পিনাকী ধোলে, পুরুলিয়া: রাজস্থান নামটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ধু ধু মরু প্রান্তর, বড় বড় রাজপ্রাসাদ, কারুকার্য করা একের পর স্থাপত্য, ভাস্কর্য আর হাওয়া মহল। এবারের দুর্গাপুজোয় সেই রাজস্থানকেই থিমের মাধ্যমে মণ্ডপে ফুটিয়ে তুলছে পুরুলিয়ার চকবাজার ষোলআনা দুর্গাপুজো কমিটি।
পুরুলিয়ার অন্যতম প্রাচীন চকবাজার ষোলআনা দুর্গাপুজো কমিটির পুজো এবছর ২২৫ তম বছরে পদার্পণ করল। এই পুজো কমিটি ও শক্তি সঙ্ঘের যৌথ উদ্যোগেই এবছর থিমের পুজো হচ্ছে। পুরুলিয়া শহরের থিমের পুজোর আধিক্য সেভাবে নেই বললেই চলে। তাই এবছর থিমের পুজো করে জেলাবাসীর নজর কাড়ার পাশাপাশি জেলার অন্যতম সেরা পুজোর পুরস্কার ছিনিয়ে নেওয়ার জন্যও মুখিয়ে রয়েছেন ক্লাব সদস্যরা।
চকবাজার ষোলআনার সম্পাদক সঞ্জিতকুমার দত্ত বলেন, ২২৫তম বর্ষে আমাদের থিম ঘরের সামনে রাজস্থান। নিখুঁতভাবে রাজস্থানের থিম মণ্ডপে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। পুরুলিয়ার মানুষকে আর পুজো দেখতে বাইরে কোথাও যেতে হবে না। বিখ্যাত শিল্পী ধ্রুব দাসের ছেলে রাহুল এবং রাজা এই থিমের কাজ করছেন। আমরা দীর্ঘ বছর ধরে শক্তি সঙ্ঘের সঙ্গে যৌথভাবে এই দুর্গাপুজো করে আসছি। আগামী বছরগুলিতেও আমাদের এই বন্ধন অটুট থাকবে। তবে, শুধুমাত্র পূজার্চনাতেই আটকে থাকছে না চকবাজার ষোলআনা ও শক্তি সঙ্ঘ। মানুষের পাশে থাকার অঙ্গিকারে আবদ্ধ হয়েছেন কমিটির সদস্যরা। শক্তি সঙ্ঘের সম্পাদক বিশ্বরূপ দত্ত বলেন, মহালয়ার দিন শহরের গরিব ও দুঃস্থদের মুখে হাসি ফোটাতে নতুন বস্ত্র বিলি করা হবে। সেইসঙ্গে জেলার বিভিন্ন এলাকার দুঃস্থ পরিবারগুলির হাতে শুকনো খাবার বিলি করা হবে। চতুর্থীর দিন পুজোর উদ্বোধন হবে। পঞ্চমী, ষষ্ঠী এবং দ্বাদশীর দিন সান্ধ্যকালীন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। দ্বাদশীর দিন মঞ্চ মাতাবেন পুরুলিয়ার রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট মহিলা ছৌ শিল্পী সুনীতা মাহাত।
পাশাপাশি ১২ অক্টোবর রক্তদান শিবিরেরও আয়োজন করা হয়েছে। ২২৫তম বছরে ২২৫ ইউনিট রক্ত সংগ্রহ করে ব্লাড ব্যাঙ্কে তুলে দেওয়ার সংকল্প নিয়েছেন ক্লাব সদস্যরা।
চকবাজার ষোলআনার পুজোকে কেন্দ্র করে এখন থেকেই উন্মাদনায় ফুটতে শুরু করেছেন কমিটির সদস্যরাও। দিনরাত এক করে তাঁরা কাজ করছেন। ষোলআনার সম্পাদক বলেন, প্রত্যেকের সহযোগিতা ছাড়া এত বড় পুজো করা অসম্ভব।