ইস্তানবুল: বুধবার রাতেই আভাস মিলেছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরেই স্পষ্ট হল সবকিছু। কথা অনুযায়ী, এদিন তুরস্কের আঙ্কারায় পৌঁছন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদামির জেলেনস্কি। কিন্তু এলেন না রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তার পরিবর্তে আলোচনায় অংশ নিতে পৌঁছল ক্রেমলিনের প্রতিনিধি দল। ফলে তিন বছর ব্যাপী যুদ্ধে ইতি টানার সম্ভাবনা ফের ধাক্কা খেল। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়াকে কাঠগড়ায় তুলল ইউক্রেন ও তার ইউরোপীয় বন্ধু রাষ্ট্রগুলি। পুতিনের এই সিদ্ধান্তে অবার নন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার দোহায় একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়ে, আমি না থাকলে পুতিনের ইস্তানবুল যাওয়া সম্ভব নয়।’
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। তারপর থেকে চলছে দু’দেশের যুদ্ধ। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পরে এই লড়াই থামাতে উদ্যোগী হয়েছেন ট্রাম্প। সম্প্রতি রাশিয়াকে ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হতে বলেছিল আমেরিকা সহ একাধিক দেশ। তা নাহলে ভবিষ্যতে আরও নিষেধাজ্ঞা চাপানোর হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। কিন্তু এই প্রস্তাব পত্রপাঠ খারিজ করে দেয় ক্রেমলিন। উল্টে ইউক্রেনকে ১৫ মে ইস্তানবুলে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন পুতিন। সেইমতো রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসতে রাজি হন জেলেনস্কি। এরইমধ্যে বুধবার রাতে প্রতিনিধিদের একটি তালিকা প্রকাশ করে মস্কো। সেখানে পুতিনের নাম না থাকায় শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এদিকে বৃহস্পতিবার আন্তালিয়ায় বৈঠকে বসে ন্যাটো সদস্যভুক্ত দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীরা। প্রত্যেকেই বৈঠক এড়ানোর জন্য পুতিনের নিন্দায় সরব হন। ফিনল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী এলিনা ভ্যাল্টোনেনের তোপ, ‘এখানে একটি আসন খালি রয়েছে। সেটা রুশ প্রেসিডেন্টের। সবাই বুঝতে পেরেছেন যে একটি দেশ শান্তি আলোচনায় বসতে আগ্রহী নয়। সেটা হল রাশিয়া।’ ফরাসি বিদেশমন্ত্রীও কড়া ভাষায় পুতিনের সমালোচনা করেন।