নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: উত্তমের অভিনয় শুরু কি দিয়ে? উত্তমের প্রথম হিট ছবি কোনটি? এ সব তথ্য অনেকেই জানেন। অনেকে আবার জানেনও না। ঠাকুর দেখার ফাঁকে এ তথ্যগুলি যদি জেনে নেওয়া যায়, কেমন হয়। ‘খুব ভালো হয়’ বলতে দ্বিরুক্তি করবেন না কেউই। তা অনুমানেই মধ্যমগ্রামের একটি পুজো থিম করেছে উত্তমকুমার। থিমের নাম, ‘শতবর্ষে মহানায়ক’। মধ্যমগ্রামের রবীন্দ্রপল্লি ইয়ং অ্যাসোসিয়েশনের পুজোজুড়ে এবার শুধুই উত্তম। এই পুজোর বয়স ৬০ বছর। ষাটে দাঁড়িয়ে তারা উদযাপন করছে উত্তমের শতবর্ষ। প্যান্ডেলে মহানায়কের অভিনীত ছবির খণ্ডচিত্র। শোনা যাবে, মহানায়কের গলায় জনপ্রিয় ছবিগুলির সংলাপ, গান। শাপমোচন থেকে আনন্দ আশ্রম, কিংবা হারানো সুর, সপ্তপদী বা নায়ক। উত্তম অভিনীত বাংলা ছবির তালিকা হাতে গুনে শেষ করা কঠিন। তাঁকে ঘিরেই কয়েকযুগ আবর্তিত বাংলা ছবির ইন্ডাস্ট্রি। এখনও বাংলার মানুষের কাছে উত্তমকুমার চির যৌবনের প্রতীক। তাঁর জন্ম কলকাতার আহিরিটোলায় মামার বাড়িতে। ১৯২৬ সালের তিন সেপ্টেম্বর জন্ম। সে হিসেব ধরে চলতি বছর মহানায়কের জন্মশতবর্ষ। ইয়ং আস্যোসিয়েশন এ বছরই বেছে নিয়েছে উত্তমকে শ্রদ্ধা জানাতে। সোদপুর রোডের ফ্লাইওভারের কাছে প্রায় ১৬০০ স্কোয়ার ফিটজুড়ে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ। রবীন্দ্রনাথের ‘মুকুট’ নাটকে অভিনয় দিয়ে হাতেখড়ি উত্তমকুমারের। তখন অবশ্য তিনি অরুণ চট্টোপাধ্যায়। উত্তম হয়ে ওঠেননি। তা সে নাটকে অভিনয়ের জোরে সোনার পদক পেয়েছিলেন। তারপর পেশার শুরুর দিকে কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করলেও সাফল্য পাননি। ১৯৫৩ সালে প্রথম হিট ছবি সাড়ে চুয়াত্তর। তারপর শুধু হিট আর হিট। তাঁর অভিনয় ক্ষমতা, বাচন ভঙ্গি, মাথার চুলের ছাট, ভুবনভোলানো হাসিতে এখনও মন্ত্রমুগ্ধ বাঙালি। ইয়ং অ্যাসোসিয়েশন সেসবই হাজির করছে মণ্ডপে। প্যান্ডেলে সর্বত্রই মহানায়কের অভিনীত জনপ্রিয় বাংলা ছায়াছবির দৃশ্য। ছোটবেলার কিছু পারিবারিক ছবি। ‘এই পথ যদি না শেষ হয়’ গানে উত্তম-সুচিত্রার সেই বিখ্যাত দৃশ্য। অগ্নিপরীক্ষা থেকে জীবনতৃষ্ণা সহ জীবনের শেষ ছবি ‘ওগো বধূ সুন্দরী’র অ্যাকশন রিপ্লে। শাপমোচন থেকে হারানো সুর বা আনন্দ আশ্রম ছবিতে মহানায়কের বলা জনপ্রিয় সব সংলাপ আর স্বর্ণযুগের গান। তিনি অভিনীত হিন্দি ছবি ‘ছোটি সি মুলাকাত’ বা ‘কিতাব’ বা ‘বন্দী’র দৃশ্যও আছে। সর্বত্রই সাউন্ড, অ্যাকশন আর ক্যামেরা। থিম ভাবনা শিল্পী মানস ভট্টাচার্যর। ১৯ অক্টোবর মণ্ডপ উদ্বোধন করবেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ। মানসবাবু বলেন, ‘উত্তমকে নিয়ে কাজ করতে পেরে আমি আপ্লুত।’ পুজোর কর্মকর্তা ভাস্কর সাহা এবং অনিমেষ সাহা বলেন, ‘বাংলা ও বাঙালি বিদ্বেষ সামনে আসছে। এই পরিস্থিতিতে একজন বাঙালিকে আমরা কালীপুজোর মাধ্যমে সামনে এনেছি, যিনি গোটা বিশ্বজুড়ে বাঙালিদের হৃদয়ে রয়েছেন।



