নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: এবার শিলিগুড়ি শহরে পুজোর ভিড় সামলাতে নয়া উদ্যোগ পুলিসের। পুজো উদ্যোক্তাদের থেকে স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে ‘পুজো বন্ধু’ তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিটি পুজো কমিটি থেকে ১০ জন করে স্বেচ্ছাসেবক বা ভলান্টিয়ার নিয়ে তাঁদেরই ভিড় সামলাতে পুজো মণ্ডপে ও সংলগ্ন রাস্তায় নামাবে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিস। এজন্য তাঁদের দেওয়া হবে বিশেষ প্রশিক্ষণ। তাই পাঁচদিনের মধ্যে প্রত্যেক পুজো উদ্যোক্তাকে তাদের কমিটির ১০ জনের নাম পুলিসের কাছে জমা করতে বলা হয়েছে। সোমবার দীনবন্ধু মঞ্চে শিলিগুড়ির পুজো কমিটিগুলির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এমনটাই জানিয়ে দিয়েছেন শিলিগুড়ির মেট্রোপলিটন পুলিস কমিশনার সি সুধাকর।
সিপি বলেন, প্রত্যেক পুজো উদ্যোক্তাদের থেকে ১০ জন সদস্যের নাম নেব। তাঁদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর কাজে লাগাব। এর ফলে পুজো কমিটি ও পুলিসের মধ্যে সমন্বয় থাকবে। ভিড় নিয়ন্ত্রণ সহ অন্যান্য কাজও সুষ্ঠুমতো করা যাবে।
শিলিগুড়ি শহরের দক্ষিণ প্রান্তে সেন্ট্রাল কলোনির দুর্গাপুজো থেকে উত্তরে চম্পাসারির শ্রীগুরু বিদ্যামন্দিরের মাঠে উত্তর মাল্লাগুড়ি-সর্বত্রই বিগ বাজেটের পুজো দেখতে ভিড় উপচে পড়ে। পুজো মণ্ডপ পর্যন্ত পৌঁছতে লোকজন মূল রাস্তার পরিবর্তে অলিগলি বেশি পছন্দ করেন। ফলে গলিপথেও যানজট হয়। ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় স্বেচ্ছাসেবক থেকে শুরু করে পুলিসকে। মণ্ডপের সামনে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে ভিড় ঠেলে ভিতরে ঢুকতে হয়। সেখানে আবার এক মিনিটও দাঁড়াতে দেওয়া হয় না দর্শনার্থীদের। এসব সমস্যা কী করে লাঘব করা যায়, তারজন্যই তৎপর হয়েছে পুলিস।
শহরের যেসব ক্লাব বড়মাপের পুজো করে, মূলত তাদের নিয়েই এদিন বৈঠক করেন পুলিস কমিশনারেটের শীর্ষ আধিকারিকরা। শহরের প্রায় সবক’টি বিগ বাজেটের পুজো উদ্যোক্তা বৈঠকে এসেছিলেন। তাদের দিক থেকেও বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়। এরপরই ঠিক করা হয় ‘পুজো বন্ধু’ বানিয়ে ভিড় সামলানো হবে।
আজ, মঙ্গলবার থেকে পাঁচদিনের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবকদের নাম নেওয়ার কথা সিপি জানিয়েছেন। ওই স্বেচ্ছাসেবকদের দু’দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আগুন লাগলে কীভাবে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ব্যবহার করতে হবে, ভিড়ে কেউ অসুস্থ বোধ করলে কীভাবে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে, সেসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
পুলিস কমিশনার আরও জানিয়েছেন, মহিলা পরিচালিত দুর্গা পুজোগুলির মধ্যে থেকে তিনটি পুজোকে বেছে নিয়ে পুরস্কার দেওয়া হবে। ‘পুজো বন্ধু’ ছাড়াও পুজোর সময় মূলত যেসব জায়গায় বেশি ভিড় হয়, সেখানে উর্দিধারী এবং সাদা পোশাকের অতিরিক্ত পুলিস থাকবে। স্নিফার ডগ কাজে লাগানো হবে। উইনার্স বাহিনীও কাজ করবে। সবরকম অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে থাকবে বিশেষ নজরদারি। পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকে পুলিশ কমিশনার। - নিজস্ব চিত্র।