সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ভাইয়ের হাতে রাখী পরাবে বোন। তার কতই না আয়োজন। ভাই-বোনের এই উৎসবকে হাতিয়ার করে ছাব্বিশের ভোটের আগে জনসংযোগের সুযোগ হারাতে নারাজ শাসক ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। শনিবার রামপুরহাট শহরের পথচারীদের রাখী পরিয়ে সম্প্রীতির বার্তা দিতে ত্রুটি রাখলেন না তৃণমূল ও বিজেপির নেতারা। বর্তমানে সামাজিক এই উৎসব রাজনৈতিক জনসংযোগের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। কারণ পুজোর পরেই ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে যাবে। তাই সব দলই রাখীবন্ধন উৎসবকে সামনে রেখে জনসংযোগে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
এদিন সকাল থেকেই রামপুরহাট শহরের প্রাণকেন্দ্র পাঁচমাথা মোড়ে ছিল সাজসাজ রব। সেখানে মঞ্চে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও নজরুল ইসলামের প্রতিকৃতি রেখে পুরসভার যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া বিভাগের তরফে চন্দনের ফোঁটা দিয়ে রাখীবন্ধন উৎসব পালন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, মহকুমা শাসক সৌরভ পান্ডে, পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন ভকত সহ কাউন্সিলাররা। সেখানে রাখী পরিয়ে মিষ্টিমুখ করানো হয়। সমবেত কণ্ঠে রাজ্য সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়।
একইভাবে পাঁচমাথা মোড়ে শহর তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে সংস্কৃতি দিবস উদ্যাপন করা হয়। সেখানে দলের জেলা চেয়ারম্যান আশিসবাবুকে রাখী পরিয়ে দেন মহিলা সংগঠনের সদস্যরা। পাশাপাশি পথচলতি মানুষের হাতে রাখী পরিয়ে ঐক্যের বার্তা দেওয়া হয়।
এদিন শহরের কামারপট্টি মোড়ে রাখীবন্ধন উৎসবের আয়োজন করে বিজেপি। সেখানে দলের মহিলা কর্মীরা জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহার হাতে রাখী পরিয়ে দেন। এরপর পথচলতি মানুষের হাতে রাখী পরিয়ে তাঁরা মিষ্টিমুখ করান। ওই রাস্তা দিয়ে আসছিলেন তৃণমূলের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার প্রিয়নাথ সাউ, থানার আইসি। তাঁদের রাখী পরিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন গেরুয়া শিবিরের নেতা-কর্মীরা। ধ্রুববাবু বলেন, বাংলা বিরোধী শক্তির হ্রাস হোক। বাঙালি ও বাংলার সম্মান অক্ষুন্ন থাকুক। বাংলার কন্যারা সুরক্ষিত থাকুক। এই উৎসবে সকলের হাতে রাখী পরিয়ে এই কামনা জানালাম।
আশিসবাবু বলেন, বিজেপি রাখীবন্ধন উৎসবের তাৎপর্যই বোঝে না। কেন কবিগুরু এই উৎসবের সূচনা করেছিলেন, তারা কী জানে। আসলে সামনে বিধানসভা নির্বাচন, সেই জন্যই তারা রাখীবন্ধন উৎসবে নেমেছে। এরা বাংলার পক্ষে নয়, বাংলার বিরুদ্ধেই কথা বলছে। পাইকরের দু’টি পরিবারের ছ’জনকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হল। পরিযায়ী শ্রমিকদের আটকে মারধর করা হচ্ছে, তা নিয়ে বিজেপি কিছু বলছে না। ওদের সমস্তটাই নাটক। ওরা যে লক্ষ্য নিয়ে রাখীবন্ধন উৎসবে মাঠে নেমেছে, তা কোনওদিন পূরণ হবে না। নির্বাচনের ফলাফলেই টের পাবে। এদিকে নানুরে ব্লক প্রশাসনের উদ্যোগে সংস্কৃতি দিবস পালন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ, বিধায়ক বিধান মাজি, বিডিও সন্দীপ সিংহরায় প্রমুখ। তাঁরা পথচলতি মানুষকে রাখী পরিয়ে সম্প্রীতির বার্তা দেন। একইভাবে লাভপুরেও সাধারণ মানুষকে রাখী পরিয়ে মিষ্টি মুখ করান বিধায়ক অভিজিৎ সিংহ। সিউড়ি-১ ব্লকের কালীপুর আইসিডিএস সেন্টারে যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে রাখীবন্ধন উৎসব পালিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক বিধান রায়। এছাড়া অভয়ার ন্যায় বিচারের দাবিতে মল্লারপুরে রাখীবন্ধন উৎসব পালন করে সিপিএম। প্রতিটি থানায় পুলিসের তরফেও দিনটি পালন করা হয়।
বিধানসভার ডেপুটি স্পিকারের হাতে রাখি পরিয়ে দিচ্ছেন দলের এক মহিলা কাউন্সিলার। -নিজস্ব চিত্র