সংবাদদাতা, রামপুরহাট: নলহাটিতে রামনবমীর মিছিলে গুড়-বাতাসা আর জল বিলি করলেন টনি আলি, রবিউল ইসলাম, রফিক শেখ, মতিন শেখরা। পুষ্পবৃষ্টি করলেন মিছিলে। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে যখন বাংলায় ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি পাখা মেলছে, তখন সম্প্রীতির অনন্য নজির দেখলেন নলহাটিবাসী।
এদিন গোটা দেশের সঙ্গে নলহাটিতেও মহা সামারোহে পালিত হয় রামনবমী। শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ড ছাড়াও আশেপাশের গ্রাম থেকে বহু মানুষ রামমূর্তি সহকারে শোভাযাত্রা করে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রামমন্দির তলায় একত্রিত হন। পরে সেখানে থেকে বিশাল শোভাযাত্রা বেরিয়ে নলহাটি শহর ঘুরে নলাটেশ্বরী মন্দিরের অভিমুখে আসতে শুরু করে। বিজেপির পাশাপাশি তৃণমূল নেতা, কর্মী সমর্থকরাও মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন। রাস্তার গেঁদুয়া পাকুড়তলা মোড়ে সকাল থেকেই মঞ্চ করে করে বসেছিলেন একরামূল হক, রফিক, টনি আলিরা। মঞ্চে জাতীয় পতাকা ও ‘জয় হিন্দ’ লেখা ভ্রাতৃত্বের ফ্লেক্স লাগানো হয়েছিল। সেই মঞ্চ থেকে রামনবমীর শোভাযাত্রায় পুষ্পবৃষ্টি করা হয় ও হিন্দু ভাইবোনদের হাতে গুড় বাতাসা ও বোতলবন্দি জল তুলে দেন তাঁরা। একে অপরকে জড়িয়ে ধরে ছবিও তোলেন। প্রায় ৩০ কেজি গুড় বাতাসা ও সাত হাজার বোতল জলের ব্যবস্থা রেখেছিলেন তাঁরা। ধর্মনিরপেক্ষ দেশ ভারত। অথচ ধর্মকে কেন্দ্র করে সামাজিক অস্থিরতা বেড়েছে। সেখানে এই চিত্র সম্প্রীতি ও সৌভ্রাত্বের নিদর্শন বলে জানান অনেকে।
টনি আলিরা বলেন, কোনও কৃতিত্ব পেতে নয়, শোভাযাত্রায় হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে পড়া মানুষদের স্বস্তি দিতেই এই আয়োজন করেছিলাম। রবিবার প্রচণ্ড রোদ ও গরম ছিল। তাই শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া হিন্দু ভাইদের কিছুটা স্বস্তি দিতেই এই জলছত্রের আয়োজন। তাঁরা বলেন, ভীষণ সুন্দর অনুভূতি। এটাই ভারতবর্ষ। আমরা সবাই এক। হিন্দু-মুসলিম ভাই ভাই। আমরা সবাই সম্প্রীতির বার্তা দিতে চাই।
জলছত্রের আয়োজকদের প্রশংসা করেছেন নলহাটি থানার পুলিস আধিকারিকরা। তাঁরা বলেন, পশ্চিমবঙ্গ চিরকালই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নিদর্শন দেখিয়ে আসছে। এর আগে জলপাইগুড়িতে বিজয়া দশমীর ভাসান দেখতে গিয়ে হরপা বানে কেউ কেউ ভেসে গিয়েছিল। জীবন বাজি রেখে যে নদীতে ঝাঁপিয়েছিল, সে মুসলিম। তেমনি একটি নিদর্শন মিলল নলহাটিতে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এর থেকে বড় কোনও উদাহারণ হতে পারে না। অন্যদিকে রামপুরহাটেও এদিন বগটুই গ্রামের মুসলিম যুবক বৃন্দের উদ্যোগে রামনবমীর শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের জলের বোতল ও লাড্ডু বিলি করা হয়। যা এদিনের রামনবনীর মিছিলে অন্য মাত্রা যোগ করে।