Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পটাশপুর ২ ব্লকে আসবাবপত্র তৈরির কারখানা থেকে ছড়াচ্ছে কাঠের গুঁড়ো, প্রতিবাদে অবরোধ

পটাশপুর ২ ব্লকে আসবাবপত্র তৈরির কারখানা থেকে ছড়াচ্ছে কাঠের গুঁড়ো, প্রতিবাদে অবরোধ
  • ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কাঁথি: আসবাবপত্র তৈরির কারখানার কাঠের গুঁড়ো বাতাসে উড়ছে। এতে এলাকার বাসিন্দাদের অনেকের শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। কখনও বা খাবারে কাঠের গুঁড়ো গিয়ে পড়ছে। সব মিলিয়ে প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছে পটাশপুর-২ ব্লকের পঁচেট পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দাদের। সুরাহার দাবিতে বারবার প্রশাসনকে জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি বলে অভিযোগ। ক্ষুব্ধ এলাকার বাসিন্দারা বৃহস্পতিবার পথে নামলেন। তাঁরা পথ অবরোধ করে তুমুল বিক্ষোভ দেখালেন। এদিন পঁচেটমোড় থেকে পঁচেট যাওয়ার রাস্তায় পদ্মপুকুরের কাছে অবরোধ ও বিক্ষোভ চলে। অবরোধের জেরে বেশ কিছু সময় ওই রাস্তায় যানজট সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট পঁচেট গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুরজিৎ মাইতি অবরোধস্থলে আসেন। তিনি ওই দোকানের মালিক এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার আশ্বাস দেন। তারপরই অবরোধ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।  
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পঁচেট পশ্চিমপাড়া এলাকায় রাস্তার পাশেই একটি কাঠের আসবাবপত্র তৈরির কারখানা ও বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। সেখানে প্রতিদিন কাঠের খাট, পালঙ্ক, আলমারি, চেয়ার প্রভৃতি আসবাবপত্র তৈরি হয়। তৈরি হয় স্টিলের আসবাবপত্রও। 
পাইকারীভাবে বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করা হয়। খুচরো হিসেবেও বিক্রি হয়। সেই কাজে মিস্ত্রি ও শ্রমিক মিলিয়ে ৭০জন নিযুক্ত আছেন। আসববাবপত্র তৈরির জন্য বিকট শব্দ তো হয়ই,  বিশেষ করে কাঠের গুঁড়োয় অতিষ্ট এলাকাবাসী। আবার রাস্তার উপরই আসবাবপত্র ওঠানো-নামানোয়ও যাতায়াতের ক্ষেত্রে সমস্যা হয়। কাছেই রয়েছে স্বাস্থ্যকেন্দ্র, পঞ্চায়েত অফিস, শিশুশিক্ষা কেন্দ্র, ক্লাব। এছাড়াও অনেকগুলি খাবারের দোকানও রয়েছে। পশ্চিমপাড়া এলাকায় বেশ কয়েকটি পরিবারের বাস। স্থানীয় হরিমন্দিরের সামনে খোলা মাঠ রয়েছে। সেখানে শিশু থেকে বৃদ্ধ অনেকেই সময় কাটান। এরকম একটি পরিবেশে কারখানাটি নিয়ে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দা সিন্টু রাউৎ, তৃষ্ণা রাউৎ বলেন, দীর্ঘ দু’বছরের বেশি সময় ধরে আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এর আগে বিডিও, মহকুমা শাসক সহ সংশ্লিষ্ট সমস্ত মহলে জানানো হয়েছে। কাজ হয়নি। তাই আমরা বাধ্য হয়ে পথে নেমেছি। স্থায়ী সমাধান না হলে ফের আমরা আন্দোলনে নামব। প্রধান বলেন, কারখানার মালিককে নিয়ে আগামী ২০ডিসেম্বর আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা প্রশাসনের মধ্যস্থতায় আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। এপ্রসঙ্গে বিডিও শঙ্খ ঘটক বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও কারখানার মালিক অঞ্জন দাস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এখানে কাজ চলছে। বিষয়টি প্রশাসনও জানে। প্রশাসনিক আধিকারিকরা ইতিপূর্বে কারখানাটি দেখে গিয়েছেন। তাঁর দাবি, কাঠের গুঁড়ো উড়ে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, তারজন্য চারদিক ঘিরে দেওয়া হয়েছে। তবে এলাকার বাসিন্দারা প্রতিবাদ করেছেন। আগামীদিনে মানুষের যাতে অসুবিধা না হয়, সেটা আমরা নিশ্চয়ই দেখব।   
সম্পর্কিত সংবাদ