Bartaman Logo
২ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুরুলিয়া পুরসভা: সাফাই কর্মীদের পাশে অস্থায়ী কর্মীরাও, পুজোর আগে পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা

সাফাই কর্মীদের পর এবার আন্দোলনে নামতে চলেছেন অফিসের কর্মীরাও। পুরুলিয়া পুরসভায় সমস্যা যেন বেড়েই চলেছে।

পুরুলিয়া পুরসভা: সাফাই কর্মীদের পাশে অস্থায়ী কর্মীরাও, পুজোর আগে পরিষেবা    ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা
  • ২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: সাফাই কর্মীদের পর এবার আন্দোলনে নামতে চলেছেন অফিসের কর্মীরাও। পুরুলিয়া পুরসভায় সমস্যা যেন বেড়েই চলেছে। দু’ মাসের বকেয়া বেতন এবং পুজোর বোনাসের দাবিতে শনিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন পুরুলিয়া পুরসভার সাফাই ছাড়াও অন্যান্য বিভাগের অস্থায়ী কর্মীরা। তাঁদের সংখ্যাটা প্রায় চারশো। সব মিলিয়ে কর্মীদের বেতন সমস্যা নিয়ে পুজোর আগে শহরের সাফাইয়ের পাশাপাশি জরুরি পরিষেবাও বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

Advertisement

প্রসঙ্গত, গত চারদিন ধরেই বকেয়া দু’ মাসের বেতনের দাবিতে পুরুলিয়া পুরসভার অস্থায়ী সাফাই কর্মীরা আন্দোলন শুরু করেছেন। গাড়িখানা শেড থেকে সাফাই কর্মীদের কোনো গাড়ি না বেরোনোয় এবং কর্মীরা কাজ বন্ধ রাখায় গোটা শহরের চারিদিকে আবর্জনার স্তূপ বেড়ে চলেছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুর কর্তৃপক্ষের আলোচনার পরেও সমস্যা মেটেনি। কাজে যোগ দেননি অস্থায়ী সাফাই কর্মীরা। সেই সমস্যা না মিটতেই পুরসভার অফিসের বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত প্রায় চারশো অস্থায়ী কর্মী আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। দাবি না মিটলে আগামী শনিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দিয়ে ইতিমধ্যে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে চিঠিও দিয়েছেন তাঁরা। এবিষয়ে পুরুলিয়া পুরসভার জেনারেল বিভাগে কর্মরত দীর্ঘদিনের অস্থায়ী কর্মী লক্ষ্মীকান্ত দাস বলেন, জল, বিদ্যুৎ, জেনারেল, জন্ম-মৃত্যু বিভাগ, রিলিফ, শিক্ষা, ট্রেড লাইসেন্স সহ সব বিভাগের অস্থায়ী কর্মীরাই একসঙ্গে আন্দোলনে শামিল হয়েছেন। সাফাই কর্মীদের পাশাপাশি পুরসভার অনান্য দপ্তরের কর্মীদের আন্দোলনের পরও পুরসভার আধিকারিকরা নায্য দাবি পূরণ করবেন কি না, সেই বিষয়ে কোনো আশ্বাস পাওয়া যায়নি। গত ২৫ সেপ্টেম্বরও পুরসভার আধিকারিকের পাশাপাশি জেলাশাসকেও চিঠি পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু অস্থায়ী কর্মীদের কথায় কেউ কর্ণপাত করছেন না। জলদপ্তরের কর্মরত অস্থায়ী কর্মী সীতারাম কুম্ভকার বলেন, আগেও এরকম সমস্যা হয়েছে। তবে সে সময় সাফাই বিভাগের কর্মীরা আন্দোলন করলেও বাকি বিভাগের কর্মীরা আন্দোলনে যোগ দেননি। তবে এবার সবাই একসঙ্গে আন্দোলন করতে বাধ্য হচ্ছেন। শনিবার থেকেই কর্মবিরতি শুরু হবে। পুরসভা বা প্রশাসনের কেউ বকেয়া বেতনের বিষয়ে আশ্বাস দিচ্ছেন না। পুজোর আগে এতজন কর্মীর সংসার কী করে চলবে ভাবুন। পুরুলিয়া পুরসভার বিজেপি কাউন্সিলার আবির সেনগুপ্ত বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আগের রাজ্য সরকার তো গত ১৬ ডিসেম্বর পুর বোর্ড ভেঙে দিয়েছিল। তারপর থেকেই প্রশাসক রয়েছেন। বর্তমানে মহকুমা শাসক দায়িত্বে রয়েছেন। বিগত সরকার পুরুলিয়া পুরসভাকে দেউলিয়া করে দিয়েছে। আয়ের কোনো পথ নেই। তারজন্যই কর্মচারীদের বেতন দিতে সমস্যা হচ্ছে। পুরভোট হওয়ার পর নতুন বোর্ড গঠিত হলে তবেই যদি সুরাহা হয়। তবে নতুন বোর্ড গঠিত হওয়ার আগে পর্যন্ত যাতে সাধারণ মানুষের পরিষেবা 
যাতে বিঘ্নিত না হয়, তা দেখছে প্রশাসন। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ