সংবাদদাতা, কাঁথি: পটাশপুর থানার পঁচেট এলাকায় যুবককে গলা কেটে খুনের ঘটনায় নয়া মোড়। এই ঘটনায় মৃত দীপঙ্কর গিরির(৩৩) স্ত্রী লক্ষ্মী গিরি মাইতিকে এবার গ্রেপ্তার করল পুলিস। বুধবারই পুলিস এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত তথা লক্ষ্মীর প্রাক্তন স্বামী তাপস মাইতিকে মহারাষ্ট্র থেকে গ্রেপ্তার করেছিল। তাপসকে ছয় দিনের হেফাজতে নিয়ে পুলিস জিজ্ঞাসাবাদ করে। জেরায় সে খুনের কথা স্বীকার করার পাশাপাশি লক্ষ্মীর প্রত্যক্ষ যোগের কথা জানায়। এরপরই বৃহস্পতিবার রাতে লক্ষ্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার তাকে কাঁথি মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তদন্তের স্বার্থে পাঁচদিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুলিস জানিয়েছে, লক্ষ্মী তাপসের প্রাক্তন স্ত্রী। তাপসের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় সে তাকে ছেড়ে দীপঙ্করকে বিয়ে করেছিল। অভিযোগ, ইদানিং প্রাক্তন স্বামীর সঙ্গে লক্ষ্মীর যোগাযোগ ও ঘনিষ্ঠতা বাড়ছিল। এনিয়ে দীপঙ্কর ও তাপসের মধ্যে ঝামেলাও শুরু হয়েছিল। ২৫নভেম্বর রাতে বাঁশের বেড়ার দরজা খুলে ঢুকে ছুরি দিয়ে দীপঙ্করের গলার নলি কেটে খুন করে পালায় তাপস। স্বামী খুন হল অথচ পাশে ঘুমিয়ে থাকা লক্ষ্মী টের পেল না? এতেই লক্ষ্মীর ভূমিকা নিয়ে পুলিসের সন্দেহ জাগে। পুলিস সেসময় লক্ষ্মীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। কিন্তু প্রমাণের অভাবে পুলিস তাকে ছেড়ে দিয়েছিল।
Advertisement
তদন্তে নেমে পুলিস জানতে পেরেছে, লক্ষ্মীর সঙ্গে ফের ঘর বাঁধার স্বপ্নে বিভোর ছিল তাপস। দীপঙ্করকে সরিয়ে পথের কাঁটা দূর করতে চেয়েছিল তারা। সেইমতো গভীর রাতে দরজা খুলে ঢুকতে তাপসকে সহযোগিতা করে লক্ষ্মী। তারপর খুন ও প্রমাণ লোপাটের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করে। এরপর স্বামীর মৃতদেহের পাশে লক্ষ্মী শুয়ে পড়ে। ভোর হতেই সে উঠে চিৎকার শুরু করে। পড়শিরা এলে জানায়, তার অজান্তেই নাকি স্বামীকে কেউ খুন করে পালিয়েছে। এগরার এসডিপিও দেবীদয়াল কুণ্ডু বলেন, লক্ষ্মী প্রথম থেকেই পুলিসের সন্দেহের তালিকায় ছিল। বিস্তারিত জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।



