Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাস-অটো ধরার জো নেই পুজোপ্রেমীদের, প্যান্ডেল হপিংয়ে উত্তর কলকাতা ওয়াকিং সিটি

ঝলমলে আলোর মাঝে হাসছেন ফুচকাওয়ালা। বিক্রি ভালো বলে খেলনাওয়ালাও খুশি

বাস-অটো ধরার জো নেই পুজোপ্রেমীদের, প্যান্ডেল হপিংয়ে উত্তর কলকাতা ওয়াকিং সিটি
  • ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অর্ক দে, কলকাতা: ঝলমলে আলোর মাঝে হাসছেন ফুচকাওয়ালা। বিক্রি ভালো বলে খেলনাওয়ালাও খুশি। ঠাকুর দেখার সঙ্গে মণ্ডপের বাইরের রাস্তায় দিনভর টুকটাক কেনাকাটা। একটা কানের দুল। কিংবা গলার হার। একটা ব্যাগ। হয়তো খুব একটা প্রয়োজনীয় কিছু নয়। তবু ‘খুব পছন্দ হয়েছে তো’ বয়ফ্রেন্ডকে বললেন লেকটাউনের তরুণী। এক মণ্ডপ থেকে আর এক মণ্ডপে ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ হাতে তুলে নেওয়া ভেঁপু। রাতভর প্যাঁ পোঁ। ঠাকুর দেখা, খাওয়াদাওয়া, সিনেমা দেখা-সবমিলিয়ে ষষ্ঠীতে উত্তরের পুজো প্যান্ডেল জমজমাট। জনতার ঢল দেখে মনে হয়, কলকাতা যেন ‘ওয়াকিং টাউন’।

Advertisement

বাগবাজার, কুমোরটুলি পার্ক, হাতিবাগান সর্বজনীন, কাশী বোস লেন, সিকদার বাগান, উল্টোডাঙা সংগ্রামী কিংবা তেলেঙ্গাবাগানের রাস্তায় কার্যত বসে গিয়েছে মেলা। বিধান সরণি, অরবিন্দ সরণি কিংবা বাগবাজার স্ট্রিটের মতো রাস্তা সম্পূর্ণ ভিড়ের দখলে। বহু রাস্তায় গাড়ি চলাচল বন্ধ। সবমিলিয়ে পুজোর ক’দিন ক্রমশ ‘ওয়াকিং টাউন’ হয়ে উঠছে কলকাতা। অন্যদিকে, নিউ মার্কেট কিংবা হাতিবাগানে ষষ্ঠীতেও দেদার কেনাকাটা চলল। সেই সঙ্গে সিনেমা দেখারও ধুম। হাতিবাগানে বিনোদিনী থিয়েটারের বাইরে হাউসফুলের বোর্ড ঝুলল। বাগবাজার বা টালা প্রত্যয়, টালা বারোয়ারি বা হাতিবাগান সর্বজনীন, নবীন পল্লি থেকে কাশী বোস লেন, তিল ধারণের জায়গা নেই। ফুচকা, চিকেন পকোড়া বা কাবাব খেয়ে ‘লেবুতলা পার্ক নাকি পাথুরিয়াঘাটা,’ কোথায় যাওয়া হবে তা নিয়ে চলছে জোর তর্ক।
যষ্ঠীতে রাত যত বেড়েছে, পুজোর আমেজে ততই বেশি রং ধরেছে। তেলেঙ্গাবাগান, গৌরীবাড়ি, করবাগান, উল্টোডাঙা সংগ্রামী, কাঁকুড়গাছি যুবকবৃন্দের পুজোতে ঠাসা ভিড়। অনেকেরই বক্তব্য, ‘হাতিবাগানে কলকাতার ঘাটের ইতিহাসের প্যান্ডেল জাস্ট অনবদ্য। আর কাশী বোস লেনের লীলা মজুমদার থিমও ফাটাফাটি। বাচ্চারা আনন্দ পাচ্ছে খুব।’ বাগবাজার সর্বজনীনে এসে গড়িয়ার সঞ্চিতা, রূপসা, মনোজিৎ, সুখেন্দুরা বলেন, ‘উত্তরের সাবেকি পুজো নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে গত কয়েক বছর ধরে।’ হাতিবাগান সর্বজনীনের পুজোকর্তা শাশ্বত বসু বলেন, ‘থিমের বিভিন্নতা উত্তরে নতুন ট্রেন্ড সেট করেছে। পুজো তো সবে শুরু। এখনও গোটা সিনেমা বাকি। ভিড় আরও বাড়বে।’ সোনারপুর থেকে টালা প্রত্যয়ে এসেছিলেন কলেজ ছাত্রী মাম্পি, স্বর্ণালীরা। বললেন, ‘এরপর বাগবাজার, তারপর হাতিবাগান, শেষে লেবুতলা পার্ক দেখে ভোরে বাড়ি ফিরব।’ 
প্যান্ডেলের গান-পুলিশের ঘোষণা-মানুষের কথা-ভেঁপুর শব্দ, ওয়াকিং সিটি রাতভর মুখর। নিরাপত্তার কড়াকড়ি রাস্তায় রাস্তায়। ‘ডান দিক দিয়ে যান,’ ‘বাঁদিক ধরে এগন’-পুলিশের লাগাতার ঘোষণা। সব কিছু নিয়ে গোটা উত্তর কলকাতা কার্নিভাল চত্বরে পরিণত। নতুন জামা, চুড়িদার, পাটভাঙা শাড়ি-প্যান্টের গন্ধ ছড়িয়ে গিয়ে মিশেছে ছাতিমের গন্ধে। নতুন জুতোয় পায়ে ফোস্কা। হেঁটে পা ক্লান্ত। গরমে জামা ঘামে ভিজে। তবু মন ভালো। মেজাজ খুশ আট থেকে আশির। কোথাও গোল করে কাল-পরশুর কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা সেরে নিচ্ছেন তরুণ-তরুণীরা। সময় থমকে যাচ্ছে মণ্ডপে ঢোকার আগের লাল সিগন্যালে। তীব্র যানজটে ঘাম টপটপ করে ঝরছে। কিন্তু তাতে কী? 
সারা বছরের দুঃখ, কষ্ট, অফিসের ঝামেলা, টার্গেট পূরণের টেনশন। পুজো এসে সব দিয়েছে ভুলিয়ে। সব পিছনে ফেলে এই ক’দিন শুধুই দুর্গা। ওয়াকিং সিটিতে ভিড়ের স্রোতে গা ভাসিয়ে শুধুই হাঁটা। তখন মাইকে, ‘দুগ্গা এল, দুগ্গা এল, ভুবনমোহিনী আমার ভুবন করিল আলো, দুগ্গা এল...’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ