নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ‘আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সাধ ছিল পবিত্র ‘কোরান’ শরিফের বাংলা পদ্যানুবাদ করা’। ‘কাব্য আমপারায়’ বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলাম এই কথা লিখে গিয়েছেন। নজরুল গবেষকদের মতে তিনিই প্রথম লেখক যিনি কোরান শরিফের বাংলা পদ্যানুবাদ করেছেন। যা তিনি লিখে ছিলেন পারিবারিক হাতে লেখা কোরান থেকে। সম্প্রতি কবির বাড়ি থেকে পাওয়া গিয়েছে তাঁর পরিবারের হাতে লেখা কোরান। যাঁর আনুমানিক বয়স দেড়শো বছর। তৎপর্যপূর্ণভাবে হাতে লেখা কোরানটি যে কলমে সংশোধন করা হয়েছিল তাও মিলেছে। এবার সেই সব নথি ডিজিটাল সংস্করণ করে সংরক্ষণ করার কাজ শুরু করল কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়।
কোরানের সঙ্গে পাওয়া গিয়েছে একটি চিঠি। ১৯৮০ সালে যে চিঠি লিখেছেন কবির ভাইপো মোজাহার হোসেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন, মুন্সি কাজী এনায়ুতুল্লা এই কোরান নিজে হাতে লেখেন। শতাধিক বছর আগে। কাজী আবু সাইদ ১৯৬৫ সাল নাগাদ তা বাঁধাই করেছিলেন। কোরানের হাতের লেখা কালো কালিতে। সংশোধন করা হয়েছে লাল কালিতে। সেই লাল কালির কলমটিও তার সঙ্গেই রয়েছে। হাতে লেখার কোরানের সংশোধন কি কবি নিজে করেছিলেন, তার উত্তর পাওয়া যায়নি।
এতদিন তুলোট কাগজের উপর লেখা কোরান শরিফটি রাখা ছিল চুরুলিয়ার শহর গ্রন্থাগারে। জামুড়িয়ার প্রত্যন্ত গ্রামীণ গ্রন্থাগারে তাঁর রক্ষণাবেক্ষণ করা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের। তাও গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষ কবির পরিবারের সেই অমূল্য সম্পদটি আগলে রেখেছিল। তা চিরস্থায়ী করতে এটি ডিজিটালাইজড করা প্রয়োজন। তাই এবার কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় এই কাজে এগিয়ে এসেছে। ব্রিটিশ লাইব্রেরির যে প্রজেক্টে বিশ্ববিদ্যালয় ও আসানসোল বিবি কলেজ কবির ১৩টি খেরোর খাতা ডিজিটালাইজেশনের কাজ করেছে, এবার তারাই কবির পরিবারিক কোরানের ডিজিটাইজেশনের কাজ শুরু করেছে। দেড়শো বছরের পুরনো কোরানার পাতা থেকে ধুলো পরিষ্কার করে চলছে ডিজিটালাইজেশনের কাজ। দু’মাসের মধ্যে সেই কাজ সম্পন্ন করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন নজরুল গবেষক শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় ও গৌরব চৌধুরী।
কবি শৈশবকালে মোয়াজ্জেমের কাজ করেছেন। নজরুল গবেষকদের মতে, কবির কোরান চর্চার মূল কারণ হল কবির পারিবারিক কোরান শরিফ। কবির পরিবার ছিল ধর্মপ্রাণ মুসলিম। আমরা ধরে নিতেই পারি পরিবার থেকেই তাঁর প্রথম আরবিক শিক্ষা।
কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শান্তনুবাবু বলেন, কবি সম্প্রীতির প্রথম পাঠ পেয়েছিলেন তাঁর গ্রামের বাড়ি চুরুলিয়া থেকেই। সেখানে একদিকে তিনি ইসলাম ধর্মের উপাসক, অন্যদিকে কালী সাধক। কবির বাড়ির এই ধর্মগ্রন্থ এক্ষেত্রে নিশ্চয়ই বড় ভূমিকা নিয়েছিল। চুরুলিয়া শহর গ্রন্থাগারের সভাপতি প্রদীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, আমরা অতি যত্নে বইটি রেখেছিলাম। এবার তা ডিজিটাল ফর্মেও প্রকাশিত হবে। এতে আমরা খুশি।