নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: কোনা এক্সপ্রেসওয়ের উপর এলিভেটেড করিডরের কাজ শুরু হওয়ায় গুরুত্ব বেড়েছে হাওড়া-আমতা রোডের। পণ্যবাহী ভারী গাড়ি দিনের একটি সময়ে এই রাস্তা দিয়েই ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে চলছে হাওড়া-আমতা রোড সম্প্রসারণের কাজও। বেহাল রাস্তায় যানজট পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সেজন্য পুজোর আগেই রাস্তার মেরামতির কাজ শেষ করতে তৎপর পূর্তদপ্তর। গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলিকে বেছে নিয়ে বিটুমেনের পরিবর্তে রাস্তা সংস্কারে ব্যবহার করা হচ্ছে কংক্রিটের ব্লক।
হাওড়া শহরের সঙ্গে গ্রামীণ এলাকার যোগাযোগের অন্যতম রাস্তা হাওড়া-আমতা রোড। সলপ, ডোমজুড়, মাকড়দহ, জগৎবল্লভপুর, বড়গাছিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষ এই রাস্তার উপরেই নির্ভরশীল। রোজ শতাধিক বাসের পাশাপাশি হাজার হাজার বাইক, লরি চলাচল করে এখানে। প্রতিনিয়ত ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে হাওড়া-আমতা রোডের অধিকাংশই বড় বড় খানাখন্দে ভরেছে। বর্ষাকালে সেখানে জল জমে কমে যাচ্ছে যানবাহনের গতি। এই পরিস্থিতিতে রবিবার থেকেই কোনা এক্সপ্রেসওয়ের উপর সকাল ছ’টা থেকে রাত এগারোটা পর্যন্ত পণ্যবাহী ভারী যান চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। মুম্বই রোড থেকে কলকাতাগামী ট্রাক, লরিগুলিকে হাওড়া-আমতা রোড হয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে যান চলাচলের চাপ আরও বেড়েছে এই রাস্তায়।
ইতিমধ্যেই মাকড়দহ থেকে ডোমজুড় পার করে হাওড়া-আমতা রোডের প্রায় ১৪ কিলোমিটার রাস্তা চওড়া করার কাজ চলছে। এই কাজের পাশাপাশি পুজোর আগে বেহাল রাস্তার সংস্কারে জোর দিয়েছে পূর্তদপ্তর। এই রাস্তার ছ’টি গুরুত্বপূর্ণ অংশ চিহ্নিত করে সেখানে বিটুমেনের পরিবর্তে কংক্রিটের ব্লক বসানো হচ্ছে। জেলা পূর্তদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, হাওড়া-আমতা রোডের কিছু জায়গায় ভূস্তর নিচু হওয়ার কারণে যানবাহনের চাপে অনেক সময় রাস্তা বসে যাচ্ছে। সেখানেই সবথেকে বেশি জল জমছে। সে কারণেই এই জায়গাগুলোয় কংক্রিট ব্লক ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে রাস্তার স্থায়িত্ব অনেক বাড়বে।
প্রসঙ্গত, হাওড়া-আমতা রোডের ডোমজুড় বাজার, মাকড়দহ মোড়, বড়গাছিয়া এলাকায় রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য জমি পায়নি পূর্তদপ্তর। বাধ্য হয়ে সেই অংশগুলোতে রাস্তা আগের মতোই সাত মিটার চওড়া রাখতে হচ্ছে। এতে যানবাহনের গতি সেই জায়গাগুলোতে বাধাপ্রাপ্ত হবে বলে মনে করছে দপ্তর।