Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দোকান উদ্বোধনের পরই জনরোষ, পুড়িয়ে দিল আট লক্ষ টাকার মদ

লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদের কাউন্টার খোলার দিনেই ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠল ভগবানপুর-১ ব্লকের চড়াবাড় গ্রাম।

দোকান উদ্বোধনের পরই জনরোষ, পুড়িয়ে দিল আট লক্ষ টাকার মদ
  • ১৮ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদের কাউন্টার খোলার দিনেই ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠল ভগবানপুর-১ ব্লকের চড়াবাড় গ্রাম। সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ কোটবাড় গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন চড়াবাড় গ্রামের সীতেশ পণ্ডিতের বাড়ি ঘিরে ফেলে প্রায় একশো পুরুষ ও মহিলা। উদ্বোধনের দিনই কাউন্টারের ভিতর থেকে প্রায় আট লক্ষ টাকার মদ বাইরে বের করে আনা হয়। বেশকিছু বোতল আছাড় মেরে ভাঙা হয়। তারপর তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ওই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। আশপাশ এলাকা থেকেও প্রচুর লোকজন সেখানে জড়ো হন।

Advertisement

চড়াবাড় গ্রামের বাসিন্দা সীতেশ পণ্ডিতের ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদ ব্যবসায়ী। দীঘাতেও তাঁর মদের দোকান আছে। এছাড়াও ছ’জায়গায় কাউন্টার রয়েছে। ওই ব্যবসায়ী একজন এজেন্ট রেখে চড়াবাড়ে নতুন একটি কাউন্টার খুলতে চেয়েছিলেন।  ওই দোকানের কাছেই রয়েছে চড়াবাড় গার্লস হাইস্কুল। একটু দূরে গ্রামের প্রাইমারি স্কুল। গ্রামের লোকজন মদের দোকানের জন্য ঘরভাড়া না দেওয়ার আবেদন জানিয়ে ছিলেন। কিন্তু তিনি শোনেননি। 
শুক্রবার সেই কাউন্টারের উদ্বোধন হয়। প্রায় আট লক্ষ টাকার মদ মজুত করা হয়েছিল। মদের দোকান আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আশপাশ এলাকা থেকে লোকজন জড়ো হন। তাঁরা বিক্ষোভ দেখান। তারপর দোকানে ঢুকে সমস্ত মদের বোতল বের করে বাইরে এনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ওই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মেয়েদের স্কুলের সামনে কেন মদের কাউন্টার খোলা হবে, তা নিয়ে ক্ষুব্ধ মানুষজন স্লোগানও দেন।
এলাকার বাসিন্দারা বলেন, মুদি দোকানের মতো অলিগলিতে মদের কাউন্টার খোলা হচ্ছে। ১৬-১৭ বছর বয়সী স্কুল পড়ুয়ারাও মদে আসক্ত হয়ে পড়ছে। খেটে খাওয়া মানুষজন সারা দিনের রোজগারের টাকা মদের দোকানে খরচ করছে। এরফলে গার্হস্থ্য হিংসা বাড়ছে। এই হিংসা বন্ধ করতে হলে মদ বিক্রির উপর নিয়ন্ত্রণ জরুরি। এলাকার মহিলারা এটা ভালো বুঝতে পেরেছেন। তাই তাঁরা চড়াবাড়ে নতুন করে কোনও মদের দোকান খুলতে দিতে রাজি নন।
এনিয়ে কোটবাড় গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সৌমেন বেরা বলেন, সীতেশবাবুকে মদের কাউন্টারের জন্য ঘরভাড়া না দেওয়ার আর্জি জানিয়েছিলেন গ্রামবাসীরা। কিন্তু, তিনি তাঁদের আপত্তি অমান্য করে মদের কাউন্টার খোলার জন্য ঘরভাড়া দেন। যেকারণে শুক্রবার কাউন্টার চালুর দিন ঝামেলা হয়। মদের বোতল এক জায়গায় জড়ো করে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। বাড়ির মালিক সীতেশ পণ্ডিত বলেন, আমি অশোক সিংহ নামে একজনকে বাড়ি ভাড়া দিয়েছিলাম। যদিও কাউন্টার চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হয় আরেকজনকে। তবে, শুক্রবারের ঘটনার পর বুঝতে পারছি, এখানে মদের কাউন্টার করা যাবে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ