Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ধ্বংসস্তূপ থেকে ‘খুলি’ মুখে নিয়ে হাজির কুকুর ছানা

ভিতরে তখন চলছিল ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ। অভিশপ্ত জোড়া গোডাউনের নীচে আর যে কতজনের দেহাংশ মিলবে, সেটা নিয়েই চর্চা চলছে

ধ্বংসস্তূপ থেকে ‘খুলি’ মুখে নিয়ে  হাজির কুকুর ছানা
  • ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ভিতরে তখন চলছিল ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ। অভিশপ্ত জোড়া গোডাউনের নীচে আর যে কতজনের দেহাংশ মিলবে, সেটা নিয়েই চর্চা চলছে। তার মাঝেই এক অদ্ভূত ও বিস্ময়কর চিত্র ধরা পড়ল। বৃহস্পতিবার দুপুরে আচমকাই হাজির এক কুকুর ছানা। মুখে করে কী যেন নিয়ে ছুটে চলল! ডেকরেটার্স সংস্থার গোডাউনের পাশে যে খাটাল আছে, তার লাগোয়া টিনের দেওয়ালের এক ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে সেই টুকরোটা ফেলে পালায় ওই ছানা। আধ পোড়া সেই অংশ প্রায় কালো হয়ে গিয়েছে। তাতে রয়েছে বেশ কয়েকটি ছোট আকারের ছিদ্র এবং একটি বড় গর্ত। যেন খুলির টুকরো। তবে কি এটা অগ্নিকাণ্ডে ঝলসে মৃত কোনো কর্মীর খুলি? দানা বেঁধেছে তীব্র রহস্য। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেহাংশ তো বটেই, তবে তা খুলি কি না, পরীক্ষা শেষের আগে বলা যাবে না।

Advertisement

মোমো প্রস্তুতকারী ও ডেকরেটার্স সংস্থার গোডাউনে এদিন দিনভর তল্লাশি চলছে। সেখানেই ঘুরে বেড়াচ্ছে সারমেয়ের দল। এখানে সেখানে উকি ঝুঁকি মারছে তারা। যেন তাদেরও কেউ এই আগুনে নিখোঁজ হয়েছে। উদভ্রান্তের মতো তারাও নিজেদের আপনজনকে খুঁজছে। আশপাশের অনেকেই বলছেন, গোডাউন কর্মীরা নিয়মিত খেতে দিতেন। ছানা সমেত এখানে আশ্রয় নিয়েছিল কয়েকটা সারমেয়ও। তবে যেভাবে কুকুর ছানার ফেলে যাওয়া ওই দেহাংশ মিলল, তাতে তদন্তকারীরা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না যে, সেটি মানব শরীরের কোন অংশের। পুড়ে কালো হয়ে গিয়েছে সেটি। অনেকটাই খুলি আকারের সেই দেহাংশ মাটিতে ফেলে দেওয়ার পরও সেই কুকুর ছানা বারবার শুঁকে চলে যাচ্ছিল। কখনও আবার ধ্বংসস্তূপের ভিতরে ঢুকে যাচ্ছিল। আবার কিছুক্ষণ বাদে ফিরে আসছে সেখানেই।  আপাতত সেই দেহাংশ উদ্ধার করে নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। ডিএনএ পরীক্ষা করেই বোঝা যাবে আসলে এটি কার শরীরের অংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খুলি সদৃশ এই দেহাংশ মানুষের কি না, সেজন্য পরীক্ষা করতে হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ