নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: প্রায় সাত মাস আগে মনোনীত হন চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান। কিন্তু উন্নয়নমূলক কাজকর্মের গতি ফেরেনি বলে অভিযোগ। তাই শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি ডেভেলপমেন্ট অথরিটির বোর্ড পরিচালন নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। বিভিন্ন মহলের অভিযোগ, সকলকে অন্ধকারে রেখে বোর্ড পারিচালনা করছেন চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান। এমন প্রেক্ষাপটে এসজেডিএ’র বোর্ড মিটিং ডাকার নির্দেশ দিয়েছেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। বৃহস্পতিবার তিনি এসজেডিএ’র চেয়ারম্যান দিলীপ দুগারকে এই নির্দেশ দেন বলে খবর। সমগ্র পরিস্থিতি নিয়ে এসজেডিএ’র অন্দরে ব্যাপক শোরগোল পড়েছে।
এদিন শিলিগুড়ি পুরভবনে বৈঠক করে পুরমন্ত্রী। সেখানে এসজেডিএ’র চেয়ারম্যান দিলীপ এবং ভাইস চেয়ারম্যান প্রতুল চক্রবর্তী ছিলেন। পরে সাংবাদিক সম্মেলনে পুরমন্ত্রী বলেন, এসজেডিএ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। শীঘ্রই ওদেরকে বোর্ডের মিটিং করতে বলেছি। প্রায় সাত মাস আগে সৌরভ চক্রবর্তীকে সরিয়ে সংশ্লিষ্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে দিলীপ দুগার এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতুল চক্রবর্তীকে মনোনীত করা হয়। অভিযোগ, এখন পর্যন্ত এসজেডিএ’র পরিচালন বোর্ডের কোনো মাসিক সভা হয়নি। পুরনো এবং নির্মীয়মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি, গুণগতমান পর্যালোচনা করা হচ্ছে। নতুন করে উন্নয়নমূলক প্রকল্প হাতে নেওয়ার ক্ষেত্রেও তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। এনিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ রীতিমতো ক্ষুব্ধ। তাঁরা বোর্ডের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এমনকী, রাজ্য সরকারের কাছে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। ক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতাদের মধ্যে কয়েকজন নিজেদের এসজেডিএ’র বোর্ডের সদস্য হিসাবে দাবি করেছেন। তাঁরা বলেন, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে চেয়ারমম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান মনোনীত করার পাশাপাশি বোর্ডের পুরনো সদস্যদের রেখে দেওয়া হয়েছিল। এখন পর্যন্ত ওই সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করা হয়নি। যার ফলে কোনো সদস্যই নতুন করে গ্রামগঞ্জের বাসিন্দাদের দাবি দাওয়া এসজেডিএতে জানাতে পারছেন না। তাঁদের অভিযোগ, সকলকে অন্ধকারে রেখে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান কাজ করছেন। এমন প্রেক্ষাপটে পুরমন্ত্রী বৈঠক ডাকার নির্দেশ দেওয়ায় চাপে পড়েছেন এসজেডিএ’র চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান। এদিন ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, বোর্ডে আর সদস্য আছে কি না জানা নেই। তবে মন্ত্রী বৈঠক ডাকতে বলেছেন। এ ব্যাপারে চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলব। চেয়ারম্যান বলেন, মন্ত্রীর নির্দেশ মতোই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব। এ বিষয়ে আর কিছু বলা সম্ভব নয়।