নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশের কাঠামো এবং পরিকাঠামোর আমূল বদল প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। ২০২২ সালেই পুলিশের আধুনিকীকরণ প্রকল্প নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু হয়। কিন্তু সামগ্রিকভাবে কাজ শুরু হয়নি। অবশেষে তা আরম্ভ হয়েছে। প্রযুক্তিগতভাবে আরও উন্নত করা হবে আধা সামরিক বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশকে। পাশাপাশি গোয়েন্দা ও গুপ্তচর সংস্থা, নজরদারি ব্যবস্থার কাঠামো করে তোলা হবে অত্যাধুনিক। এজন্য ২৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। আগামী ৫ বছরে এই অর্থ ব্যয় করা হবে কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনি এবং রাজ্য পুলিশের আধুনিকীকরণ প্রকল্পে, যার পোশাকি নাম ‘পুলিশ আধুনিকীকরণ মিশন’।
দেশের প্রতিটি থানায় সিসিটিভি ক্যামেরার জন্য এর আগে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল! কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন রাজ্য থেকে পাওয়া রিপোর্ট বলছে, অসংখ্য থানায় তা এখনও নিষ্ক্রিয়। এমনকি বহু থানায় পূর্বতন আধুনিকীকরণ প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ হলেও তা ব্যয় করা হয়নি। আর দেশের সর্বত্র যে বিষয়টি রীতিমতো বিপজ্জনক আকার ধারণ করেছে, সেটি হল গোয়েন্দা ব্যর্থতা। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পুলিশের একাধিক স্তরের গোয়েন্দা ও নজরদারি সংস্থা রয়েছে। সবথেকে বেশি ব্যর্থতার অভিযোগ এবং প্রমাণ এসেছে উভয় ক্ষেত্রেই। তদন্ত এবং নজরদারির ক্ষেত্রে সেই প্রাচীন ব্যবস্থাই বহাল রয়েছে। এই সব সমস্যাকে একযোগে সমাধানের লক্ষ্যে রাজ্য পুলিশ, আধা সামরিক বাহিনি, কেন্দ্র-রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা, সব মিলিয়ে পুলিশ কাঠামোর আমূল রদবদলের পরিকল্পনা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশকে দেওয়া ‘এএসইউএমপি’ নামক আধুনিকীকরণ তহবিলে টাকা পাঠানো সত্ত্বেও কাজ ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেই বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহারের জন্য স্কিম জমা দিতে বলা হয়েছে রাজ্যগুলিকে। সেই টাকা ব্যয় করার পর পুনরায় নতুন প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে। পুলিশের নতুন এই আধুনিকীকরণ মিশনে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ ও নির্দেশিকা বৃদ্ধি পাবে বলেও জানা যাচ্ছে। -ফাইল চিত্র