নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: মাধ্যমিকের পর উচ্চ মাধ্যমিকেও পূর্ব মেদিনীপুরে নজরকাড়া সাফল্য পেলেন ছাত্রছাত্রীরা। জেলার মোট চারজন ছাত্রছাত্রী মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছেন। এছাড়া, নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন(রেসিডেন্সিয়াল) এবং পুরুলিয়ার রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠ থেকে এই জেলার আরও তিনজন কৃতী পড়ুয়া মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছেন। পাশের নিরিখে গোটা রাজ্যের মধ্যে প্রথমে রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর। পাশের হার ৯৪.১৯শতাংশ। এবছর জেলার মোট ৩৮হাজার ৯৪৫জন ছাত্রছাত্রী উচ্চ মাধ্যমিক দিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩৬হাজার ৬৮৪জন।
তমলুক শহরের ১৪নম্বর ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা স্বর্ণাভ খাটুয়া ৪৯২নম্বর পেয়ে পঞ্চম হয়েছেন। তিনি তমলুক হাইস্কুলের ছাত্র। বাবা কমলেশ খাটুয়া ওই স্কুলের রাশিবিজ্ঞানের শিক্ষক। স্বর্ণাভ তমলুক হ্যামিল্টন হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক পাশ করেছিলেন। মাধ্যমিকে মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া নিয়ে আশাভঙ্গ হয়েছিল। মনকে শক্ত করেই উচ্চ মাধ্যমিকে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। গণিত, পদার্থবিদ্যা, রসায়নের পাশাপাশি রাশিবিজ্ঞান সাবজেক্ট রেখেছিলেন। আগামী দিনে আইআইটিতে ভর্তি হতে চান তমলুকের এই কৃতী সন্তান। স্কুলের প্রধান শিক্ষক পুষ্যমিত্র মাইতি বলেন, ২০১৯সালের পর আমাদের স্কুলে উচ্চ মাধ্যমিকে র্যাঙ্ক হল। আমরা স্বর্ণাভকে নিয়ে গর্বিত। ওর আগামী দিনের জন্য শুভেচ্ছা রইল।
ময়নার পরমানন্দপুর জগন্নাথ ইনস্টিটিউশন থেকে ৪৮৮নম্বর পেয়ে মেধা তালিকায় নবম হয়েছেন শুভঙ্কর সামন্ত। তাঁর বাড়ি সবং থানার শ্যামসুন্দরপুরে। বাবা লবকুশ সামন্ত পেশায় গৃহশিক্ষক। আর্থিক বাধা উপেক্ষা করেই সবংয়ের ওই মেধাবী ছাত্র উচ্চ মাধ্যমিকে মেধা তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। ভবিষ্যতে পদার্থবিদ্যা নিয়ে গবেষণা করতে চান শুভঙ্কর। প্রধান শিক্ষক রঞ্জিতকুমার সামন্ত বলেন, ২০২৩সালে আমাদের স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে ষষ্ঠ স্থান হয়েছিল। এবার আর্থিক বাধা সত্ত্বেও শুভঙ্কর নবম হয়েছে। আমরা আগামী দিনে ওর পাশে থাকার সঙ্কল্প করেছি।
উচ্চ মাধ্যমিকে ৪৮৭নম্বর পেয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের দু’জন দশম স্থান দখল করেছেন। নন্দীগ্রামের পারিজাত মাইতি স্থানীয় মহম্মদপুর শিবনারায়ণ শিক্ষা নিকেতন থেকে দশম হয়েছেন। পারিজাতের বাবা বোধিসত্ত্ব মাইতি ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক। তাঁর মা ইরাদেবী সামসাবাদ বেণীমাধব বালিকা বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষিকা। পারিজাত প্রথম থেকেই স্কুলে ফার্স্ট হন। মাধ্যমিকে র্যাঙ্ক না হওয়ায় আফশোস ছিল। তবে, উচ্চ মাধ্যমিকে মেধা তালিকায় জায়গা হওয়ায় সেই আফশোস মিটেছে। আগামী দিনে চিকিৎসক হতে চান। মহম্মদপুরের ওই স্কুলে এবারই প্রথম উচ্চ মাধ্যমিকে সেরা দশের মেধা তালিকায় স্থান পেলেন।
ভূপতিনগর থানার পাথরবেড়িয়া গ্রামের সম্প্রীতি গিরিও মুগবেড়িয়া গঙ্গাধর হাইস্কুল থেকে দশম হয়েছেন। ছোট থেকেই সম্প্রীতি মেধাবী ছাত্রী হিসেবে পরিচিত। মানিকজোড় হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক দিয়েছিলেন। র্যাঙ্ক না হওয়ায় আফশোস ছিল। তাই এবার আর মেধা তালিকা নিয়ে সেভাবে আশা করেননি। ফল ঘোষণার পর তাঁর নাম মেধা তালিকায় থাকায় উচ্ছ্বসিত সম্প্রীতি। মা সুমিতাদেবী কুঞ্জপাড়া প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা। আগামী দিনে রাজ্য সরকারি ভালো পদে চাকরি করতে চান ওই মেধাবী ছাত্রী।
হলদিয়া টাউনশিপের আলেখ্য মাইতি ৪৯২নম্বর পেয়ে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন রেসিডেন্সিয়াল থেকে পঞ্চম হয়েছেন। এছাড়া, শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের আলিনান গ্রামের শুভদীপ দিন্ডা নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয় থেকে ষষ্ঠ স্থানাধিকারী। পাঁশকুড়ার ডাবুয়াপুকুর গ্রামের আদিত্যনারায়ণ জানা পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠ থেকে নবম স্থান দখল করেছেন। তাঁরা প্রত্যেকেই পূর্ব মেদিনীপুরের কৃতী সন্তান।