Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পৈতৃক জমি বিবাদের জেরে খুড়তুতো বোনকে বাড়িতে ঢুকে প্রাণে মারার চেষ্টা

পৈতৃক জমি বিবাদের জেরে খুড়তুতো বোনকে বাড়িতে ঢুকে প্রাণে মারার চেষ্টা
  • ৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, শান্তিনিকেতন: পৈতৃক জমি বিবাদের জেরে খুড়তুতো বোনকে বাড়ির ভেতরে ঢুকে প্রাণে মারার চেষ্টার অভিযোগ উঠল জ্যাঠতুতো দাদাদের। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার রাতে শান্তিনিকেতন থানার উত্তর নারায়ণপুর গ্রামে। মারধরে গুরুতর জখম মোহিনী সাহানিকে রাতেই বোলপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসার জন্য। অন্যদিকে মঙ্গলবার তিন মহিলা সহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে শান্তিনিকেতন থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন আক্রান্ত গৃহবধূ। জনবহুল এলাকাতে বাড়ির মধ্যে ঢুকে গৃহবধূ ও তার দেড় বছরের শিশুপুত্রকে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টার ঘটনা জানাজানি হতেই শান্তিনিকেতন জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। 
Advertisement
এই বছরের রাখী পূর্ণিমা উৎসবের দিন এর সূচনা। হুগলি জেলার পাণ্ডুয়া থানার বৈঁচি গ্রামে মোহিনী সাহানির বাপের বাড়ি। সেখানে তাঁদের পৈতৃক বেশ কিছু জমি রয়েছে। তার ভাগ রয়েছে তাঁর কাকা ও জ্যাঠাদের। জানা গিয়েছে, এই জমির ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জ্যাঠা ও কাকাদের পরিবারের সঙ্গে মোহিনী দেবীর পরিবারের বিবাদ চলছিল। গত রাখী পূর্ণিমার দিন ভাইদের রাখী পড়াতে নিজের বাড়ি গিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় জায়গা জমি সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যাপক অশান্তি হয়। অভিযোগ, সেই সময় মোহিনী দেবী ও তার মা সহ ভাইদের ব্যাপকভাবে মারধর করেন জ্যাঠার ছেলে ও পরিবারের সদস্যরা। অশান্তির সেই ভিডিও নিজের মোবাইলে তুলে রেখেছিলেন মোহিনী। সেই ভিডিও ডিলিট করতে হবে এই কথা বলে চাপ দেওয়া হচ্ছিল তাঁকে। কিন্তু ভিডিও ফোনে রেখে দিয়ে নিজের শ্বশুরবাড়ি উত্তর নারায়ণপুরে চলে আসেন তিনি। অভিযোগ, সোমবার রাতে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে বৈঁচি থেকে এসে মোহিনীর জ্যাঠতুতো দাদারা তাঁকে ব্যাপকভাবে মারধর করেন। ভিডিও ডিলিট না করার কারণেই তাঁকে মারধর করা হয় বলে দাবি। আক্রান্ত অবস্থায় তিনি চিৎকার করতে গেলে তাঁর দেড় বছরের শিশুপুত্রকে ধরে রেখে হুমকি দেওয়া হয়। তারপর মদের বোতল, লাঠি দিয়ে মেরে তাঁর মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। সংজ্ঞাহীন অবস্থায় মোহিনী দেবী মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে একটি ঘরের মধ্যে রেখে রান্নাঘর থেকে গ্যাস সিলিন্ডার এনে তা খুলে দেওয়া হয়। এরপর ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে সেখান থেকে পালিয়ে যান তাঁরা। কোনওরকমে পাড়া প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে রাতেই এলাকায় যায় শান্তিনিকেতন থানার পুলিস। অন্যদিকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা করে শান্তিনিকেতন থানায় অভিযোগ দায়ের করেন মোহিনী। জমি বিবাদের জেরে এমন ভয়ানক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায় এলাকায়। ইতিমধ্যেই পুলিস সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। 
আক্রান্ত গৃহবধূ মোহিনী বলেন, রাখির দিন আমাদের মারধর করা হয়েছিল সেই ভিডিও আমার ফোনে ছিল। সেই ভিডিও ডিলিট করার উদ্দেশ্যেই আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করে আমারই সম্পর্কিত দাদারা। তবে শুধু মারধর করা নয়, ওরা আমার বাড়ি থেকে নগদ ১২ হাজার টাকা ও আমার ফোনটি নিয়ে গিয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ