাল পরিদর্শন করে গিয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘পজিট্রন এমিশন টমোগ্রাফি (পেট) স্ক্যানের’ মেশিন বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কোথায় সেটি বসানো হবে, সেই জায়গাও ঠিক হয়ে গিয়েছে। নতুনভাবে এই ক্যান্সার কেয়ার ইউনিট চালু হলে উত্তর শহরতলি ছাড়াও সমগ্র উত্তর ২৪ পরগনা, নদীয়ার কয়েক কোটি মানুষ উপকৃত হবেন। দীর্ঘ হয়রানি থেকে মুক্তি পাবে রোগীদের পরিবার। মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ পার্থপ্রতিম প্রধান বলেন, স্বাস্থ্যদপ্তরের উদ্যোগে নতুন করে রেডিওথেরাপির তিনটি মেশিন বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। তিনটি মেশিনের দাম প্রায় ৫২ কোটি টাকা। এই মেশিন বসানোর পরিকাঠামো তৈরিতে আরও প্রায় ৬০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এই নতুন ব্যবস্থায় ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা করতে সুবিধা হবে, উপকৃত হবেন রোগীরাও। ফাইল চিত্র