নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মাধ্যম পুতুল নাচ। তা দিয়েই খুদে পড়ুয়ারা তুলে ধরল নারীদের উপর হিংসা থেকে পরিবেশ দূষণের মতো সভ্যতার কালো দিকগুলি। যাদবপুর বিদ্যাপীঠে চারদিনব্যাপী কর্মশালায় নানা সামাজিক এবং পরিবেশগত ইস্যু উঠে এল পড়ুয়াদের নিজেদের হাতে তৈরি পুতুলের মাধ্যমে। এমনকী, মাত্র চার-পাঁচদিনের মধ্যে পড়ুয়ারা পুতুল তৈরির পাশাপাশি পাপেট্রির স্ক্রিপ্টও লিখেছে। আর সেগুলি তাক লাগিয়ে দিয়েছে তাবড় রাজ্য ও কেন্দ্রীয় উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক এবং সরকারি শিক্ষা আধিকারিকদের।
মোট ১০টি স্কুল এই কর্মশালায় অংশ নিয়েছিল। একটি দলের বিষয় ছিল অভয়া কাণ্ড। ঘটনাটি এরকম, একটি মেয়ে টিভিতে আরজিকরের ঘটনাটি দেখছে। তখন সে তার বাবাকে এটা নিয়ে প্রশ্ন করছে। তাঁর বাবা বোঝাচ্ছেন, বিপরীত লিঙ্গের প্রতি সহমর্মিতা এবং সম্মান থাকলেই দেশে বা রাজ্যে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো সম্ভব। বাবা এবং মেয়ের চরিত্র আসলে পুতুল। স্ক্রিপ্টও পড়ুয়াদের লেখা। আবার কোনও স্কুলের পাপেট্রি শো-এ উঠে এসেছে বিসর্জন হওয়া প্রতিমার রাসায়নিক রং এবং অন্যান্য কাঠামোর জেরে জলদূষণের বিপদের দিক। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব কেমিক্যাল বায়োলজি, ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অব সায়েন্স এবং সেন্ট্রাল গ্লাস অ্যান্ড সেরামিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপকরা বিচারক এবং অতিথি হিসেবে ছিলেন।
রাজ্য সমগ্র শিক্ষা অভিযানের ডেপুটি ডিরেক্টর অর্ণব সরকার বলেন, পাপেট্রির মাধ্যমে এই শিক্ষা সাইকেল চালানো বা সাঁতার শেখার মতো। শিখতেও যেমন মজা, তেমনই কেউ সারাজীবনে ভোলে না। জয়ফুল এবং হোলিস্টিক লার্নিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ এটি। রাজ্য প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের ডেপুটি সেক্রেটারি পার্থ কর্মকার বলেন, সামাজিক, পরিবেশগত ইস্যুর পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের সিলেবাসের পড়াশোনাও পাপেট্রির মাধ্যমে শেখানোর ব্যবস্থা থাকলে আরও ভালো হবে। যাদবপুর বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক পার্থপ্রতিম বৈদ্য বলেন, বিভিন্ন স্কুলের খুদে পড়ুয়াদের প্রতিভা সবাইকে চমকে দিয়েছে। -নিজস্ব চিত্র