Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ইরানে মুগ্ধ ছিলেন রবীন্দ্রনাথ, সফর করেন দু’বার

ইজরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের আবহে এক যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে ইরান। মনে করছেন অনেক আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ। ৯৩ বছর আগে, ১৯৩২ সালের এপ্রিলে এক যুগপরিবর্তনের সময় ইরান গিয়েছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

ইরানে মুগ্ধ ছিলেন রবীন্দ্রনাথ, সফর করেন দু’বার
  • ২৩ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

কৌশিক ঘোষ, কলকাতা: ইজরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের আবহে এক যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে ইরান। মনে করছেন অনেক আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ। ৯৩ বছর আগে, ১৯৩২ সালের এপ্রিলে এক যুগপরিবর্তনের সময় ইরান গিয়েছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এর কয়েকবছর আগে ইরানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়েছিল। ব্রিটিশ ও রাশিয়ার ছত্রছায়ায় ছিল ইরানের তৎকালীন শাসক। তাকে সরিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন রেজা শাহ পল্লভি (এই শাহ রাজবংশকে সরিয়ে ১৯৭৯ সালে ক্ষমতায় আসে ইরানের বর্তমান ধর্মীয় শাসকরা)। ক্ষমতায় এসে ইরানকে নতুন করে একটি আধুনিক দেশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য উদ্যোগী হন রেজা শাহ। তাঁরই আমন্ত্রণে ইরান গিয়েছিলেন বিশ্বকবি।

Advertisement

ইরানের শাসকের উদ্দেশ্য ছিল, এশিয়ার প্রথম নোবেলজয়ী সাহিত্যিকের সঙ্গে তাঁর দেশবাসীর পরিচয় করিয়ে দেওয়া। শুধু আমন্ত্রণ জানিয়েই দায় সারেননি ইরানের তৎকালীন শাসক। বিশ্বকবিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য কলকাতায় একটি বিশেষ বিমান পাঠান তিনি। তাতে চেপে ১১ এপ্রিল  পুত্রবধূ প্রতিমা দেবী ও ব্য঩ক্তিগত সচিব অমিয় চক্রবর্তীকে সঙ্গে নিয়ে ইরান রওনা হন বিশ্বকবি। রবীন্দ্রবিশেষজ্ঞরা বলেন, ৭০ বছর বয়সে এটাই সম্ভবত কবিগুরুর প্রথম বিমানসফর। এর আগে তাঁর সব বিদেশসফরই ছিল জাহাজে। সেইসময় বিমানে চেপেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছনো সম্ভব ছিল না। এলাহাবাদ, যোধপুর, করাচি প্রভৃতি শহরে থামতে থামতে দু’দিন পর ইরানের বুশেহার শহরে নামেন কবিগুরু। সেখান থেকে শুরু হয় তাঁর দুই সপ্তাহের ইরান সফর। 
ইরানের যেসব জায়গায় এখন পুরোদমে যুদ্ধের দাপাদাপি চলছে, সেই রাজধানী তেহেরান ছাড়াও সিরাজ, ইস্পাহানসহ বিভিন্ন শহরে রবীন্দ্রনাথ গিয়েছিলেন। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল সিরাজ শহর সফর। ওই শহরেই সমাধি রয়েছে ইরানে বিখ্যাত কবি হাফিজের। তাঁর সাহিত্যকীর্তির সঙ্গে খুব ছোটবেলা থেকেই পরিচিত ছিলেন কবি। কারণ তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর পারসি ভাষায় অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন। তিনি হাফিজের লেখা কবিতা উচ্চৈঃস্বরে আবৃত্তি করতেন বাড়িতে বা ভ্রমণকালে। তাতে মুগ্ধ হতেন শিশু কবিও। কবির নিজস্ব লেখায় এবং আরও অনেক গ্রন্থে উল্লেখ আছে—সিরাজ শহরে ইরানি কবির সমাধিস্থলে বেশকিছু সময় চোখ বুজে বসে সিরাজের কবিতা আবৃত্তি করেন রবীন্দ্রনাথ। তাঁর স্মরণে একটি কবিতা লিখে সিরাজকে ইরানের বিখ্যাত গোলাপের সঙ্গে তুলনা করেন তিনি। ইরান সফরকালে কবিগুরুর জন্মদিন পড়েছিল। দিনটি জাঁকজমকসহকারে পালন করারও উদ্যোগ নেন শাহ শাসক। কবিগুরুর সফর সংক্রান্ত নথিতে উল্লেখ আছে, ওই অনুষ্ঠানে এত ভিড় হয়েছিল যে তা নিয়ন্ত্রণের জন্য সেনা পর্যন্ত তলব করতে হয়েছিল! 
জন্মদিনের আয়োজনে কবি এতটাই খুশি হয়েছিলেন যে তিনি একটি কবিতা লিখে ফেলেন ওই উপলক্ষ্যে, ‘ইরান, তোমার যত বুলবুল, তোমার কাননে যত আছে ফুল, বিদেশি কবির জন্মদিনেরে মানি, শুনাল তাহার অভিনন্দন বাণী’। এই সফরে ইরানের সাধারণ মানুষ, পণ্ডিত থেকে শুরু করে শীর্ষ আধিকারিক এবং রাজার সঙ্গেও সাক্ষাৎ হয় কবির। ইরান দেশটি কবিগুরুর এত ভালো লেগেছিল যে দু’বছর পর তিনি ফের গিয়েছিলেন সে-দেশে। 
 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ