নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: যুদ্ধবিরতি হয়ে গেল। আজ ডিজিএমও স্তরে দু’দেশের বৈঠক। কিন্তু এখনও যে পূর্ণম সাউয়ের খোঁজ মিলল না! পাঠানকোটে সীমান্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে পাকিস্তানি রেঞ্জার্স আটক করেছিল তাঁকে। সেটাই শেষ। তারপর থেকে আর খোঁজ নেই বিএসএফ জওয়ান পূর্ণমের। ছুটছেন রজনী সাউ। দেশের এ প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। বিএসএফ থেকে প্রশাসন— সব দরজাতেই কড়া নাড়ছেন তিনি। কিন্তু খবর নেই তাঁর ‘নিখোঁজ’ স্বামীর। আশা করছেন, সরকার কিছু একটা করবে। কোনওভাবে রক্ষা করবে তাঁর সিঁথির সিঁদুর। এটাও কি ‘অপারেশন সিন্দুরে’র অংশ নয়? দু’চোখের পাতা এক হচ্ছে না রজনীর। বিএসএফ কর্তারা আশ্বাস দিচ্ছেন, ব্যবস্থা হবে। ভাবছেন... সেনাকর্তারা সোমবার বৈঠকে বসবেন। তাতে নিশ্চয়ই সুখবর মিলবে। আশায় রজনী। আশায় দেশবাসীও। শুধু পূর্ণমের জন্য নয়, পহেলগাঁওয়ে নৃশংসভাবে যারা ২৬টা প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল, সেই জঙ্গিরাও ধরা পড়বে। কিন্তু কোথায় সেই চার জঙ্গি? তারা কি এখনও কাশ্মীরেই লুকিয়ে? নাকি সীমান্ত পেরিয়ে চলে গিয়েছে পাকিস্তান অথবা অন্য কোথাও?
২২ এপ্রিল থেকে ১০ মে। ১৮ দিনের মধ্যে অপারেশন সিন্দুর, অঘোষিত যুদ্ধ, ড্রোন এবং মিসাইলের সংঘাত। আবার ৭ মে থেকে তিনদিনের মধ্যে সেই যুদ্ধ থেমেও গেল আচমকা। আমেরিকার যুদ্ধবিরতি ঘোষণায়। পহেলগাঁওয়ের নিরীহ পর্যটকদের হত্যাকারীদের সন্ধান কিন্তু পাওয়া গেল না। রবিবার ভারতের তিন সামরিক দপ্তরের কর্তাদের পাশে বসিয়ে ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনস রাজীব ঘাই দিল্লিতে জানিয়েছেন, পাকিস্তানের প্রতিটি আক্রমণের পাল্টা যোগ্য জবাব কীভাবে ভারত দিয়েছে। পাকিস্তানকে সমুচিত শিক্ষার বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি ভারত শীঘ্রই রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদেও জমা দেবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে হামলা, সন্ত্রাসে মদত এবং বিনা প্ররোচনায় ভারতের সাধারণ মানুষের উপর গুলি তথা ড্রোন-মিসাইল হানার প্রমাণ। কিন্তু এই তাবৎ ঘটনা পরম্পরার মধ্যে যেন কর্পূরের মতোই অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে পহেলগাঁওয়ে গণহত্যাকারী চার জঙ্গি। তাদের মধ্যে দু’জন সরাসরি পাকিস্তান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছে এবং বাকি দু’জন কাশ্মীরেরই সহায়ক বলে গোয়েন্দা জানতে পারছে। অন্তত ৯০ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে। কয়েকশো মানুষকে জেরাও চলছে। সেনা ও আধা সামরিক বাহিনী এখনও দক্ষিণ কাশ্মীরের অরণ্যে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে। অঘোষিত যুদ্ধ থেকে যুদ্ধবিরতি পর্যন্ত হয়ে গেলেও খোঁজ মেলেনি এই গোটা পর্বের সূত্রপাতকারী সেই ঘাতক বাহিনীর। অপারেশন সিন্দুর কিন্তু তাই শেষ হয়নি। এখনও না।