নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: প্রবল বৃষ্টিতে বানভাসি কলকাতা। পুজোর আনন্দ মাটি হওয়ার জোগাড়। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের, শহরে রাস্তার জমা জলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একের পর এক মানুষের মৃত্যু। ঘটনার পরই শিল্পাঞ্চলে এনিয়ে বাড়তি সতর্কতা শুরু করে দিল জেলা প্রশাসন। পঞ্চমী থেকেই বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তাই জেলাশাসক এবারের পুজোয় বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন। বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর, সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদের বর্ষার মতোই পুজোর সময়ও চূড়ান্ত সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা বিশেষ টিম নিয়ে নির্দিষ্ট এলাকায় থাকবেন। যাতে যেকোনও বিপর্যয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া যায়।
কলকাতায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনা থেকে বাড়তি সতর্ক হচ্ছে ডব্লুবিএসইডিসিএল। শহরে বিভিন্ন জায়গায় বিপজ্জনক অবস্থায় পড়ে থাকা বিদ্যুতের খোলা তার চিহ্নিত করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বড় পুজো কমিটিগুলিকে সতর্ক করা হচ্ছে। পাশাপাশি, মোবাইল ভ্যানের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এবছর কলকাতা যে ঘটনার সাক্ষী থাকল, ২০২১ সালে আসানসোল সেই ঘটনার সাক্ষী হয়েছে। অতি বর্ষণে শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা ভেসে গিয়েছিল। জলের তোড়ে ভেসে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছিল। সেই সময় শহরের লাইফ লাইন গাড়ুই নদীর সংস্কারের অভাব সামনে আসে।
এদিন কলকাতার ঘটনা শিল্পাঞ্চলবাসীর মনে সেই স্মৃতিকেই উস্কে দিয়েছে। চার বছর পরেও শহর এখন কতটা প্রস্তুত, তার পরীক্ষা হয়নি। যদিও এবছর প্রবল বর্ষণেও বড় বিপর্যয় হয়নি। এর জন্য গাড়ুই নদী সংস্কার করার কৃতিত্ব দাবি করেছেন আসানসোলের মেয়র বিধান উপাধ্যায়। তা সত্ত্বেও কলকাতার ঘটনার পর জেলা প্রশাসন কোনওরকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না। তাই পুরসভা থেকে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর, স্বাস্থ্যদপ্তর সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পঞ্চমী থেকে নিম্নচাপের বৃষ্টি কতটা তাণ্ডব করে সেদিকে নজর রাখছে জেলা প্রশাসন। জেলাশাসক পোন্নমবলম এস বলেন, বর্ষাকালে যেভাবে প্রস্তুত থাকা হয়, আমরা সেইভাবেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। বিভিন্ন জায়গায় টিম মোতায়েন থাকবে।
ডব্লুবিএসইডিসিএলের রিজিওনাল ম্যানেজার সোহেল হাসান বলেন, যেসব জায়গায় রাতে রক্ষণাবেক্ষেণ করার জন্য মোবাইল ভ্যান নেই, সেখানে নতুন করে তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। রাস্তার পাশে থাকা বিদ্যুতের তার বা বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ঝুঁকিপূর্ণভাবে রয়েছে কি না, তা দেখা হচ্ছে।