নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: বিকৃত ‘পুতুল’ আলু থেকে এখনও মেলেনি ক্ষতিপূরণ। চাষিদের অভিযোগের ভিত্তিতে ফের বৈঠকে বসল প্রশাসন। বৃহস্পতিবার আরামবাগ মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে ওই বৈঠক হয়। তাতে ছিলেন আরামবাগের মহকুমা শাসক রবি কুমার। এছাড়া মহকুমা কৃষিদপ্তরের আধিকারিক কল্লোল দাস, ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট অরিন্দম মুখোপাধ্যায় প্রমুখ। বীজ বিক্রেতা, সংশ্লিষ্ট হিমঘর কর্তৃপক্ষ এবং পাঞ্জাবের আলু বীজ সরবরাহকারী সংস্থার প্রতিনিধিও ছিলেন। মহকুমা শাসক বলেন, এদিনের বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের আলুর পরিমাণ দেখে বীজ সরবরাহকারীরা ক্ষতিপূরণ দেবেন বলে বৈঠকে জানিয়েছেন। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হবে। কৃষিদপ্তর চাষিদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ করে দেবে। প্রশাসন পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে।
উল্লেখ্য, আরামবাগের মলয়পুর এলাকায় জ্যোতি আলুর চাষ করেছিলেন চাষিরা। তারমধ্যে কিছু মাঠে আলুর বিকৃত ফলন হয়। চাষিদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট সময় পর মাঠ থেকে আলু তুলে দেখা যায় অধিকাংশই পুতুলের মতো আকার নিয়েছে। কোনও কোনও আলু আবার আদার মতো দেখতে হয়েছে। ওই আলু তোলার পর তা কিনতে কোনও মহাজন মাঠে আসেননি। ফলে জমিতেই তা ডাঁই করে রাখা হয়। এই পরিস্থিতির জেরে চাষিরা ক্ষতিপূরণের আর্জি জানিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হন। তার জেরে মহকুমা প্রশাসন সপ্তাহ খানেক আগে চাষি, বীজ সরবরাহকারীদের নিয়ে বৈঠক করে। এক সপ্তাহের মধ্যে বিঘা প্রতি ৮০ বস্তার জন্য ৯০০ টাকা কুইন্টাল দরে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যাপারে আশ্বাস দেয় বীজ সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষ। বৈঠকের পর বীজ সরবরাহকারী সংস্থার লোকজন মলয়পুরের বিভিন্ন জমি থেকে বিকৃত আলু তুলে নেয়। কিন্তু, এক সপ্তাহ কাটলেও চাষিরা ক্ষতিপূরণ পাননি। সেইজন্য ওই এলাকার কয়েকজন চাষি বুধবার মহকুমা শাসকের দপ্তরে অভিযোগ জানান। তার ভিত্তিতে এদিন ফের প্রশাসন বৈঠক করে। প্রশাসন জানিয়েছে, দ্রুত এর নিষ্পত্তি করতে প্রয়োজনীয় তৎপরতা নেওয়া হয়েছে। ওই এলাকার চাষি শেখ মুকুল, অসিতবরণ সরকার বলেন, বিপুল খরচে আলু চাষ করা হয়েছিল। মলয়পুর-১ ও ২ পঞ্চায়েত এলাকায় পুতুলের মতো দেখতে হয় আলুর গড়ন। তাই ক্ষতিপূরণের আর্জি জানিয়ে আমরা প্রশাসনের দ্বারস্থ হই। প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর মাঠ থেকে ওরা আলু নিয়ে গেলেও ক্ষতিপূরণ বাবদ কোনও টাকা এখনও চাষিদের দেওয়া হয়নি। সেই বিষয়টি আমরা প্রশাসনকে জানাই। কৃষিদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন করে দেওয়া হবে। তার ভিত্তিতে বীজ সরবরাহকারী সংস্থা টাকা দেবে। স্থানীয় বীজ বিক্রেতা সুব্রত দত্ত বলেন, বীজ থেকে বিকৃত আলু ফলনের ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক। এরজন্য আমরা সংশ্লিষ্ট বীজ সরবরাহকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করি। তাঁরা এদিন বৈঠকও করেন। চাষিদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংগ্রহ করার কাজ শুরু হয়েছে। সময়মতো ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে। আমরা চাষিদের পাশেই রয়েছি। বৈঠক সেরে বেরোচ্ছেন প্রশাসনিক কর্তারা।