Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পরীক্ষা শুরুর আগে পড়ুয়াদের হাতে প্রশ্নপত্র, মানিকচকের স্কুলে চাঞ্চল্য

পরীক্ষা শুরুর আগেই পরীক্ষার্থীদের হাতে হাতে ঘুরছে প্রশ্নপত্র! গত এক সপ্তাহ ধরে এমনটাই ঘটছে মালদহের মানিকচকের মথুরাপুর হাইস্কুলে।

পরীক্ষা শুরুর আগে পড়ুয়াদের হাতে প্রশ্নপত্র, মানিকচকের স্কুলে চাঞ্চল্য
  • ১০ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মানিকচক: পরীক্ষা শুরুর আগেই পরীক্ষার্থীদের হাতে হাতে ঘুরছে প্রশ্নপত্র! গত এক সপ্তাহ ধরে এমনটাই ঘটছে মালদহের মানিকচকের মথুরাপুর হাইস্কুলে। পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত দ্বিতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা শুরু হয়েছে পয়লা আগস্ট। দেখা যাচ্ছে, পাঁচটি পরীক্ষার ক্ষেত্রেই আগেভাগে প্রশ্নপত্র পেয়ে গিয়েছে পড়ুয়ারা। ওই প্রশ্নপত্র নিয়েই তারা স্কুলে এসেছিল পরীক্ষা দিতে। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়তেই পড়াশোনার মান ও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা। তাঁদের কথায়, এমনিতেই বাংলা মাধ্যম স্কুলগুলিতে পড়াশোনা হচ্ছে না। তার উপর আগেই যদি ছেলেমেয়েরা প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে যায়, কী আর শিখবে!

Advertisement

এই প্রশ্নপত্র বাইরে চলে যাওয়ার পিছনে মুলত দায়ী করা হচ্ছে মানিকচকের মথুরাপুর তিলক সুন্দরী বালিকা বিদ্যালয়কে। কারণ মথুরাপুর বিএসএস হাইস্কুল, তিলক সুন্দরী বালিকা বিদ্যালয় ও মানিকচক গভর্নমেন্ট স্কুল কর্তৃপক্ষ একই জায়গা থেকে প্রশ্নপত্র নিয়েছিল। তখনই সংস্থার পক্ষ থেকে প্রশ্নপত্র দেওয়ার সঙ্গে পরীক্ষার সময়সূচী বেঁধে দেওয়া হয়। সেইমতো এক আগস্ট থেকে একসঙ্গে তিনটি স্কুলে পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। অভিযোগ, মথুরাপুর তিলক সুন্দরী বালিকা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাকি দু’টি স্কুলের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই পরীক্ষার সময়সূচী পরিবর্তন করে। ফলে দু’টি স্কুলের কিছু বিষয়ের পরীক্ষার দিন ওলটপালট হয়ে যায়। বালিকা বিদ্যালয়ে কিছু পরীক্ষা নির্দিষ্ট সময়ের আগেই হয়ে গিয়েছে। সেই প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে যায় মথুরাপুর বিএসএস হাইস্কুলের ছাত্রছাত্রীরা। 
এই ঘটনায় স্কুলের দিকেই আঙুল তুলেছেন অভিভাবকরা। কাজল ঘোষ বলেন, আগাম প্রশ্নপত্র পেয়ে গেলে আর তো পড়ার প্রয়োজনই নেই। বিষয়টি খুবই চিন্তাজনক। গাফিলতি চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানাচ্ছি। তবে প্রশ্ন বিভ্রাটের দায় নিতে নারাজ মথুরাপুর বিএসএস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক অতীন্দ্রনাথ দাস। তাঁর সাফ কথা, সময়সূচী মেনেই আমরা পরীক্ষা নিয়েছি। পার্শ্ববর্তী বালিকা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আলোচনা না করে সময়সূচি পরিবর্তন করে। তার ফলেই এই বিপত্তি। 
মথুরাপুর তিলক সুন্দরী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুদেষ্ণা গুপ্তাকে ফোন করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। যদিও এই ঘটনায় ভীষণ ক্ষুব্ধ বিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতির সভাপতি রানি মণ্ডল। তাঁর মন্তব্য, আমাদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই প্রধান শিক্ষিকা সময়সূচী বদল করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। এসআই মহম্মদ পারভেজ বলেন, বিষয়টি স্কুলের পক্ষ থেকে পুলিসকে জানানো হয়নি।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ