সংবাদদাতা, আরামবাগ: পুরশুড়ার পারশ্যামপুর গ্রামের চক্রবর্তী বাড়ির পূর্বপুরুষরা স্বাধীনতা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকায় এই পুজো ব্রিটিশদের রোষানলে পড়েছিল। লালমুখো সাহেবদের অত্যাচারে পুজো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন প্রয়াত স্বাধীনতা সংগ্রামী নারায়ণ চক্রবর্তীর পূর্বপুরুষরা। প্রায় তিন, চার দশক ধরে পুজো বন্ধ থাকার পর এরপর নারায়ণবাবুই ১৯৩২ সালে ফের নতুন করে দেবীর আরাধনা শুরু করেন। সেই থেকে এই পুজো স্বাধীনতা সংগ্রামী নারায়ণ চক্রবর্তীর বাড়ির পুজো হিসাবেই খ্যাত। যা আজ পর্যন্ত ভক্তি ও নিষ্ঠা সহকারেই হয়ে আসছে। একসময় রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী প্রফুল্লচন্দ্র সেন ও অতুল্য ঘোষের মতো কংগ্রেসি নেতা এই পুজোয় শামিল হয়েছেন।
পারশ্যামপুর গ্রামের চক্রবর্তী বাড়িতে বিপ্লবীদের যাতায়াত ছিল। এক সময় এই বাড়িতে বসেই বহু আন্দোলনের ছক কষা হয়েছিল। দেশকে পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্ত করে ব্রিটিশদের তাড়ানোর জন্য নারায়ণ চক্রবর্তী বাড়িতে দুর্গাপুজো শুরু করেন। স্বাধীনতার পর পুজোর সময় এই বাড়িতে অতুল্য ঘোষ, ড. প্রতাপ চন্দ্র চন্দ্রের মতো কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতারা আসতেন। তাঁদের সঙ্গে থাকতেন বহু স্বাধীনতা সংগ্রামী। এই প্রসঙ্গে চক্রবর্তী পরিবারের সদস্যরা জানালেন, বাড়ির দালানেই দুর্গাপ্রতিমা গড়ে পুজো হয়। ষষ্ঠীতে দামোদর নদ থেকে তোলা হয় বোধনের ঘট। অষ্টমীতে পাড়ার বাসিন্দাদের লুচি ও সপ্তমী, নবমী, দশমীতে খিচুড়ি ভোগ খাওয়ানো হয়। তবে দশমীর বিশেষ আয়োজনে থাকে পান্তাভাতের ভোগ। সঙ্গে থাকে মাছের একাধিক পদ। আর লঙ্কাপোড়া। কাঁচা থোরের নৈবেদ্যও এই পুজোর আরও এক আকর্ষণ। আগে পাঁঠাবলির রেওয়াজ থাকলেও নারায়ণবাবুর আমল থেকে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়াও নবমীর দিন কুমারী পুজো হয়। দশমীতে রীতি মেনে দামোদরের জলেই প্রতিমা নিরঞ্জন হয়।
এই প্রসঙ্গে চক্রবর্তীদের বংশধর চন্দন চক্রবর্তী বলেন, আমাদের পুজোয় বর্তমানে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের উপস্থিতি না থাকলেও আনন্দ ও আড়ম্বর কমেনি। সেইসব মানুষের কথা স্মরণ করেই পুজো ঘটা করে হয়ে আসছে। পুজোর ক’টা দিন আমরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে
খুব আনন্দের মধ্যে দিয়ে
কাটাই। ফাইল চিত্র