নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ১৯০৭ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কাশিমবাজার রাজবাড়িতে বসেছিল প্রথম বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনের আসর। যার সভাপতি ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আজ রবীন্দ্র জয়ন্তীতে সেই ইতিহাস স্মরণ করছেনঅেনেকেই। সম্মেলন উপলক্ষ্যে কবিগুরুকে টানা চারদিন থাকতে হয়েছিল কাশিমবাজার রাজবাড়িতে। চতুর্থ দিন অর্থাৎ ৫ নভেম্বর সকালে, কলকাতা রওনা দেওয়ার আগে কৃষ্ণনাথ কলেজের ছাত্রদের আবদারে কবি নিজের কণ্ঠে গেয়ে শোনান, ‘ওই ভুবনমোহিনী...।’
১৯০৭ সালে প্রথম বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল বরিশালে। কিন্তু সেই সময়ে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলেন উত্তাল বরিশাল। আর সেই আন্দোলন দমনে মরিয়া ব্রিটিশ পুলিসের অত্যাচারে জেবার বরিশালের বাসিন্দারা। এই পরিস্থিতিতে এগিয়ে আসেন রবি ঠাকুরের বিশেষ বন্ধু রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী। তিনি কাশিমবাজার মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দীকে অনুরোধ করেন বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলন আয়োজন করার। রামেন্দ্রসুন্দরের অনুরোধ ঠেলতে পারেননি মহারাজা। তিনি কাশিমবাজার রাজবাড়িতেই আয়োজন করেন বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনের। এই সম্মেলনে হাজির হয়েছিলেন অবিভক্ত বাংলার ও বাংলার বাইরের সাহিত্যানুরাগী রাজা-মহারাজা ও সাহিত্যসেবীরা। তাঁদের সঙ্গে কবি ছবিও তুলেছিলেন বলে জানা যায়।
বহরমপুরের বাসিন্দা তথা অধ্যাপক সমিত মণ্ডল বলেন, মুর্শিদাবাদ জেলার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মিক যোগাযোগ ছিল। কাশিমবাজার রাজবাড়িতে আসার সুবাদে তিনি জেলার প্রাণের মানুষ হয়ে উঠেছিলেন। তবে আজও অনেকেই বিশ্বকবির এই মুর্শিদাবাদ যোগের কথা জানেন না। কবিগুরুর প্রয়াণ সংবাদের বিষণ্ণতায় সারা বহরমপুর শহর নিস্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। শহরের সব স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক শিক্ষিকার মৌন মিছিল করে সমবেত হয়েছিলেন শহরের গ্রান্ট হলের মাঠে। সেখানেই সম্মিলিত ভাবে বিশ্বকবিকে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছিল বলেই আমরা শুনেছিলাম। বহরমপুরের ইতিহাস চর্চাকারী তথা সংগ্রাহক রমাপ্রসাদ ভাস্কর বলেন, ওই সাহিত্য সম্মেলনে দুই বাংলার বরেণ্য সাহিত্যিক এবং কবিরা হাজির হয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথের সভাপতিত্বে সম্মেলন সাফল্যমণ্ডিত হয়। কৃষ্ণনাথ কলেজের তৎকালীন ছাত্রদের আবদারে কবি গান গেয়ে শোনান। চারদিন মুর্শিদাবাদে ছিলেন তিনি। সকলের অনুরোধে তিনি একটি ছবিও তোলেন। সেই ছবি আমার সংগ্রহে রয়েছে।