সংবাদদাতা, বোলপুর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নৃত্যভাবনা, নন্দনতত্ত্ব ও শিল্প দর্শনকে সঠিকভাবে তুলে ধরার লক্ষ্যে প্রথমবার রবীন্দ্রনৃত্য ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম আয়োজন করল বিশ্বভারতীর সংগীত ভবন। মঙ্গলবার বিশ্বভারতীর রবীন্দ্রসংগীত গবেষণা কেন্দ্রের উদ্যোগে শুরু হওয়া তিনদিনের এই কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১৪০ জন ছাত্রছাত্রী, নৃত্যশিল্পী ও প্রশিক্ষক অংশগ্রহণ করেন। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি অসম সহ একাধিক রাজ্য থেকেও অংশগ্রহণকারীরা যোগ দেন। উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ বলেন, এ ধরনের কর্মশালা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দিনে কলকাতাতেও এই ধরনের কর্মশালার আয়োজন করার চেষ্টা করা হবে, যাতে আরও বেশি মানুষ এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। এদিন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক শুভাশিস ভট্টাচার্য, সংগীত ভবনের অধ্যক্ষ শ্রুতি বন্দ্যোপাধ্যায় সহ অন্যান্যরা।
বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৪ সাল থেকে সংগীত ভবনে রবীন্দ্রনৃত্যের পাঠক্রম চালু হয়। সেই সময় থেকেই রবীন্দ্রনৃত্যের সংরক্ষণ ও প্রসারের কাজ শুরু হয়। সংগীত ভবনের অধ্যক্ষ শ্রুতি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রবীন্দ্রনৃত্যকে শুধু নাচ হিসেবে দেখলে হবে না। রবীন্দ্রনাথের গান, দর্শন ও নন্দনতত্ত্বকে উপলব্ধি করেই তার দেহ সঞ্চালনের ভাষা তৈরি হয়েছে। তাই ব্যক্তিগত ভাবনা নয়, রবীন্দ্রনাথের শিল্পভাবনাকে সামনে রেখেই রবীন্দ্রনৃত্যের চর্চা হওয়া উচিত। এই কর্মসূচির লক্ষ্য সেই সঠিক ধারণা ছড়িয়ে দেওয়া।
সংগীত ভবনের অধ্যাপক অমর্ত্য মুখোপাধ্যায় বলেন, নৃত্যের ধরন আলাদা হতে পারে, কিন্তু রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে ধারণা সবার এক হওয়া জরুরি। এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই ভাবনা ছড়িয়ে দেবেন বলে আমরা আশা করি। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের মতে, বর্তমানে বিভিন্ন মাধ্যমে রবীন্দ্রসংগীত ও রবীন্দ্রনৃত্যের উপস্থাপনায় অনেক ক্ষেত্রেই রবীন্দ্রনাথের মূল ভাবনা থেকে বিচ্যুতি দেখা যাচ্ছে। সেই কারণে সঠিক প্রশিক্ষণ ও সচেতনতার মাধ্যমে রবীন্দ্রনৃত্যের মূলধারাকে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতেই এই পরিচিতিমূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। -নিজস্ব চিত্র