নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: পানীয় জলের দাবিতে এবার পুরসভায় এসে বিক্ষোভ দেখালেন পুরুলিয়া শহরের বিভিন্ন আবাসনের বাসিন্দারা। বাসিন্দাদের সামনেই আবাসনে জল দেওয়া হবে কি হবে না, এই প্রশ্নে আড়াআড়ি বিভাজন দেখা গেল কাউন্সিলারদের মধ্যে। নিজেদের মধ্যেই ‘নজিরবিহীন’ কোন্দলে জড়িয়ে পড়লেন কাউন্সিলাররা। তাই নিয়ে ফের ‘প্রকট’ হয়ে উঠল পুরসভার শাসক শিবিরের গোষ্ঠীকোন্দল।
পুরুলিয়া পুরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের রোটারি হাসপাতালের পিছনে একটি আবাসন রয়েছে। ওই আবাসনে জলের সংযোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। পুরসভার সূত্রে খবর, পুরুলিয়া শহরের কোনও আবাসনেই জলের সংযোগ দেওয়া হয়নি এখনও। আবাসনে জল দেওয়ার নির্দিষ্ট গাইডলাইনও নেই পুরসভার কাছে। অথচ নিয়ম ভেঙে ওই আবাসনে জল দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ওই আবাসনে যাঁরা বসবাস করেন, তাঁদের অধিকাংশেরই মিউটেশন নেই। পুরসভাকে কর দেন না। তাঁরা কেন পুরসভার জলের সুবিধা পাবেন, এই নিয়েই সরব হয়েছিলেন কাউন্সিলারদের একাংশ। সেই দলে রয়েছেন পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান ময়ূরী নন্দী, কাউন্সিলার তথা শহর সভাপতি প্রদীপ ডাগা, বৈদ্যনাথ মণ্ডল সহ ১৪ জন কাউন্সিলার। পুরসভার নিয়ম না থাকা সত্ত্বেও ওই আবাসনে কীভাবেই বা জলের সংযোগ দেওয়া হল, তাই নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। এসডিওকেও নালিশ করেন। ওই আবাসনে জলের সংযোগ কেটে দেওয়া হয়।
এর বিরুদ্ধে পাল্টা এসডিওকে চিঠি দেন কাউন্সিলার সুনয় কবিরাজ, বিভাসরঞ্জন দাস, রবিশঙ্কর দাস। তাঁদের দাবি, যেহেতু আবাসনের বাসিন্দারা ভোট দেন, তাই তাঁদের জলের সংযোগ দিতে হবে। এরপর এদিন আবাসনের বাসিন্দাদের একাংশ এসে চেয়ারম্যানের চেম্বারে তুমুল বিক্ষোভ দেখান। প্রায় দু’ঘণ্টা বিক্ষোভ চলে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, চেয়ারম্যানের চেম্বারে পুলিস মোতায়েন করতে হয়! এই বিশৃঙ্খলার পিছনে বিভাসদের ‘উস্কানি’ দেখছেন অন্যান্য কাউন্সিলাররা। সবার সামনেই বিভাসের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন ভাইস চেয়ারম্যান ময়ূরী নন্দী ও প্রদীপ ডাগা। ময়ূরী তাঁকে প্রশ্নই করেন, ‘নির্দিষ্ট একটি আবাসনে জল দেওয়ার জন্য এত তাড়াহুড়ো কেন? কী স্বার্থ রয়েছে আপনার?’ বিভাসবাবু জানিয়ে দেন, ‘ভোটের স্বার্থ। আবাসনের বাসিন্দারাও আমাদের ভোট দেন। তাই তাঁদের জল দিতে হবে।’
এনিয়ে প্রদীপ ডাগা বলেন, ‘বিভাসবাবুরা গলাবাজি করে সবার সামনে এমনভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করছিলেন, যেন আমরা আবাসনের বাসিন্দাদের বিপক্ষে। উনি সবার দায়িত্ব নিয়ে বসে রয়েছেন!’ প্রদীপবাবুর সংযোজন, ‘আমরাও চাই আবাসনের বাসিন্দাদের জল দেওয়া হোক। কিন্তু তা পুরসভার নিয়ম মেনে করতে হবে। জলের সংযোগ পাওয়ার আগে আবাসনের বাসিন্দাদের মিউটেশন, ট্যাক্স মিটিয়ে দিতে হবে।’ কাউন্সিলার বৈদ্যনাথ মণ্ডল, ফাইজাল কামাল আসরফরা (শাহি) বলেন, ‘আবাসনের বাসিন্দাদের জল অবশ্যই দেব। সেইসঙ্গে এটাও মাথায় রাখতে হবে যে শহরের বহু ছাপোষা বাসিন্দা পুরসভাকে তিন বছর আগে জলের সংযোগের জন্য দু’হাজার টাকা দিয়েছিলেন। অথচ তাঁরা আজও জল পাননি। তাঁদেরকেও জল দিতে হবে আমাদের।’ বিভাসরঞ্জন, সুনয় কবিরাজরা পাল্টা বলেন, ‘আমরা চাই প্রত্যেক বাসিন্দাকেই জল দেওয়া হোক। আবাসনেও দ্রুত জল দেওয়া হোক।’
এনিয়ে চেয়ারম্যান নব্যেন্দু মাহালি বলেন, ‘এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই আমরা বোর্ড মিটিং ডাকছি। কীভাবে শহরের বাসিন্দাদের জলের চাহিদা মেটানো যায়, তাই নিয়ে আলোচনা করব।’