সংবাদদাতা, মানবাজার: পুরুলিয়ার মানবাজার গ্রামীণ হাসপাতাল চত্বর ভরে গিয়েছিল ঝোপঝাড়ে। বুজে গিয়েছিল নিকাশি নালাগুলি। নষ্ট হচ্ছিল হাসপাতালে পরিবেশ। বাড়ছিল মশার উপদ্রব। তাই হাসপাতাল চত্বর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে কোদাল হাতে সাফাই অভিযানে নামলেন বিশরী গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। মঙ্গলবার সকালে মানবাজার ১ ব্লকের বিশরী গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সজ্জিতা বেসরার উদ্যোগে সাফাই কর্মসূচি হয়। সাফাই কর্মসূচিতে প্রধানের সঙ্গে ছিলেন মানবাজার ১ পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি দিলীপ পাত্র। তিনি ছাড়াও ওই অঞ্চলের অনেকেই সাফাই অভিযানে হাত লাগান। উপস্থিত ছিলেন মানবাজারের বিএমওএইচ মৃণাল সিং সর্দারও।
প্রধান সজ্জিতা বেসরা বলেন, হাসপাতাল চত্বর ঝোপঝাড়ে ভরে গিয়েছিল। নষ্ট হচ্ছিল পরিবেশ। সামনেই বর্ষার মরশুম। এ সময় মশাবাহিত ডেঙ্গু ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব হয়। বর্ষার আগে হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন রাখতে এদিন হাসপাতাল চত্বরের ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা হয়। নিকাশি নালাগুলি পরিষ্কার করা হয়। যাতে জল জমে মশার বংশবৃদ্ধি না হয়।
জানা গিয়েছে, ২০১৭ সালের মানবাজার মহকুমা ঘোষণা হলেও এখনও তৈরি হয়নি মহকুমা হাসপাতাল। আশেপাশে নেই তেমন কোনও বড় হাসপাতালও। তাই মানবাজার গ্রামীণ হাসপাতালে এখনও বহু মানুষ চিকিৎসা করাতে আসেন। হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তিও থাকেন অনেকেই। হাসপাতলে প্রতিদিন গড়ে একটি থেকে দু’টি সন্তানও প্রসব হয়। ওই হাসপাতালে চত্বর ভরে উঠেছিল ঝোপঝাড়ে। এতেই হাসপাতালের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল। সমস্যা হচ্ছিল চিকিৎসা করতে আসা মানুষগুলির। একথা মাথায় রেখে হাসপাতালে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন করতে উদ্যোগী হন স্থানীয় বিশরী গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। তার উদ্যোগেই এদিন হাসপাতালের ইমার্জেন্সি, বহির্বিভাগ সহ সমস্ত জায়গার জঞ্জাল সাফাই করা হয়। সেই সঙ্গে জঞ্জালে বুজে যাওয়া নিকাশি নালাগুলিও পরিষ্কার করা হয়। মশার উপদ্রব কমাতে ড্রেনগুলোতে ব্লিচিং পাউডারও ছড়ানো হয়।
এদিন প্রধান ছাড়াও ওই এলাকার বহু মানুষকে হাতে গ্লাভস পরে হাসপাতাল সাফাই করতে দেখা যায়। মানবাজার ১ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি দিলীপ পাত্র জানান, হাসপাতলে প্রতিদিন বহু মানুষ চিকিৎসা করাতে আসেন। চত্বর অপরিচ্ছন্ন থাকায় তাঁদের অসুবিধা হয়। এই কারণে সাফাই অভিযান। তিনি বলেন, এদিন ওই অঞ্চলের প্রায় শ’ খানেক মানুষ স্বেচ্ছায় হাসপাতাল চত্বর পরিষ্কারে হাত লাগান।
সাফাই অভিযানে উপস্থিত ছিলেন মানবাজার গ্রামীণ হাসপাতালের বিএমওএইচ মৃণাল সিং সর্দার। তিনি বলেন, সামনেই বর্ষা। এ সময় মশাবাহিত রোগ বাড়ে। তাই এই সময়ে হাসপাতাল চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা খুবেই জরুরি। হাসপাতালের কাছে সাফাইয়ের জন্য সেরকম ফান্ড সবসময় থাকে না। বিশরী গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান উদ্যোগে এদিন সাফাই করা হয়েছে। এটা খুবেই ভালো উদ্যোগ। এতে হাসপাতালে পরিবেশ ঠিক থাকবে। মশার উপদ্রব কমবে। হাসপাতাল চত্বর অনেকটাই পরিষ্কার হওয়াতে খুশি রোগী থেকে শুরু করে তাঁদের পরিজনরা। সকলেই প্রধানের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।



