Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘বর্তমান’-এর খবরের জের, বিশ্বভারতীর ওয়েবসাইটে সবার উপর রবীন্দ্রনাথের ছবি

অবশেষে নড়েচড়ে বসল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে সবার উপরে স্থান পেল বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি।

‘বর্তমান’-এর খবরের জের, বিশ্বভারতীর ওয়েবসাইটে সবার উপর রবীন্দ্রনাথের ছবি
  • ২৬ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ইন্দ্রজিৎ রায়, বোলপুর: অবশেষে নড়েচড়ে বসল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে সবার উপরে স্থান পেল বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি। সেখানে কবিগুরুর একটি ছবি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপে খুশি প্রাক্তনী, বর্তমান ছাত্রছাত্রী সহ আশ্রমিকরা। প্রসঙ্গত, নতুন উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ যোগদানের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ঢেলে সাজা হয়। সেখানে পরিদর্শক তথা রাষ্ট্রপতি, আচার্য তথা প্রধানমন্ত্রী ও রাজ্যপাল তথা প্রধান এবং উপাচার্যের ছবি স্থান পেলেও প্রতিষ্ঠাতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোনও ছবি ছিল না। বিষয়টি জানাজানি হতেই রবিবার ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রাক্তনী ও আশ্রমিকরা। তাঁদের মতে, রবীন্দ্রনাথ ছাড়া বিশ্বভারতী অকল্পনীয়। অথচ অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে তাঁর ছবিই ছিল না। যা দুর্ভাগ্যজনক ও অসম্মানজনক। সোমবার ‘বর্তমান’ পত্রিকায় খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পরই কর্তৃপক্ষ দ্রুত সেই ভুল শুধরে নেয়। ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ ছিল, স্বীকার করেছে কর্তৃপক্ষ।

Advertisement

ঠাকুর পরিবারের সদস্য সুপ্রিয় ঠাকুর বলেন, বিশ্বভারতীর অস্তিত্বই রবীন্দ্রনাথের কারণে। তাই প্রতিষ্ঠাতার ছবি না থাকা মানে ছিল তাঁর অবদানকে আড়াল করা। তবে কর্তৃপক্ষ দ্রুত ভুল শুধরে নিয়ে রবীন্দ্রনাথকে প্রাপ্য সম্মান দিয়েছে। এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা রাজ্যপাল প্রত্যেকেই গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ছাড়া বিশ্বভারতী কল্পনাই করা যায় না। ফলে তাঁর ছবি সরকারি ওয়েবসাইটে সঠিক জায়গায় ফিরে পাওয়া সকলের কাছেই আনন্দের খবর। প্রাক্তন ছাত্র নুরুল হক বলেন, দেরিতে হলেও সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ায় আমরা খুশি। বিশ্বভারতীর ওয়েবসাইটে রবীন্দ্রনাথের ছবির অনুপস্থিতি আমাদের কাছে অত্যন্ত বেদনাদায়ক ছিল। আজ ওয়েবসাইটে তাঁর ছবি দেখে মনে হচ্ছে, আমাদের গঠনমূলক সমালোচনাকে মূল্য দেওয়া হয়েছে। 
কবিগুরুর ছবি স্থান পাওয়ায় খুশি আশ্রমিক ও বিশ্বভারতীর বর্তমান ছাত্রছাত্রীরা। তাঁদের বক্তব্য, রবীন্দ্রনাথই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণপুরুষ। তাঁর আদর্শ ও দৃষ্টিভঙ্গিই আজও বিশ্বভারতীকে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের স্বীকৃতিও মিলেছে। ফলে তাঁর ছবি সরকারি ওয়েবসাইটে না থাকা মানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় থেকেই একটি বড় অংশ বাদ যাওয়া। এখন কবিগুরুর ছবি দেখে আমরা গর্বিত। বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, এটা অনিচ্ছাকৃত ভুল। তাই বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে। সসম্মানে আশ্রম প্রতিষ্ঠাতার ছবি উপযুক্ত জায়গায় বসানো হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ