Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পাঠ্যপুস্তকের অপেক্ষায় সাঁওতালি মাধ্যমের পড়ুয়ারা

পাঠ্যপুস্তকের অপেক্ষায় সাঁওতালি মাধ্যমের পড়ুয়ারা
  • ২৩ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: পুরুলিয়া জেলার সাঁওতালি মাধ্যমের উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলিতে একাদশের পড়ুয়ারা কোনও পাঠ্যপুস্তক পায়নি। ফলে বিনা পাঠ্যপুস্তকে সেপ্টেম্বর মাসে ছাত্রছাত্রীরা প্রথম সেমেস্টারের পরীক্ষা দিয়েছে। সেই পরীক্ষার পর দ্বিতীয় সেমেস্টারের পঠনপাঠন শুরু হয়েছে। আর কয়েক মাস পরেই দ্বিতীয় সেমেস্টারের পরীক্ষা। ছাত্রছাত্রীরা একাদশ থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে উঠবে। অথচ এখনও জেলার সাঁওতালি মাধ্যমে একাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা কোনও পাঠ্যপুস্তক পায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে বিদ্যালয়ে কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে ছাত্রছাত্রীরা বিপাকে পড়েছে। অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়গুলির তরফে জেলা প্রশাসনকে বারবার জানানো হলেও কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। পুরুলিয়া জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) মহুয়া বসাক বলেন, এবছর থেকে নতুন পাঠ্যক্রম শুরু হয়েছে। তাই সেক্ষেত্রে কিছু অসুবিধা হয়ে থাকবে। তবে ছাত্রছাত্রীরা এখনও কেন পাঠ্যপুস্তক পায়নি, সেই নিয়ে রাজ্য শিক্ষাদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। বর্তমানে পুরুলিয়া জেলায় পাঁচটি সাঁওতালি মাধ্যমের উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। যার মধ্যে তিনটি সাঁতুড়ি এবং দু’টি কাশীপুর ব্লকে রয়েছে। সাঁতুড়ির কেশরপুর কুশল বাস্কে, টাড়াবাড়ি কবি সারদাপ্রসাদ কিস্কু, খাড়বাড় সাধু রামচাঁদ মুর্মু ও কাশীপুর সোনাইজুড়ি তিলকা মুর্মু বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা একটিও পাঠ্যপুস্তক পায়নি। কেবলমাত্র কাশীপুরের লহাট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা সাঁওতালি ও ইংরেজি দু’টি বিষয়ের পাঠ্যপুস্তক পেয়েছে। বছর শেষ হতে গেলেও পাঠ্যপুস্তক না পাওয়ায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে পাঁচটি বিদ্যালয়ে ৬০জন ছাত্রছাত্রী একাদশ শ্রেণিতে পড়ছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে পঠনপাঠনের জন্য নির্দিষ্ট শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য কোনও অফিস রুম নেই। স্থায়ী শিক্ষক পর্যন্ত নেই। তারপরেও নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে বিদ্যালয়গুলি চলছে। একাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে পরিমল মাণ্ডি, সুশান্ত হেমব্রম বলেন, আমাদের বন্ধু যারা বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করে তারা ভর্তির পরেই বই পেয়ে গিয়েছে। আমরা কোনও বই ছাড়াই প্রথম সেমেস্টারের পরীক্ষা দিয়েছি। আর কয়েক মাস পর একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমেস্টার পরীক্ষা। অথচ দুর্ভাগ্য আমরা এখনও বই পাইনি। এখন কী করব বুঝে উঠতে পারছি না।লহাট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের টিআইসি সদানন্দ হাঁসদা বলেন, বিদ্যালয়গুলিতে নানা প্রতিকূলতা রয়েছে। সেগুলিকে মেনে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু, পাঠ্যপুস্তক না পাওয়ার জন্য ছাত্রছাত্রীরা খুবই সমস্যায় পড়েছে। অসুবিধার কথা ব্লক থেকে জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। কিন্তু, কোনও কাজ হয়নি। কাশীপুরের বিজেপি বিধায়ক কমলাকান্ত হাঁসদা বলেন, বর্তমানে রাজ্য সরকার আদিবাসী সমাজের উন্নয়ন নিয়ে প্রচারের জন্য ব্লকে ব্লকে জয় জোহার মেলা করছে। অথচ শিক্ষাক্ষেত্রে সরকার কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, তা এটাতেই প্রমাণিত। পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সদস্য শিক্ষক কমল মণ্ডল বলেন, অসুবিধার কথা জানার পরেই জেলায় বিষয়টি জানানো হয়েছে। আমরা চাই বিদ্যালয়গুলিতে দ্রুত পাঠ্যপুস্তক আসুক।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ