কৌশিক ঘোষ, কলকাতা: ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের (আইএসআই) জন্য একটি নতুন আইন প্রণয়নে উদ্যোগী কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন আইনে আইএসআই পরিচালন ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয়ে খোলনলচে বদলে বড়ো ধরনের পরিবর্তন আনার কথা বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের আরও নিয়ন্ত্রণ দেশের অন্যতম সেরা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর চাপানোই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। মনে করছেন সংস্থার সঙ্গে যুক্ত অনেকেই। ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে ফি আদায়সহ বিভিন্ন খাতে সংস্থার আয়বৃদ্ধির মাধ্যমে আর্থিক স্বয়ম্ভরতাই প্রস্তাবিত আইনটির লক্ষ্য। মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক অনুদানে চলা আইএসআইতে গণিত, রাশিবিজ্ঞান প্রভৃতি বিষয়ে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের যেসব কোর্স বহুদিন ধরে চলছে, সেখানে ছাত্রছাত্রীদের কোনও টিউশন ফি দিতে হয় না। বরং তাঁরা মাসিক স্টাইপেন্ড পান। নতুন আইন চালু হলে আইআইটি-আইআইএমগুলির মতো এখানেও পড়ুয়াদের মোটা টাকা টিউশন ফি দিতে হবে। এতে গরিব পরিবারের অনেক মেধাবী তরুণ-তরুণী শিক্ষার সুযোগ হারাবেন। এমনই আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট অধ্যাপক ও আধিকারিকদের একাংশ।
কলকাতায় আইএসআইয়ের সদর দপ্তর ছাড়া দেশের কয়েকটি জায়গায় যেসব সেন্টার আছে, সেগুলিকে অনেকটাই স্বশাসন দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আইআইটি-আইআইএমের ধাঁচে সেন্টারগুলি চালানো যাবে। এখন কলকাতা সদর দপ্তর থেকে আইএসআইয়ের দিল্লি, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু ও তেজপুরের সেন্টারগুলি নিয়ন্ত্রিত হয়। সদর দপ্তর আগামীদিনে কলকাতায় থাকবে কি না সেই ব্যাপারে প্রস্তাবিত আইনটিতে সরাসরি কিছু বলা হয়নি। তবে যেভাবে সেন্টারগুলিকে স্বশাসন দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, তাতে কলকাতার সদর দপ্তর থাকলেও তার গুরুত্ব অনেক কমে যাবে।
আইএসআইয়ের নিয়ন্ত্রক কেন্দ্রীয় স্ট্যাটিস্টিক্যাল অ্যান্ড প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেনটেশন মন্ত্রক গতমাসে নতুন আইনের খসড়া প্রকাশ করে তার উপর মতামত চেয়েছে। মন্ত্রকের কাছে মতামত জমা দিতে বলা হয়েছে আগামী ১৪ অক্টোবরের মধ্যে। সংসদের আগামী শীতকালীন অধিবেশনে আইএসআইয়ের নতুন আইন করার জন্য বিল আনা হতে পারে। আইনের খসড়াটি প্রকাশ্যে আসার পরে আইএসআইয়ের অধ্যাপক, আধিকারিক এবং কর্মীদের একটি বড়ো অংশ ক্ষুব্ধ। এক প্রবীণ অধ্যাপক জানালেন, উৎসবের মরশুমে সবাই যখন ব্যস্ত থাকবেন ঠিক তখনই নতুন আইনের ব্যাপারে মতামত চাওয়া হয়েছে! আইএসআই থেকে অধ্যাপকদের একটি প্রতিনিধি দল কালীপুজো-দেওয়ালির পর দিল্লিতে মন্ত্রকে যাবেন। প্রস্তাবিত আইনটি সম্পর্কে তাঁদের আপত্তি এবং মতামত জানানোর জন্য আরও সময় দাবি করা হবে।
বিশিষ্ট সংখ্যাতত্ত্ববিদ প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশ ১৯৩১ সালে প্রতিষ্ঠানটি গড়ার পর সোসাইটি হিসেবেই এটি চলত। এখনও সেভাবেই চলছে। ১৯৫৯ সালে সংসদে আইএসআই আইন প্রণীত হয়। নতুন আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, এটি কার্যকর হলে আগের আইনটি বাতিল হয়ে যাবে। এখন আইএসআই পরিচালনা করে ৩৪ সদস্যের এক কাউন্সিল। সংস্থার একজন প্রেসিডেন্টও আছেন। কাউন্সিলের কিছু সদস্য এবং প্রেসিডেন্ট ভোটের মাধ্যমে আসেন। অধ্যাপক এবং কর্মীদের পাশাপাশি আইএসআই সদস্যরাও ভোট দেন। কেন্দ্রীয় সরকার মনোনীত হয়েও কাউন্সিলে কয়েকজন আসেন। নতুন আইনে সংস্থা পরিচালনার জন্য যে বোর্ড অব গভর্ন্যান্স গঠন করার কথা বলা হয়েছে, তাতে চেয়ারপার্সনসহ সকলেই হবেন কেন্দ্রীয় সরকারের মনোনীত।