Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দাঁইহাটের দমকল কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে হস্তান্তর করল পূর্তদপ্তর, খুশি বাসিন্দারা

দাঁইহাটে শেষমেশ দমকল কেন্দ্র গড়ার কাজ শেষ হল।  খরচ হয়েছে প্রায় সোয়া ৪ কোটি টাকা। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর দাঁইহাট শহরে দমকল কেন্দ্র গড়ে ওঠায় খুশি বাসিন্দারা। জমিজটের কারণে অনেকদিন ধরেই আটকে ছিল দমকল কেন্দ্র নির্মাণের কাজ।

দাঁইহাটের দমকল কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে হস্তান্তর করল পূর্তদপ্তর, খুশি বাসিন্দারা
  • ২৪ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: দাঁইহাটে শেষমেশ দমকল কেন্দ্র গড়ার কাজ শেষ হল।  খরচ হয়েছে প্রায় সোয়া ৪ কোটি টাকা। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর দাঁইহাট শহরে দমকল কেন্দ্র গড়ে ওঠায় খুশি বাসিন্দারা। জমিজটের কারণে অনেকদিন ধরেই আটকে ছিল দমকল কেন্দ্র নির্মাণের কাজ। রবিবার পূর্তদপ্তর সেটি হস্তান্তর করল দমকল বিভাগকে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের দমকল বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর রতন হালদার। তিনি বলেন, আমরা শীঘ্রই নতুন ফায়ার স্টেশনের কাজ শুরু করব। কেন্দ্রটি হস্তান্তর করা হয়েছে আমাদের। 

Advertisement

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের মধ্যে একটি দমকল কেন্দ্র গড়ার দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। দমকল কেন্দ্র হলে শুধুমাত্র শহরবাসীই নন, দাঁইহাটের পার্শ্ববর্তী গ্রামীণ এলাকার মানুষরাও উপকৃত হবেন। ৪৭.০৮ শতক জায়গার ওপর গড়ে উঠছে এই দমকল কেন্দ্র। পুরসভার দেওয়া জমির ওপর দ্বিতলবিশিষ্ট দমকল কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। এলাকাবাসীর বহুদিনের চাহিদা ছিল দাঁইহাটে একটি দমকল কেন্দ্র নির্মাণের। সেই দাবি পূরণ হওয়ায় খুশি স্থানীয়রা। ২০১৪ সালে প্রথম দাঁইহাট পুরসভার পক্ষ থেকে এলাকায় দমকল কেন্দ্র গড়তে চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। প্রস্তাবিত দমকল কেন্দ্রের জন্য দাঁইহাট শহরে ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সিনেমা হলের পাশে ট্রেঞ্চিং গ্রাউন্ডে ৪৭.০৮ শতক বা প্রায় দেড় বিঘা জমি ঠিক করে রাখা হয়েছিল।  ওই জমি  ছিল পুরসভার। এরপর  ২০১৭ সালে রাজ্য সরকারের অর্থদপ্তর দমকল কেন্দ্র গড়ার জন্য সবুজ সঙ্কেত দেয়। এরজন্য  ৪ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দ ঘোষণা করা হয়। পুরসভা থেকে বলার পর ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে পূর্তদপ্তর থেকে প্রতিনিধিদল জমি পরিদর্শন করে যায়। এরপর  প্রকল্পের স্কেচ তৈরি করা, মাটি পরীক্ষা করা সবই হয়ে যায়। কিন্তু সরকারিভাবে জমি হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়ায় নির্মাণ কাজ আটকে ছিল। তারপর পুরসভা থেকে ওই জমি নিয়ম মেনে হস্তান্তর করা হয় গত বছর। তারপরেই কাজ শুরু হয়ে যায়। এমনিতেই দাঁইহাট শহর এলাকায় জনবসতি উত্তরোত্তর বাড়ছে। শহরের আশপাশে গ্রামীণ এলাকাগুলিও জমজমাট হচ্ছে। অথচ এই এলাকায় দমকল কেন্দ্র ছিল না। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে কাটোয়া দমকল কেন্দ্রের ওপরেই নির্ভর করতে হয়। তাই দাঁইহাট শহর এলাকায় দমকল কেন্দ্র নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা বারবার জানাচ্ছিলেন এলাকাবাসী। অবশেষে সেই দাবি পূরণ হল। 
তবে এদিন দমকল পুরসভাকে না জানিয়েই হস্তান্তর প্রক্রিয়া করেছে বলে অভিযোগ। তাতে ক্ষুব্ধ পুরসভা। চেয়ারম্যান প্রদীপ রায় বলেন, আমরা জমি দিলাম। আমরা সমস্ত কিছুতে কাজ করলাম। অথচ কার্যত চুপিসারেই হস্তান্তর প্রক্রিয়া হল। বাসিন্দাদের জন্য ভালো হচ্ছে দমকল কেন্দ্র তৈরি হওয়ায়। পুরসভার পক্ষ থেকেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। রাজ্য সরকারের কাছে অর্থ বরাদ্দ থেকে সব কিছুতেই পুরসভা ছিল। অথচ হস্তান্তরের সময় সেই পুরসভাই ব্রাত্য রইল। এ নিয়ে কাটোয়ার দমকল কেন্দ্রের এক অফিসার অনিল ঘোষ বলেন, এখন শুধু হস্তান্তর হয়েছে, উদ্বোধন হয়নি। এর বেশি কিছু বলতে পারব না। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ