Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পাটের দামেই জমে উঠবে পুজোর বাজার, কুইন্টাল পিছু এখন দর ৬৫০০-৭০০০ টাকা

মুর্শিদাবাদ জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল পাট। পাটের দামের উপরে অনেকটাই নির্ভর করে নবাবি মুলুকের পুজোর বাজার। বিগত বছরগুলিতে দেখা গিয়েছে, পাটের দাম কম থাকলে তার প্রভাব পড়েছে পুজোর বাজারে। কেনাকাটা কম হয়েছে।

পাটের দামেই জমে উঠবে পুজোর বাজার, কুইন্টাল পিছু এখন দর ৬৫০০-৭০০০ টাকা
  • ১৮ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল পাট। পাটের দামের উপরে অনেকটাই নির্ভর করে নবাবি মুলুকের পুজোর বাজার। বিগত বছরগুলিতে দেখা গিয়েছে, পাটের দাম কম থাকলে তার প্রভাব পড়েছে পুজোর বাজারে। কেনাকাটা কম হয়েছে। তবে এ বছর পাটের দাম অনেকটাই ভালো। ফলে পুজোর বাজারে ভিড়ের আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। ইতিমধ্যেই পুজোর শাড়ি ও পোশাকের স্টক করছেন বস্ত্র ব্যবসায়ীরা। ভালো বিক্রির আশা করছেন দোকানের কর্মী থেকে মালিকরা। জেলা কৃষিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, মুর্শিদাবাদ জেলায় এক লক্ষ আশি হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। প্রায় ৯০ শতাংশ জমির পাট উঠে গিয়েছে। পাট পচানোর জলের অভাব না থাকায় পাট তন্তুর মানও বেশ ভালো। মরশুমের শুরু থেকেই খোলা বাজারে প্রতি কুইন্ট্যাল সাড়ে ছয় হাজার থেকে সাত হাজার টাকা পাটের দাম মিলেছে। প্রথম দিকে পাট বাজারজাত করে অনেক চাষির মুখে হাসি ফুটেছে। মুর্শিদাবাদ ডিস্ট্রিক্ট চেম্বার অব কমার্সের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্বপন ভট্টাচার্য বলেন, এই জেলার অন্যতম অর্থকরী ফসল পাট। তার দামের উপরে পুজোর বাজার অনেকটাই নির্ভর করে। সেই পাটের দাম এবার ভালোই। এখন তো প্রতি কুইন্ট্যাল সাড়ে ছয় হাজার টাকা করে দাম পাচ্ছে চাষিরা। পাটের এই দামের উপর নির্ভর করে পুজোর বাজার ভালো হবে বলেই আশা করছি। 

Advertisement

তবে তিনি একটু আশঙ্কার কথাও শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, জেলার বেশ কয়েকটি ব্লকে এখন বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত জল না নামলে চাষের জমির অন্যান্য ফসলের ক্ষতি হবে। তাতেও বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বহরমপুরের অপর এক বস্ত্র ব্যবসায়ী অভিজিৎ চক্রবর্তী বলেন, আমরা তো সারা বছর ধরে এই পুজোর মাসের জন্য আমরা অপেক্ষা করে থাকি। চাষিরা পাটের দাম পেলে আমাদেরও সুবিধা হয়। পাট চাষিদের অর্থেই পুজোর বাজার উঠতে শুরু করে। এবার আশা করছি বিক্রি ভালোই হবে। নওদা ব্লকের পাটচাষি শেরফুল মণ্ডল বলেন, প্রথমদিকে বৃষ্টির অভাবে পাট গাছের বৃদ্ধি একটু কমে গিয়েছিল। জল সেচ দিয়ে পাট গাছ বাঁচিয়ে রেখেছিলাম। তবে মাঝের সময় থেকে যে হারে বৃষ্টি হয়েছে তাতে আর অসুবিধা হয়নি। এবার অতিবৃষ্টির জন্য পাট পচানো নিয়েও কোনও সমস্যা হয়নি। প্রথমদিকে কিছুটা পাট বাজারজাত করে ভালোই দাম পেয়েছি। বাকি ফসলও খুব তাড়াতাড়ি বিক্রি করে দেব। 
কুইন্টাল পিছু সাত হাজারের কাছাকাছি দাম পাচ্ছি। নবগ্রামের অপর এক চাষি শম্ভু মণ্ডল বলেন, এবছর ফলন ভালো। পাটের দামও ভালো রয়েছে। আগামী সপ্তাহেই ফসল বাজারজাত করব। যা লাভ হবে তাতেই পুজোর বাজার হবে। পাশাপাশি রবি মরশুমে চাষের জন্য আগাম জমি প্রস্তুত করতে হবে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ