ভোপাল: ঝোড়ো হাওয়ায় মুহূর্তেই সব লন্ডভন্ড। জব্বলপুরে বরগি ড্যামে ক্রুজ ডুবে এপর্যন্ত মোট ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধার ২৮ জন। মোট ৪১ জন যাত্রীর মধ্যে বাকি দু’জনের সন্ধানে চলছে তল্লাশি। এরইমাঝে এই ঘটনায় একাধিক গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। জানা গিয়েছে, ক্রুজে যাত্রীদের সুরক্ষায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। এমনকী খারাপ আবহাওয়ার পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের তরফে তা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। ক্ষোভে ফুঁসছে মৃত-আহতের পরিবার ও স্থানীয় মানুষজন।
নর্মদায় প্রমোদ তরী দুর্ঘটনার আগের মুহূর্তের একটি ভিডিয়ো সামনে এসেছে। দেখা গিয়েছে, ক্রুজে ক্রমেই জলস্তর বাড়ছে। যাত্রীরা আতঙ্কে কাঁপছেন। কাঁদছেন। চিৎকার করছেন। একদিকে কয়েকজন মহিলা লাইফ জ্যাকেট পরে বসে আছেন। আর অন্যদিকে ক্রুজের কর্মীরা লাইফ জ্যাকেট বের করছেন। তখনও অনেকের গায়ে লাইফ জ্যাকেট নেই। এরপরই যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ইনল্যান্ড ভেসেলস অ্যাক্ট (২০২১) অনুযায়ী, যাত্রা শুরুর আগে প্রত্যেক যাত্রীকে লাইফ জ্যাকেট দেওয়া হয়। সকলে তা ঠিকভাবে পরেছে কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হয়। কিন্তু এখানে সেই নিয়ম মানা হয়নি। মাঝনদীতে অনেক যাত্রীর গায়ে লাইফ জ্যাকেট ছিল না।
জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র ২৯ জন যাত্রীকে টিকিট দেওয়া হয়েছিল। আর তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। তাহলে ৪১ জন এলেন কোথা থেকে? বেশি যাত্রী নেওয়ার ফলে ক্রুজটি ভারসাম্য হারাতে পারে বলেও অনুমান। এখানেই শেষ নয়। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অগ্রাহ্য করেই পাড়ি দিয়েছিল ক্রুজটি। ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছিল আবহাওয়া অফিস। কমলা সতর্কতাও জারি করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও ক্রুজ রওনা দেয়। এনিয়ে প্রশাসনের দিকে আঙুল তুলেছেন স্থানীয়রা।
ইতিমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে পুরো ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব।