Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

১৩২ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার মেধাতালিকায় পুরন্দরপুর স্কুল,মেধাতালিকায় স্থান পেল বীরভূমের ৬ জন

মাধ্যমিক পরীক্ষায় মেধাতালিকায় বীরভূমের ছ’জন পড়ুয়া ঠাঁই পেয়েছে। তবে সবচেয়ে বড়ো চমক দিয়েছে বীরভূমের প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুরন্দরপুর উচ্চবিদ্যালয়।

১৩২ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার মেধাতালিকায় পুরন্দরপুর স্কুল,মেধাতালিকায় স্থান পেল বীরভূমের ৬ জন
  • ১০ মে, ২০২৬ ০৬:২৬
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: মাধ্যমিক পরীক্ষায় মেধাতালিকায় বীরভূমের ছ’জন পড়ুয়া ঠাঁই পেয়েছে। তবে সবচেয়ে বড়ো চমক দিয়েছে বীরভূমের প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুরন্দরপুর উচ্চবিদ্যালয়। ১৩২ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম রাজ্যের মেধাতালিকায় নাম তুলল এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বিদ্যালয়ের এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত স্কুলের সহ-শিক্ষক অভিজিৎ নন্দন বলেন, স্কুলের সমস্ত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা আজ খুব আনন্দিত। দীর্ঘ ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ছাত্র মেধাতালিকায় স্থান পেল।

Advertisement

পর্ষদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বীরভূমে এবার ছাত্রদের পাশের হার ৮২.৯৫শতাংশ। ছাত্রীদের ক্ষেত্রে তা ৭৮.৮শতাংশ। জেলার মেধাতালিকায় শীর্ষে রয়েছে সিউড়ির ডাঙ্গালপাড়ার প্রিয়তোষ মুখোপাধ্যায়। সরোজিনী দেবী সরস্বতী শিশুমন্দিরের এই ছাত্র ৬৯৬নম্বর পেয়ে রাজ্যে দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে। শিক্ষক দম্পতির সন্তান প্রিয়তোষ বড় হয়ে আইআইটি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়তে চায়।
প্রিয়তোষের পাশাপাশি এদিন জেলার নজর কেড়েছে দুবরাজপুরের শর্মিষ্ঠা গড়াই। দুবরাজপুর শ্রীশ্রী সারদেশ্বরী বিদ্যামন্দির ফর গার্লস-এর এই ছাত্রী ৬৯০ নম্বর পেয়ে রাজ্যে অষ্টম হয়েছে। তার বাবা ব্যবসায়ী, মা প্রাথমিক শিক্ষিকা। শর্মিষ্ঠা ভারতীয় বায়ুসেনায় যোগ দিয়ে আকাশ ছুঁতে চায়। নাচে-গানে পারদর্শী শর্মিষ্ঠা বলল, পরীক্ষার আগে রোজ ১০ঘণ্টা করে পড়াশোনা করেছি। নিজের সাফল্যের কৃতিত্ব সে তার পরিবার ও স্কুলের শিক্ষকদের দিয়েছে।
মাধ্যমিকে ৬৮৮নম্বর পেয়ে রাজ্যে দশম হয়েছে জেলার চার কৃতী। তাদের মধ্যে অন্যতম পুরন্দরপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রত্যয় ঘোষ, যে স্কুলের ১৩২বছরের ইতিহাসে এক নতুন সাফল্য এনে দিয়েছে। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখা প্রত্যয় অবসর সময় কাটায় ক্রিকেট মাঠ। মাধ্যমিকে দশম হয়েছে বীরভূম জেলা স্কুলের শরব্য দেবও। শিক্ষক দম্পতির সন্তান শরব্য ভবিষ্যতে ক্যানসার বিশেষজ্ঞ হতে চায়। পড়াশোনার বাইরে গল্পের বই আর সিনেমা দেখতে ভালোবাসে সে। রামপুরহাট জিতেন্দ্রলাল বিদ্যাভবনের দ্যুতিমান দে-ও ৬৮৮পেয়ে দশম হয়েছে। পঞ্চম শ্রেণি থেকেই ক্লাসে প্রথম হওয়া দ্যুতিমান সত্যজিৎ রায়ের গল্পের ভক্ত। স্কুলশিক্ষক বাবার গাইডেন্সে ভবিষ্যতে চিকিৎসক হতে চায়। শান্তিনিকেতন নবনালন্দা হাইস্কুলের শেখ সাদ্দাম হোসেনও দশম স্থান অধিকার করেছে। বোলপুরের জামবুনির বাসিন্দা সাদ্দাম ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। তার এই সাফল্যে স্কুলের অধ্যক্ষ গৌরগোপাল চট্টোপাধ্যায় গর্ব প্রকাশ করেছেন।
বীরভূমের প্রতিটি কোণ থেকে উঠে আসা এই ছয় কৃতী ছাত্রছাত্রী প্রমাণ করে দিল, মেধা আর একাগ্রতা থাকলে যে কোনো প্রতিকূলতা জয় করে সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব। আপাতত মিষ্টিমুখ আর শুভেচ্ছার বন্যায় ভেসে আগামী দিনে আরও বড় লড়াইয়ে জয়ের স্বপ্ন দেখছে তারা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ