সংবাদদাতা, কান্দি: শুধুমাত্র রোগীর হাত দেখেই রোগ নির্ণয় করেন তিনি। মঙ্গলবার এমনই অভিযোগ পেয়ে খড়গ্রাম থানার পুলিশ এক কোয়াক ডাক্তারকে গ্রেপ্তার করল। ঘটনাটি খড়গ্রাম থানার হাটপাড়া গ্রামের। ঘটনায় জেলা পুলিশ সুপার ধূতিমান সরকার বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ওই কোয়াক ডাক্তারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর পঞ্চান্নর ওই কোয়াক ডাক্তারের বাড়ি খড়গ্রামের হাটপাড়া গ্রামে। বহুবছর ধরে তিনি বাড়িতেই রোগী দেখেন। মোটামুটি ভিড়ও হয় তাঁর চেম্বারে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রামের রোগীরা ভিড় জমান তাঁরা চেম্বারে। তবে রোগ নির্ণয়ের জন্য তিনি মেডিকেল টেস্টের প্রয়োজন মনে করেন না বলে অভিযোগ।
আরও জানা গিয়েছে, ওই কোয়াক ডাক্তারের বাড়িতে একটি আয়ুর্বেদিক চেম্বার থাকলেও পাশাপাশি তান্ত্রিকের মতো কাজও করেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগীর হাত দেখেই রোগ নির্ণয় করেন। বাড়ির মধ্যে দেবদেবীর মূর্তিও রয়েছে। ওই ঠাকুরের সামনে বসে রোগীর হাত দেখে রোগ নির্ণয় করেন। রোগীদের আয়ুর্বেদিক ওষুধ দেওয়ার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে তুকতাকও করেন। সম্প্রতি এক সুস্থ ব্যক্তি রোগী সেজে চিকিৎসা করতে এলে তাঁর হাত দেখে পেটে পাথর রয়েছে বলে ওই চিকিৎসক দাবি করেন। এইপর ওই ব্যক্তি বিষয়টি নিয়ে জেলা পুলিশে অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের তদন্তে নেমে মঙ্গলবার দুপুরের দিকে ওই কোয়াক ডাক্তারকে খড়গ্রাম থানায় নিয়ে আসা হয়। খড়গ্রাম থানার এক অফিসার বলেন, ওই কোয়াক ডাক্তারকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে জামিনে ছাড়া হয়েছে। পরবর্তীতে এমন কাজ না করার জন্য একটি মুচলেকাও তাঁর কাছে থেকে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে এমন কাজ করলে ওঁর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। পাশাপাশি বাড়ির মধ্যে ওই সমস্ত কাজকর্ম ও চেম্বার বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খড়গ্রাম বিএমওএইচ রিন্টু গাজি বলেন, গতবছর ওই কোয়াক ডাক্তারের বিরুদ্ধে আমার কাছে একই অভিযোগ আসে। ওই সময় ওঁকে হাসপাতালে ডেকে এসব বন্ধ করার কথা বলা হয়। উনি প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরেও তিনি শুধরোননি। তিনি কোয়াক ডাক্তারের মতো চিকিৎসা করলে আপত্তি নেই। কিন্তু হাত গোনার মতো ব্যাপার স্যাপার একেবারে বরদাস্ত করা যাবে না।