Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উচ্চ মাধ্যমিকেও সেরা পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশন, মেধা তালিকায় স্থান ১৭ জন পড়ুয়ার

মাধ্যমিকের পর এবার উচ্চ মাধ্যমিকেও সাফল্যের শিখরে পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠ। উচ্চ মাধ্যমিকে কার্যত সর্বকালের রেকর্ড করেছে এই স্কুল। রাজ্যের মেধা তালিকায় রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠের ১৭ জন স্থান করে নিয়েছেন।

উচ্চ মাধ্যমিকেও সেরা পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশন, মেধা তালিকায় স্থান ১৭ জন পড়ুয়ার
  • ১৫ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: মাধ্যমিকের পর এবার উচ্চ মাধ্যমিকেও সাফল্যের শিখরে পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠ। উচ্চ মাধ্যমিকে কার্যত সর্বকালের রেকর্ড করেছে এই স্কুল। রাজ্যের মেধা তালিকায় রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠের ১৭ জন স্থান করে নিয়েছেন। কৃতীদের কেউ ইঞ্জিনিয়ার হতে চান, কেউ আবার হতে চান গবেষক। 

Advertisement

এবার মাধ্যমিকে মেধাতালিকায় পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশনের সাতজন পড়ুয়া স্থান পায়। উচ্চমাধ্যমিকে সাফল্যের সেই ধারা এবছর অব্যাহত থাকল। মাধ্যমিকের সাফল্যকে ছাপিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে রাজ্যের মেধা তালিকায় এবার ১৭জন জায়গা করে নিয়েছেন। তারমধ্যে যেমন ভিনজেলার বাসিন্দা আবাসিক পড়ুয়ারা রয়েছেন, তেমনই রয়েছেন পুরুলিয়া জেলার তিনজন কৃতী ছাত্রও। 
পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান শিক্ষক স্বামী জ্ঞানরূপানন্দজি মহারাজ বলেন, উচ্চ মাধ্যমিকে এবার পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশনের ৬৪ জন পড়ুয়া পরীক্ষা দিয়েছিল। তারমধ্যে ১৭ জন পড়ুয়া রাজ্যের মেধা তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। অত্যন্ত আনন্দিত এবং আপ্লুত সবাই। রামকৃষ্ণ মিশনের পবিত্র পরিবেশ, শৃঙ্খলাপরায়ণ জীবন এবং ছাত্র থেকে শিক্ষক সকলের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই এই সাফল্য এসেছে। সর্বপরি ভগবান শ্রী রামকৃষ্ণদেব, মা সারদাদেবী এবং স্বামী বিবেকানন্দের কৃপা সকলের উপর বর্ষিত হচ্ছে। 
তিনি আরও বলেন, মেধা তালিকায় রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র জিষ্ণু কুণ্ডু দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তৃতীয়তে রয়েছে তিনজন। পঞ্চম স্থানেও রয়েছে তিনজন। ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে চারজন। সপ্তম এবং অষ্টম স্থানে একজন করে  এবং নবম স্থানে তিনজন রয়েছে। দশম স্থানেও রয়েছে একজন। এদের কেউ পুরুলিয়ার, কেউ বাঁকুড়া বা অন্য জেলার। পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশন একটি সর্বভারতীয় প্রতিষ্ঠান। যে কোনো জায়গা থেকে এখানে পড়ার জন্য আসতে পারে পড়ুয়ারা। 
পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশন সূত্রে জানাগিয়েছে, এই স্কুলের ছাত্র জিষ্ণু কুণ্ডু দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৪৯৫। তিনি পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালের বাসিন্দা। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন দেবপ্রিয় মাঝি, প্রীতম বল্লভ এবং তন্ময় মণ্ডল। তাঁদের প্রাপ্ত নম্বর ৪৯৪। দেবপ্রিয়র বাড়ি পুরুলিয়া জেলার পাড়া থানার ফুসরাবাদ গ্রামে। বাকি দু’জনের বাড়ি হুগলি এবং বাঁকুড়া জেলায়। রামকৃষ্ণ মিশন থেকেই পঞ্চম স্থানে রয়েছেন ত্রিদেব চক্রবর্তী, সৃজন পারিছা এবং সৌমিক দত্ত। তাঁদের প্রাপ্ত নম্বর ৪৯২। ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে এই স্কুলেরই চারজন। শুভদীপ অধিকারী, মনিদীপ মাহাত, সৌম্যদীপ খান এবং সৌমাল্য রুদ্র। তাঁদের প্রাপ্ত নম্বর ৪৯১। ওই চারজনের মধ্যে মনিদীপের বাড়ি পুরুলিয়া জেলার দামদায়। সপ্তম স্থানে রয়েছেন সৌম্যদীপ ঘোষ। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৪৯০। তাঁর বাড়ি পূর্ব বর্ধমানে। অষ্টম স্থানে রয়েছেন রঘুনাথপুরের বাসিন্দা তথা ওই স্কুলেরই ছাত্র আদর্শ মণ্ডল। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৪৮৯। নবম স্থানে রয়েছেন অরিত্র দুয়ারি, ময়ূখ পাল এবং আদিত্য নারায়ণ জানা। তাঁদের প্রাপ্ত নম্বর ৪৮৮। দশম স্থানে রয়েছেন স্কুলের পড়ুয়া অম্লান রায়। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৪৮৭। 
মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা জিষ্ণু কুণ্ডু পঞ্চম শ্রেণি থেকে পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশনে পড়ছেন। বাবা অর্ণব কুন্ডু পেশায় ব্যবসায়ী। মা মৌমিতা কুণ্ডু গৃহবধু। আগামী দিনে জিওফিজিক্স নিয়ে গবেষণা করার ইচ্ছে রয়েছে তাঁর। পড়াশোনার পাশাপাশি বরাবরই গল্পের বই পড়তে ভালোবাসে এই কৃতী ছাত্র। সেই সঙ্গে ঠাকুমা তাঁর একদিকে যেমন সবচেয়ে ভালো বন্ধু তেমনই গল্পের বই এর আদান প্রদানও হয় ঠাকুমার সঙ্গেই। তৃতীয় স্থানে থাকা তন্ময় মণ্ডল ইঞ্জিনিয়ার হতে চান। তন্ময় বলেন, বাঁকুড়ার পাঁচাল হাইস্কুলের মাধ্যমিকের পর একাদশ শ্রেণিতে পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশনে ভরতি হয়েছিলাম। পড়াশোনার পাশাপাশি ছবি আঁকতে এবং ক্রিকেট খেলতে ভালবাসি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ