Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্যাকেজিং কাজের টোপ দিয়ে আধার, ব্যাঙ্কের তথ্য হাতিয়ে গায়েব প্রতারকরা, উৎকণ্ঠায় শক্তিগড়, গাংপুরের কয়েকশো মহিলা

প্যাকেজিং কাজের টোপ দিয়ে আধার, ব্যাঙ্কের তথ্য হাতিয়ে গায়েব প্রতারকরা, উৎকণ্ঠায় শক্তিগড়, গাংপুরের কয়েকশো মহিলা
  • ১০ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, শক্তিগড়: ঘরে বসে মোটা টাকা আয় করার সুযোগ। নিজেদের আধার কার্ডের জেরক্স এবং ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত নথি জমা দিলেই সেই সুযোগ মিলবে। কোম্পানি ঘরে কাজু, কিসমিস, পোস্ত পাঠিয়ে দেবে। সেটা প্যাকেট করে দিলেই দিনে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত আয় করা যাবে। এমনই টোপ দিয়ে শক্তিগড়, গাংপুর এলাকার কয়েকশো মহিলার কাছ থেকে আধার কার্ড এবং ব্যাঙ্কের নথি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেউই চাকরি পায়নি। ব্যক্তিগত নথি দিয়ে এখন আতঙ্কে রয়েছেন কয়েকশো মহিলা। বর্ধমান উত্তরের বিধায়ক নিশীথ মালিক বলেন, কয়েকজন এসে ক্যাম্প করে মহিলাদের কাছে নথি নিচ্ছিল। আমরা খবর পাওয়ার পর তাদের তাড়িয়ে দিই। ওরা অনেকের কাছে থেকেই আধার কার্ডের জেরক্স এবং ব্যাঙ্কের ডিটেলস নিয়েছে।
Advertisement
গাংপুরের এক মহিলা বলেন, ঘর বসে আয় করা যাবে এই আশা নিয়ে ক্যাম্পে গিয়েছিলাম। সেখানে কয়েকজন নেতাও ছিল। সেই কারণে বিশ্বাস করেছিলাম। কিন্তু এভাবে নথি হাতিয়ে নেবে বলে ভাবতে পারেনি। সেগুলি কী কাজে ব্যবহার করা হবে বুঝতে পারছি না। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, সাইবার প্রতারকরা সাধারণত এই কায়দায় প্রতারণা করে। তারা বিভিন্ন কৌশলে নথি হাতিয়ে নেয়। পরে তা দিয়ে সিমকার্ড কেনে। বেনামে ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতারণা করে। অন্যের নথি দিয়ে প্রতারণা করার জন্য পুলিস অপরাধীদের কাছে অনেক সময় পৌঁছতে পারে না। সেই উদ্দেশ্য নিয়ে প্রতারকরা নথি সংগ্রহ করেছে কি না তা নিয়ে অনেকেই আতঙ্কে রয়েছে। প্রতারকরা শুধু শক্তিগড় নয়, গলসি এলাকাতেও এভাবে অনেকের কাছ থেকে নথি সংগ্রহ করেছে। অন্যান্য জেলাতেও চক্রটি সক্রিয় রয়েছে। জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। ক্যাম্পে কে বা কারা হাজির ছিল সেটা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, গাংপুরে প্রতারকরা দেড়মাস আগে ক্যাম্প করেছিল। বাড়িতে বসে কাজ দেওয়ার খবর মুখে মুখে চাউড় হয়ে যায়। টোটো ভাড়া করে বিভিন্ন গ্রাম থেকে মহিলারা সেখানে হাজির হয়েছিলেন। কে আগে আধারের জেরক্স জমা দেবে তা নিয়ে হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছিল। অনেকে অবশ্য সেখানে হাজির হয়েও আধার কার্ডের জেরক্স জমা করেননি। নীলপুর এলাকার এক যুবতী বলেন, আধার কার্ডের জেরক্স চাওয়ায় সন্দেহ হয়েছিল। বিভিন্ন সাইবার অপরাধের কথা শুনেছিলাম। সেই কারণে জেরক্স জমা না করে ফিরে আসি। এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, কয়েকজন প্রভাবশালীকে প্রতারকরদের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল। পুলিসের উচিত তাদের জেরা করা। কোথায় কীভাবে সেগুলি ব্যবহার করা হচ্ছে তা তারা বলতে পারবে। ক্যাম্প করে পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা হলেও কেন তাঁরা বাধা দিলেন না তা নিয়ে রহস্য রয়েছে।  
সম্পর্কিত সংবাদ