ঐতিহ্য থেকে হারানো পুতুল শিল্প, হাওড়ার সাত কালীপুজোয় এবার সাত রকমের চমক
  • ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: থিমের জাঁকজমক, সাবেকি প্রতিমার ঐতিহ্য কিংবা বাংলার হারিয়ে যাওয়া শিল্পকলা, কালীপুজোয় বৈচিত্র্যের ডালি সাজিয়ে প্রস্তুত হাওড়ার সাতটি পুজো। হাওড়া শহরের ছ’টি পুজোর পাশাপাশি ডোমজুড়ের একটি বারোয়ারি পুজোতে এবার থাকছে বিশেষ আকর্ষণ। কোথাও সাধক বামাক্ষ্যাপার স্মৃতি, কোথাও শক্তিসাধনার ঐতিহ্য, আবার কোথাও বাংলার পুতুল শিল্পকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ।

Advertisement

হাওড়ার সংগ্রাম সমিতি ব্যায়ামাগারের পুজো এবার ৬১ বছরে পা দিয়েছে। বরাবরের মতো এবারও থিমের জাঁকজমক নেই, সাবেকি প্রতিমা ও ছিমছাম মণ্ডপসজ্জাই তাদের মূল আকর্ষণ। অন্যদিকে জগাছার ধারসা আনন্দ নিকেতন ক্লাবের ৪১তম বর্ষের পুজোয় ফুটে উঠছে সাধক বামাক্ষ্যাপার বাসস্থান বীরভূমের আটলা গ্রাম। প্রতিমা সাবেকি ধাঁচের। রামরাজাতলার বকুলতলা লেনের জটিয়া বাবা স্মৃতি সংঘের পুজো পরিচালনা করছে খেয়ালি সংঘ। ৫৪তম বর্ষে পা দেওয়া এই পুজোয় বজায় রাখা হচ্ছে একসময়ের জটিয়াবাবা আশ্রমের শক্তিসাধনার ঐতিহ্য ও রীতিনীতি। পুজোর দিনগুলি এখানে ভিড় জমান বহু মানুষ। কদমতলার নেতাজি সুভাষ সংঘের ৬৫তম বর্ষের পুজোয় চালচিত্র সহ প্রায় ২০ ফুট উচ্চতার প্রতিমা অন্যতম আকর্ষণ। সানপুর মিতালি সংঘের ৭৬তম বর্ষে মণ্ডপের ভাবনা ‘ছিন্নমস্তার ভূত বাংলো’। মণ্ডপসজ্জার পাশাপাশি দেবীকালীর জীবন্ত মডেলও দর্শকদের নজর কাড়বে। অন্যদিকে দক্ষিণ ব্যাটরার ৯৪ বছরের শ্যামাপুজোয় ১৭ ফুটের প্রতিমা ‘বড়মা’ নামে পরিচিত। দেবীর অস্ত্র ও অলংকার সোনা ও রুপো দিয়ে সাজানো হয়। তবে শহরের পুজোগুলির পাশাপাশি এবার বিশেষভাবে নজর কাড়তে চলেছে ডোমজুড়ের দেবীর পাড়া নতুন দলের ৪৩তম বর্ষের পুজো। বাংলার হারিয়ে যাওয়া পুতুল শিল্পকে মণ্ডপের মূল ভাবনায় তুলে ধরেছেন উদ্যোক্তারা। বাংলার বিভিন্ন জেলার বিলুপ্তপ্রায় পুতুলশিল্পের নানা নিদর্শন দিয়ে সাজানো হয়েছে মণ্ডপ। শুধু মণ্ডপেই নয়, কালী প্রতিমাতেও থাকছে পুতুল শিল্পের ছোঁয়া। প্রায় ১০ লক্ষ টাকা বাজেট। এই পুজো দেখতে প্রতিবছরই দর্শনার্থীদের ঢল নামে। এবারও ভিড়ের প্রত্যাশায় উদ্যোক্তারা।  নেতাজি সুভাষ সংঘের পুজো।