Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হুগলিতে ভাঙা মণ্ডপের বিষাদ মুছিয়ে দিল পুজোর শোভাযাত্রা

একগুচ্ছ ছবি। একটা কোলাজ। দশমীর পরেও ফিরিয়ে আনল পুজোর আমেজ।

হুগলিতে ভাঙা মণ্ডপের বিষাদ মুছিয়ে দিল পুজোর শোভাযাত্রা
  • ৫ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: একগুচ্ছ ছবি। একটা কোলাজ। দশমীর পরেও ফিরিয়ে আনল পুজোর আমেজ। পুজোর আনন্দ আরও একবার ফিরে পেয়ে মেতে উঠল ঠাসবুনোট ভিড়। পথ হল রঙিন, বাতাসে ভাসল সুগন্ধ, উড়ল হাজার প্রজাপতির রঙিন ফোয়ারা। দুর্গা এসেছে, উঠল আওয়াজ। মাতোয়ারা শ্রীরামপুরের রাজপথের নানা স্থানে ভিড় করে থাকা নাগরিকরা। সারি সারি প্রতিমা, নানা ড্রেস কোডে সজ্জিত পুজো উদ্যোক্তা, নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, জমজমাট পুজো কার্নিভাল উপভোগ করল হুগলি। প্রস্তুতি ছিল সবমহলেই। তৎপর ছিল প্রশাসন, আবেগঘন ছিলেন শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা, উদ্বেল ছিল দর্শক। তাই বোধহয় আবহাওয়াও সঙ্গত করেছিল অনবদ্য ছন্দে। মনোরম পরিবেশে মনোমুগ্ধকর আয়োজনে সম্পন্ন হল হুগলি জেলার দ্বিতীয়বারের পুজো কার্নিভাল। 

Advertisement

শনিবার দুপুরের পর থেকে ভিড় জমতে শুরু করেছিল শ্রীরামপুরের স্নানপিঁড়ি মাঠে। রাস্তাঘাট সেজে উঠেছিল অনাবিল আলোকসজ্জায়। পিচ রাস্তার কালো ক্যানভাসে ছিল সাদা থেকে রঙিন আলপনার ছাঁচ। দুপুরের পর থেকে যেমন দর্শকরা ভিড় জমাতে শুরু করেছিলেন, তেমনই আসতে শুরু করেছিল পুজো উদ্যোক্তাদের সুসজ্জিত বহর। পুরনো সাজে কিন্তু নতুন সজ্জায় সেজে থাকা প্রতিমা, উদ্যোক্তা এবং শোভাযাত্রাকারীদের বিশেষ সাজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের দল, ভিড় জমেছিল আনন্দমেলায়। আক্ষরিক অর্থেই তখন মেলার চেহারায় স্নানপিঁড়ির পরিচিত মাঠ। তাতে মাত্রা যোগ করেছিল ছৌ সহ নানা লোকায়ত অনুষ্ঠানের আয়োজন। মূলমঞ্চে উপস্থিত হতে শুরু করেছিলেন অতিথিরা, জেলাশাসক থেকে পুলিশ কমিশনার, সাংসদ, বিধায়ক। জিটি রোড ধরে বটতলা পর্যন্ত রাস্তা বিকেল গড়ানোর আগেই ভিড়ে ছয়লাপ। গরমের দাপটে ঘাম মুছেও দর্শকরা অপেক্ষা, আরও একবার পুজোর আনন্দ শুষে নেওয়ার জন্য। 
অমিতাভ বুদ্ধের শান্তির বাণী নিয়ে এসেছিল বন্ধুমহল ক্লাব, ছিল প্রবাসীর বর্ণময় আয়োজন। শ্রীরামপুরের পাঁচ ও ছয়ের পল্লির শোভাযাত্রা ছিল নজরকাড়া। অনুষ্ঠান মাতিয়ে দিতে ধুনুচি নাচ নিয়ে হাজির ছিলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ছিল আরামবাগের ঘোষপুকুর সর্বজনীন, মাহেশের বঙ্গলক্ষ্মী বাইলেন, শেওড়াফুলির শিশুরবি সংঘ। ছিল আরও হরেক নাম আর তাদের হরেক আয়োজনের মিছিল। 
এমনই সব ছোট ছোট ছবিকে ঘিরে ছিল ভিড়। সবমিলিয়ে এক মস্ত কোলাজ। দশভুজার বিদায় বেলাতেও ফের একবার আবাহনের আয়োজন ঘিরে ছিল অনন্ত উৎসাহ আর উল্লাসের পরিবেশ। রাতে আলোকমালায় সেজে উঠেছিল জিটি রোড। সুবেশ নারী, পুরুষ, শিশু, মধ্যবয়সীর চোখের সামনে আলোকিত, সুসজ্জিত পথে একে একে গড়িয়ে গিয়েছে শোভাযাত্রার সোনালি বহর। ভাঙা মণ্ডপের বিষাদকে মুছিয়ে দিয়েছে কার্নিভালের আয়োজন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ