নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বইয়ের পাতায় থাকেন তাঁরা। মাঝেমধ্যে বেরিয়ে আসেন। এখন যেমন এসেছেন স্কুলের বাচ্চাদের কাছে। বেরিয়ে ক্লাসরুমের দেওয়ালে গেঁড়ে বসেছেন। যেন জীবন্ত। বাপুরাম সাপুড়ে, কাঠবুড়ো, খুড়োর কলের খুড়ো আর রামগড়ুদের ছানারা। শিশুরা তাদের কথা পড়ছে। দেখছে। আর হেসে কুটোপাটি খাচ্ছে। সাহিত্যিক সুকুমার রায়ের আবোল তাবোলের আদলে সাজিয়ে তোলা হয়েছে হাওড়ার একটি প্রাথমিক স্কুল। বাংলা সাহিত্যের প্রতি শিশুদের আকর্ষণ গড়ে তুলতেই এমন উদ্যোগ জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
হাওড়ার কদমতলার ব্যাটরা পাবলিক লাইব্রেরি শিক্ষা নিকেতন। তিনতলা স্কুল বাড়ি। দু’টি তলার প্রতিটি শ্রেণিকক্ষকে সাজিয়ে তোলা হয়েছে আবোল তাবোলের বিভিন্ন ছড়া দিয়ে। ক্লাসরুম ছাড়াও কম্পিউটার ঘর, রান্নাঘর, এমনকী শৌচালয়ের বাইরেও শোভা বাড়াচ্ছেন সুকুমারের শ্রেষ্ঠ চরিত্ররা। কোনও ক্লাস রুমের নাম রাখা হয়েছে ‘হুঁকোমুখো হ্যাংলা’ কোনওটির ‘অবাক কাণ্ড’। এছাড়া ‘ভীষ্মলোচন শর্মা’ ‘নারদ নারদ’ ‘আহ্লাদী ‘অবাক কাণ্ড’ ‘কাতুকুতু বুড়ো’ ‘কুমড়ো পটাশ’ও রয়েছে। স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, আবোল তাবোলের শতবর্ষ উপলক্ষ্যে কিংবদন্তী সাহিত্যিক সুকুমার রায়কে শ্রদ্ধা জানাতেই এমন অভিনব ভাবনা। ক্লাসরুম নতুনভাবে সাজানোর পর শনিবার একটি অনুষ্ঠান হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ রায়। কচিকাঁচারা এক সুরে গলা মিলিয়ে আবোল তাবোলের কিছু ছড়া আবৃত্তি করেছে।
প্রধান শিক্ষিকা অর্পিতা ঘোষ বলেন, ‘বাংলা শিশুসাহিত্যের প্রতি ছোটদের আকর্ষণ হারিয়ে যাচ্ছে। ভাষার টান ভুলতে বসেছে ওরা। তা ওদের ফিরিয়ে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। সেজন্যই এই উদ্যোগ।’ মন্ত্রী অরূপ রায় বলেন, ‘বাংলার শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতিই তো পথ দেখায়।’ জানা গিয়েছে, চার মাস আগে প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব নিয়েছিলেন অর্পিতাদেবী। পড়ুয়ার সংখ্যা তখন ছিল ১০। নয়া শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার পর প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে অভিভাবকদের বোঝানোর কাজ শুরু করেন নন্দিতা দাস গুপ্ত, পায়েল চক্রবর্তী সহ অন্যান্য শিক্ষিকারা। পড়ানোর ক্লাস ছাড়াও স্কুলে চালু হয় কম্পিউটার-আঁকার ক্লাস, কারাটে প্রশিক্ষণ। এরপর ফল মেলে হাতেনাতে। গত চার মাসে পড়ুয়া সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪৫। এবার ক্লাসরুমে হুঁকোমুখো হ্যাংলাদের কাছে পেয়ে খুব খুশি কচিকাঁচারা। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান কৃষ্ণ ঘোষ বলেন, ‘আবোল তাবোলের হাত ধরে আগামী দিনে পড়ুয়ার সংখ্যা আরও বাড়বে। স্মার্টফোন থেকে মুখ তুলে বইয়ের লেখা-ছবির প্রতি ঝোঁক বাড়বে ওদের।’