শিশির ঘোষ: ঠিক করলেন পানোস। বড়ো ভুল হাবাসের। আমার কাছে এটাই শিল্ড ফাইনালের ক্যাচলাইন। টানা দু’বার ঐতিহ্যবাহী টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন মোহন বাগান। গতবারের মতো চলতি মরশুমেও ইস্ট বেঙ্গলকে হারানো নিঃসন্দেহে তারিফযোগ্য। হাবাস ব্রিগেডকে টেক্কা দিয়ে ট্রফি ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য ছাংতেদের অভিনন্দন। রক্ষণ, মাঝমাঠ, ফরোয়ার্ড লাইন— সবেতেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে টেক্কা দিল মোহন বাগান।
এদিন টিম লিস্টে আনোয়ারের না থাকা বিস্ময়কর। ইস্ট বেঙ্গল রক্ষণে ওর বিকল্প নেই। তা সত্ত্বেও মর্যাদার যুদ্ধে ওকে বসিয়ে রাখা একেবারেই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। অনেকে বলতে পারেন, এসিএল টু’য়ের কথা ভেবে আনোয়ারকে বিশ্রাম দিলেন হাবাস। আসলে এত বছর কলকাতায় কোচিং করালেও ময়দানের পালসই বোঝেননি তিনি। পাশাপাশি বিদেশি স্টপার জিভুলিচ অত্যন্ত শ্লথ। কচ্ছপের গতিতে ওর নড়াচড়া। বাকি মরশুমে ওকে নিয়ে চিন্তা থাকছেই। হার্দিক ভাটকে অভিজ্ঞতায় টেক্কা দিল ছাংতে। বেঞ্চে বরিস সিংকে বসিয়ে রাখাও যুক্তিহীন। শুরুর ২০ মিনিট ছাড়া একেবারেই ছন্নছাড়া ইস্ট বেঙ্গল। দ্বিতীয়ার্ধে রামিরেজকে তুলে নেওয়ার কারণ নেই। তাতে আরও ভোঁতা লাল-হলুদের আক্রমণ। মুভমেন্টে কোনো বৈচিত্র নেই। সেমি-ফাইনালে হ্যাটট্রিক করেছিল ডেভিড। আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা মিজো স্নাইপারকে বসানোই বা কেন? এত ছন্নছাড়া ফুটবলের জন্য ক্লোজড ডোর প্র্যাকটিসের দরকার পড়ে না। মোদ্দা কথা, হতাশ করল হাবাসের ইস্ট বেঙ্গল। ডুরান্ডের প্রথম ডার্বির পর শিল্ডেও পরাস্ত হলেন স্প্যানিশ কোচ। ব্যক্তিগত মত, হানিমুন পিরিয়ড অতীত। শিল্ড ফাইনালের পর হাবাসের অ্যাসিড টেস্ট শুরু। পাশাপাশি স্ট্র্যাটেজির যুদ্ধে এদিন বাজিমাত করলেন পানোস। মোহন বাগানের এই দলের খনি শুভাশিস বসু। তাঁকে বসিয়ে অভিষেক টেকচামকে খেলানোটাই মাস্টারস্ট্রোক। বিপিন সিংকে নড়তেই দেয়নি এই তরুণ ফুটবলার। ড্র্যাজিচ. ছাংতে নাভিশ্বাস তুলে দিল প্রতিপক্ষের। মাঝমাঠে বিপক্ষকে দাঁত ফোটাতে দেয়নি জেলকোভিচরা। রশিদ কিছুটা চেষ্টা করলেও লাভ কিছুই হয়নি। বরং ম্যাকলারেন থাকলে আরও বেশি গোলে জিততে পারত মোহন বাগান। তবে শেষ কোয়ার্টারে নিজের উপর চাপ ইনভাইট করলেন গ্রিক কোচ। সাহালের বদলে মনবীরকে নামিয়ে দিলেন তিনি। কিন্তু পাঞ্জাবি ফুটবলার উইংয়ে খেলতেই সাবলীল। ফলে দলের শেপ কিছুটা নষ্ট হল। এই সুযোগে প্রান্ত থেকে বল ভাসিয়ে গেল ইস্ট বেঙ্গল। কিন্তু গোল করবে কে? লুকাস বা লোবা লুকিয়ে রইল আলবার্তোর ছায়ায়। এই জয় আইএসএলের আগে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে পালতোলা নৌকার পালে।